২০১৬ সাল পর্যটন বর্ষ, কক্সবাজারে প্রস্তুতি শুরু

কক্সবাজারের দরিয়ানগরকক্সবাজার : পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সাথে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তকর্তাদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়েছে। সভায় পর্যটক বৃদ্ধি ও আকর্ষণ করার জন্য কক্সবাজার জেলাকে উন্নয়নের পাশাপাশি জেলার ঐতিহ্য ধরে রাখার মতামত প্রকাশ ও পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়।

সম্প্রতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা’র সভাপতিত্বে  অনুষ্টিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিতরা বলেন, কক্সবাজারে দেশি বিদেশি আগত পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও পর্যটক বৃদ্ধি করার জন্য জেলার ঐতিহ্য পর্যটন স্পট গুলো চিহিৃত করতে হবে। এতে হেরে যাওয়া পর্যটন স্পট গুলো পূর্ণরায় ফিরে পেয়ে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ানো যাবে। জেলার প্রায় ২৫ টি চিহিৃত ঐতিহ্য পর্যটন স্পট রক্ষণাবেক্ষণ করে বিভিন্ন হোটেল ও গুরুত্ব পূণ জায়গায় প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে। এক্ষেত্রে অস্থিত হারানো কানা রাজার গুহাটি ভরাট হওয়া মাটি খনন করে ঐতিহ্য রক্ষা করতে হবে।

পর্যটকদের মনযোগ বাড়াতে বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে একটি শিশু পার্কও। কক্সবাজারে কোথাও কোন শিশু পার্ক না থাকায় আগত পর্যটকরা বিমূখ হচ্ছে বলে মতামতে উঠে আসে। পর্যটকরা নিরাপদ যাতায়তের সু ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে টমটমের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি যত্রঅত্র হকার ও বিক্ষুক রোধ করতে হবে পর্যটন এলাকা থেকে। বিভিন্ন কাউন্টার ও রাস্তার মোড়ে  উৎপেতে থাকা দালাল মুক্ত করাও খুব জরুরি পর্যটন এলাকায়।

মানুষের চিন্তাধারা বদলানোর কথা উল্লেখ করে উপস্থিতরা বলেন, আগত পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও ভ্রমণের সূচি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন নদীর মোহনায় ছোট ছোট জাহাজ রাখা যায়। ওই সব জাহাজ দিয়ে দেশ বিদেশি পর্যটকরা সমুদ্র পথে সোনাদিয়াসহ মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির ঘুরে আসতে পারবে। এতে মনোরম পরিবেশে সুন্দর যাত্রা উপভোগ করতে পারবে পর্যটকরা। তাদের কাছে প্রচার হবে সুন্দর ভ্রমণ ও নিরাপত্তার সার্বিক ব্যবস্থা। পুরো বছর পর্যটন বর্ষ উদযাপন লক্ষ্যে পর্যটন শহরকে হরতালের আওতা মুক্ত রাখার দাবীও উঠে উক্ত বৈঠকে। কক্সবাজার সৈকতের প্রদর্শন বাড়তে দখল হওয়া বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করে সুন্দর ও আকর্ষণীয় বিলবোর্ড স্থাপন করা যেতে পারে। পর্যটকদের সুবিধার্থে হোটেলের রুম ভাড়া আরো কমিয়ে রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশনে আরোও সুস্বাদু হওয়া দরকার মনে করেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

সব সময় নালা নর্দমা পরিস্কার করে দুগন্ধ মুক্ত রাখার পাশাপাশি যাতায়তের সড়ক গুলোর বেহাল দশা থেকে মুক্ত করতে হবে কক্সবাজারকে। আইন শৃংখলা পরিস্থিত স্বাভাবিক রাখতে ও পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি পুলিশের বিশেষ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। পর্যটন এলাকার ছুরি ছিনতাই রোধ করতে নগরীর আশাপাশে গড়ে উঠা অবৈধ ঝুঁপড়ি গুলো উচ্ছেদ করার প্রয়োজনও রয়েছে। এতে পর্যটক বৃদ্ধির পাশাপাশি সৌন্দর্য্য ফিরে আসবে কক্সবাজারের।

মওসুম ভিত্তিক পর্যটক নয়, সারা বছর পর্যটক সমাগম গড়াতে পর্যটক সংশ্লিষ্টদের ব্যবহার ও উদারতার ভূমিকাও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। সর্ব স্তরের পর্যটক বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনেও পর্যটক বৃদ্ধিতে ভূমিকা রয়েছে। অসাংস্কৃতি বাদ দিয়ে দেশি বিদেশি, উপজাতি, লোকজ, পল্লীগীতিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতি আয়োজনের মধ্যেই পর্যটকের আকর্ষণ বাড়ানো যায়।

কক্সবাজারের সাগর দেখতে দেখতে পর্যটকদের অনীহা চলে আসে উল্লেখ করে সভায় বলা হয়, পর্যটকদের আনন্দ ও সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখতে বিনোদনের কোন বিকল্প নেই। বিনোদনের ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের সহযোগিতার পাশাপাশি পর্যটন সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া যাতায়তের সহজ মাধ্যম হিসেবে রেল পথেরও বিকল্প রয়েছে। কমাতে হবে বিমান ভাড়াও।

ইতিমধ্যে কক্সবাজার পর্যটন শিল্প উন্নয়নে অনেক বার পদক্ষেপ নেয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি উল্লেখ করে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. আহমদ হোসেন বলেন, কক্সবাজার পর্যটন কর্পোরেশন কোন কাজে আসছে না। এটি বাতিল করে পর্যটন কমিটি গঠন করতে হবে। এতে পর্যটন শহর কক্সবাজার আরো এগিয়ে যাবে।

রাতের ভ্রমনে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়তে লাইটিংয়ের ব্যবস্থাও করা জরুরি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে কি কর্মসূচি আমরা হাতে নেব, কি বাস্তবায়ন করবো এই লক্ষ্যে আমাদের থাকবে হবে। আমরা এসে বক্তব্যে দিলে হবে না, জেলা প্রশাসককে পদক্ষেপ নিতে হবে।

উক্ত মতবিনিময় সভায়, ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে কক্সবাজারকে ট্যুরিজম টার্গেট করতে হবে। কক্সবাজার পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল উপল ও প্রবাল উন্নতি করতে হবে। বছরে ২ টি বীচ কার্নিভাল্ট করা, বালির ভার্স্কয্য স্থাপন করে গ্রীনেজ বুকে স্থান করে নেওয়া, বিদেশি পর্যটকের আকর্ষণ বাড়াতে সী-ট্রাক, ওয়াটার প্লান ও মেইন রোড়ের পাশে ওয়েলকাম তরুন সাইন বোর্ড স্থাপনসহ পর্যটক আকর্ষণ ও বৃদ্ধি বাড়াতে নানান ধরণের পদক্ষেপ ও সুপারিশ গ্রহন করা হয়।

//আরফাতুল মজিদ/উপকূল বাংলাদেশ/কক্সবাজার/০৫০৫২০১৫//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য