ধান-নদী-খাল এই তিনে বরিশাল

পদ্মা-মেঘনার শাখা প্রশাখা বিধৌত এ বরিশাল জেলা। ১৯৯৩ সালে পহেলা জানুয়ারি বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালী জেলার সমন্বয়ে বরিশাল বিভাগ গঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ এবং মেঘনা নদী, নদী বন্দর, কৃষি উনড়বয়ন ও নগর সংস্কৃতির কারণে বরিশাল জেলা এ বিভাগের কেন্দ্রবিন্দু

150983141_ce07cdaeff.jpgবাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীরে বরিশাল জেলা অবস্থিত। বরিশালের উত্তরে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও চাঁদপুর, পূর্বে লক্ষ্মীপুর ও ভোলা, পশ্চিমে ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও গোপালগঞ্জ এবং দক্ষিণে পটুয়াখালী ও ঝালকাঠি জেলা। পদ্মা-মেঘনার শাখা প্রশাখা বিধৌত এ বরিশাল জেলা। ১৯৯৩ সালে পহেলা জানুয়ারি বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালী জেলার সমন্বয়ে বরিশাল বিভাগ গঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ এবং মেঘনা নদী, নদী বন্দর, কৃষি উনড়বয়ন ও নগর সংস্কৃতির কারণে বরিশাল জেলা এ বিভাগের কেন্দ্রবিন্দু। জেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য নগরায়ণ। একযোগে সড়ক, নৌ ও আকাশপথ, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, পয়ঃ ও পানি সুবিধাসহ শিক্ষা, ব্যবসাবাণিজ্যের বিকাশ বরিশালের নগরায়ণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। বর্তমানে বরিশাল শহর দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে একটি ।

এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদটির পর্যায়্ক্রমিক উন্নয়ন বা বিকাশের সুদীর্ঘ ইতিহাস আছে। বরিশালের আদি নাম চন্দ্রদ্বীপ। চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল বাকলা। চতুর্দশ শতকে রাজা দনুজমর্দন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

উল্লেখ্য, সুগন্ধা নদীর তীরে প্রাচীন বাকলা-চন্দ্রদ্বীপের সভ্যতা ও সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। মোঘল আমলে সুবে বাংলার একটি সমৃদ্ধশালী সরকার হিসেবে বাকলার পরিচিতি ছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগের প্রবাদ পুরুষ আগা বাকের এর নামানুসারে তৎকালীন বাকলা চন্দ্রদ্বীপের নামকরণ করা হয় বাকেরগঞ্জ। আগা বাকের সেই সময়ে বাকেরগঞ্জ জেলার বুজুর্গ উমেদপুর ও সেলিমাবাদ পরগনার একজন প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন এবং নবাব আলী বর্দী খাঁ (১৭৪০-৫৬) -র শাসনামলে চট্টগ্রামের ফৌজদার ছিলেন। তিনিই সর্ব প্রম বুজুর্গ উমেদপুরে জমিদারীর গোড়াপত্তন করেন বলে এ এলাকার নাম হয়ে যায় বাকেরগঞ্জ।

পরবর্তীতে ১৭৯৭ সালে ঢাকার দক্ষিণের দূরবর্তী অঞ্চল নিয়ে একটি পৃক জেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যার সদর দফতর হিসেবে বাকেরগঞ্জ প্রতিষ্ঠা পায়। অর্থাৎ, বাকলা চন্দ্রদ্বীপ জেলা সেই সময়ে সদর দফতর থেকে বাকেরগঞ্জ নামটি ধারণ করে। পরবর্তীতে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত বাকেরগঞ্জ ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত ছিল ।

জেলার মোট আয়তন ২,৭৯০ বর্গ কি.মি., যা সমগ্র দেশের আয়তনের ২%। আয়তনের দিক থেকে বরিশাল বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ২০তম স্থানে। ছয়টি বিভাগীয় জেলার মধ্যে এটি ৩য় স্থানে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের ১৯টি জেলার মধ্যে ৮ম স্থানে রয়েছে। সিটি করপোরেশন, ১০টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা, ৮৬টি ইউনিয়ন, ৬৬টি ওয়ার্ড, ১,২৫৭টি মৌজা/মহল্লা ও ১,১৭৭টি গ্রাম নিয়ে বরিশাল জেলা। ৩০টি ওয়ার্ড ও ৫০টি মহল্লা নিয়ে বরিশাল শহর গঠিত। এর আয়তন ১৬ বর্গ কি.মি. । ১৯৫৭ সালে বরিশাল পৌরসভা গঠিত হয় এবং ২০০০ সালে তা সিটি করপোরেশনে উনিড়বত হয়। জেলায় তিনটি ডাকবাংলো ও ৬টি পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে।

আগৈলঝাড়া, বাবুগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া, গৌরনদী, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, মূলাদী, বরিশাল সদর ও উজিরপুর হল বরিশাল জেলার দশটি উপজেলা। যার মধ্যে আয়তনের দিক থেকে হিজলা সবচেয়ে বড় (২০০ বর্গ কি.মি.), যা জেলার মোট আয়তনের ১৯% এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং সবচেয়ে ছোট উপজেলা বানারীপাড়া (৫২ বর্গ কি.মি.) যেটি জেলার মোট আয়তেনের মাত্র ৫% জুড়ে বিস্তৃত।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমিভিত্তিক সীমা নির্ধারণের জন্য তিনটি সূচক বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে জোয়ার-ভাটার প্রভাব, লোনা পানির অনুপ্রবেশ এবং ঘূর্ণিঝড়/জলোচ্ছ্বাস। এর ভিত্তিতে এর ভিত্তিতে বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলাই অন্তর্বতী উপকূলীয় এলাকায় পড়েছে।

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য