কীর্তনখোলা নদীর আকস্মিক ভাঙনে বাজার বিলীন

কীর্তনখোলার ভয়াবহ ভাঙণবরিশাল : বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পুবপ্র্রান্ত চরকাউয়া বাজার এলাকায় ফের আকস্মিক ভাঙনের কবলে পড়েছে।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোর থেকেই নদী ভাঙন শুরু হয়। এখনো ভাঙন চলছে। আকস্মিক ভাঙনে এ পর্যন্ত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে অনেক দোকান।

হুমকীর মুখে চরবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের কাযালয়সহ একটি করে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক এবং মাদ্রাসা, ক্লিনিকসহ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী মো. ফারুক মজুমদার জানান, ভোর ৫টার দিকে তিনি দোকান ঘরে ঘুমান্ত অবস্থায় দেখতে পান কম্পন হচ্ছে। তরিগরি করে দোকান থেকে বের হওয়া মাত্রই দেখা যায়। বাজরের একের পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বাজারের ফারুক মজুমদার, হায়দার মজুমদার, রাজ্জাক মজুমদার, আমির হোসেন, হান্নান মজুমদার, পাবেল ব্যাপারী, সাইফুল মজুমদার, পলাশ মজুমদার, সুলতান হাওলাদার, সোহেল মজুমদার, তৈয়ব আলী, নূর আলম, হান্নান আলী, রিয়াজ খান, বশির হাওলাদার, বেল¬াল হোসেন, খাদেরম আলী, আনোয়ার হোসেন, নান্নু মিয়া, রফিকুল ইসলাম, দুলালা মিয়া, কাওছার হোসেন, খলিলুর রহমান, হাবিবুর রহমান, হিরা, আমানত আলী, বাদল মুন্সি ও আবদুর রব হালাদারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে চরকাউয়া বাজারের অর্ধেকেরও বেশী অংশ এখন নদীর গর্ভে।

এদিকে কেউ ভেঙে যাওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আবারও কেউ কেউ নদী গর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চালাছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ করে বলেন, প্রতি বছরই বর্ষার মৌসুম এলে কীর্তনখোলা ভাঙন শুরু হয়ে যায়। এ নিয়ে একাধিকবার ভুক্তভোগীরা আন্দোলন বা নদী ভাঙন প্রতিরোধক ব্যবস্থার দাবি জানালেও পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এ ছাড়া প্রশাসনের লোকজন এসে আশ্বাস দিলেও এর কোনো কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে না।

চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবি বলেন, ভোরে চরকাউয়া খেয়াঘাট ও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বাজার এলাকায় আকস্মিকভাবে ভাঙন দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই খেয়াখাটের পল্টুন, বাজার ও সড়কসহ বিশাল এলাকা নদীগর্ভে দেবে যেতে শুরু করে। এ সময় বাজারের একের পর এক দোকান নদীগর্ভে চলে যায়। চরকাউয়া বাজার এলাকার বিশাল অংশজুড়ে পাকা সড়ক মুহূর্তের মধ্যেই ফাটল ধরে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থান পরিদর্শনে যান বরিশালে সদ্য যোগদানকারী জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান।

তিনি বলেন, নদী ভাঙনিদের এবারে কোন আশ্বাস নয়, সারেজমিনে কাজ করে দেখাতে হবে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে। তিনি আরো বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করার কাজ চলছে, সরকারিভাবে তাদের আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে।

এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে কীর্তনখোলা ভাঙনে উপজেলার চরবাড়িয়ার সড়ক ও বসতবাড়ি বিলীন হচ্ছে। সহায়সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বাস করছে বহু মানুষ। তাদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার বলা হলেও তারা ভাঙন ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

//প্রতিবেদক উপকূল বাংলাদেশ/০৩০৭২০১৫//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য