উপকূল এবারের বাজেটেও উপেক্ষিত!

উপকূল মানচিত্রঢাকা: উপকূল উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব আছে। ২০০৫ সালে ব্যাপক আয়োজনের মধ্যদিয়ে প্রণীত হয়েছে ‘কোস্টাল জোন পলিসি’। ওই সময় চিহ্নিত হয়েছে উপকূলের অগ্রাধিকার খাতগুলো। সমন্বিত কোস্টাল উন্নয়ন কৌশলও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যেক বাজেটেই উপকূল অঞ্চল অবহেলিত থেকে যায়। এবারের বিশাল বাজেটেও চর উন্নয়নে কিছু বরাদ্দ ছাড়া সামগ্রিকভাবে উপকূল অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে বিশেষ কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা নেই।

বৃহস্পতিবার (৪ মে) বিকেলে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে চর এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে ২০হাজার হেক্টর জমি পুনরুদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। এই জমিতে ১৬হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

মন্ত্রী বলেন, ‘চর এলাকায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য গত বছরের বরাদ্দ অব্যবহৃত থাকা সত্ত্বেও এবারেও ৫০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করছি।’ মন্ত্রী তার উত্থাপিত বাজেটে সমন্বিত গঙ্গার পানি এবং উপকূল অঞ্চল ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘গঙ্গা নদীর ওপর ব্যারেজ নির্মাণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ চলমান আছে। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সার্বিক ও সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যে উপকূলীয় উন্নয়ন কৌশল ও অগ্রাধিকার ভিত্তিক বিনিয়োগ কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে।

এর আলোকে গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ১হাজার ৯কোটি টাকা ব্যয়ে ১১১টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী বছরেও এই তহবিলে ১০০কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে বৈদেশিক সহায়তা নির্ভর ক্লাইমেট চেইঞ্জ রেজিলিয়েন্ট তহবিলকে আরো জোরদার ও গতিশীল করা হবে আমাদের প্রধান উদ্যোগ।’

এর বাইরে বিশেষভাবে উপকূল অঞ্চলের জন্য বিশেষ কোন প্রকল্পের কথা বাজেটে নেই। হয়তো জাতীয় পর্যায়ে গৃহিত বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগী হিসাবে উপকূলের কিছু মানুষ অন্তর্ভূক্ত হবে। কিন্তু সেটা কোনভাবেই যথেষ্ট নয়। তাছাড়া বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, জাতীয় পর্যায়ের সুবিধাগুলো উপকূলের প্রান্তিক জনপদে সেভাবে পৌঁছায় না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষিসহ অন্যান্য খাতের স্বাভাবিক বরাদ্দের সুবিধা উপকূলের খুব কম মানুষের ভাগ্যেই জোটে। সে কারণেই উপকূলবাসীর সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প গ্রহনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

পশ্চিমে সাতক্ষীরা থেকে শুরু করে পূর্বে কক্সবাজারের টেকনাফ পর্যন্ত ৭১০ কিলোমিটার তটরেখায় জড়িয়ে আছে হাজারো সমস্যা। পিছিয়ে থাকা এই অঞ্চলের মানুষের সমস্যার শেষ নেই। বহুমূখী প্রাকৃতিক দুর্যোগ এ অঞ্চলের মানুষকে ক্রমাগত পিছিয়ে রাখছে। দুর্যোগের কারণে আর্থ-সামাজিকভাবেও তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। কিন্তু এই ক্ষতির তূলনায় এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তার পরিমাণ একেবারেই কম। অন্যদিকে উপকূলে স্বাভাবিকভাবে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, তাতেও রয়েছে নানা ধরণের ঘাপলা।

উপকূলের মানুষ সরকারের সুনজর চায়, স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে চায়। সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নিজেদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে চায় উপকূলবাসী। সেইসঙ্গে বিশেষ প্রকল্পের প্রত্যাশা তাদের। আর তাইতো প্রতিবছর বাজেটের দিকে তাকিয়ে থাকেন এই প্রান্তিকের পিছিয়ে থাকা মানুষেরা।

//সম্পাদকীয়/উপকূল বাংলাদেশ/০৫০৫২০১৫//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য