পর্যটনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে তুলাতলীর চর
- ২২:০৬
- সম্ভাবনার দিগন্ত
- ৩২৭
রাক্ষুসী মেঘনার পানি থই থই করছে চারদিকে। তাতে ভেসে চলেছে পাল তোলা নৌকা, মাছ ধরার ট্রলার, লঞ্চ ও জাহাজ। মাঝখানে তুলাতলীর চর। উপকূলীয় দ্বীপজেলা ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতলী এলাকায় এর অবস্থান। প্রমত্তা মেঘনার বুকে কয়েক মাস আগে জেগে ওঠা নতুন চর। তুলাতলী এলাকায় এর অবস্থান হওয়ায় স্থানীয় লোকজন নাম রেখেছে ‘তুলাতলীর চর’।জেলা শহর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে নতুন জেগে ওঠা এই চর আশা জাগাচ্ছে নতুন পর্যটন কেন্দ্রের। হয়ে উঠছে যেন ‘মেঘনা সৈকত’। তুলাতুলীর সিসি ব্লক বাঁধ থেকে মাত্র ৩০-৪০ হাত দূরের এই মেঘনা সৈকত নজর কাড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের। ইতিমধ্যে বেশ পরিচিতিও পেয়েছে। দিন দিনই বাড়ছে ভিড়। স্থানীয় লোকদের পাশাপাশি নতুন এই চর দেখতে ছুটে আসছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ দূর-দূরান্তের তরুণ-তরুণীরা। বিকেল গড়াতেই স্থানটি পরিণত হচ্ছে মানুষের মিলনমেলায়।
ভোলা সদর থেকে রিকশা কিংবা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় পাকা সড়ক ধরে যেতে হয় তুলাতলী এলাকায়। ওই এলাকার মেঘনার তীরে দাঁড়ালে সহজেই চোখে পড়বে তুলাতলীর চর। সেখান থেকে নৌকায় চরে যেতে সময় লাগে মাত্র পাঁচ মিনিট।
সরেজমিন দেখা যায়, মেঘনার বুকে তুলাতলীর চরের চিকচিকে বালুময় মাটিতে ছোটাছুটি করছে শিশুরা। উচ্ছ্বাস-উচ্ছলতা প্রকাশে পিছিয়ে নেই বয়স্ক নারী-পুরুষরাও। তরুণরা মেতেছে চরের বালুকাবেলায় ফুটবল খেলায়।
বিশাল মেঘনার বিস্তীর্ণ জলরাশি বরাবরই অপূর্ব সৌন্দর্যের আধার। তার মাঝে নববধূর টিপের মতো চর জেগে ওঠায় সেই সৌন্দর্য বেড়ে গেছে অনেকটাই। আর তা ক্যামেরায় ধারণ করে নিচ্ছেন আগত দর্শনার্থীরা। তাঁরা ডিঙি নৌকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন নদীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। আগত সৌন্দর্যপিয়াসীদের মন্তব্য, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তুলাতলীর চর হয়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ ।
অন্য অনেকের মতো তুলাতলীর চরে ঘুরতে এসেছেন ভোলা পৌর শহরের গৃহিণী ফুকারা ও তহমিনা বেগম, ভোলা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মুজিজা রহমান পুণ্য, সাফিয়া রহমান পিয়া ও ইভা, উকিলপাড়ার বাসিন্দা নিকু, শিবলী ও জিতু। তাঁরা জানান, এই চরে দাঁড়িয়ে সকালের রবির আবিরছটা আর বিকেলে হেলেপড়া লাল সূর্য দেখা নতুন এক অভিজ্ঞতা। জায়গাটি সত্যিই চমৎকার।
রাক্ষুসী মেঘনার ভয়াবহ ভাঙনে সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকেন নদীতীরের মানুষ। আজ তারা স্বপ্ন দেখছে, তুলাতলীর চর একদিন হয়ে উঠবে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। স্থানীয় শাহে আলম কয়েক দিন ধরে নৌকায় মানুষ পারাপার করছেন। দিয়ে আয় হচ্ছে তিন থেকে চার শ টাকা। তিনি বলেন, ‘এখানে দিন দিনই মানুষের ভিড় বাড়ছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ আসছে।’
ভোলার জেলা প্রশাসক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান সমপ্রতি জাটকা নিধন রোধে অভিযানে নেমে তুলাতলীর চরে সব বয়সী মানুষের এমন বিচরণ দেখে অবাক হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে নতুন করে যে চর জেগেছে তা জানা ছিল না।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন জানান, তুলাতলীর সিসি ব্লক বাঁধ ১২ বছর ধরেই পর্যটন কেন্দ হিসেবে চিহ্নিত। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে তুলাতলীর চর। এতে এই এলাকায় পর্যটনের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে গেছে।
ভোলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে মেঘনার তীর সংরক্ষণ কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে জেলা শহর আতঙ্কমুক্ত হবে। আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে মেঘনার পাড় ও তুলাতলীর চর।
