সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে প্রাচ্যের ভেনিস বরিশাল

বরিশালের নান্দনিক স্থাপনাগুলোর একটিবরিশাল : সৌন্দর্য হারাতে বসেছে বরিশাল নগরী। দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাগুলো দিনে দিনে নোংরা হয়ে যাচ্ছে। সড়কের পাশে বসার বেঞ্চের নাম-নিশানা পর্যন্ত নেই। সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য ঝুপড়ি ঘর। দখলবাজদের কারণে প্রশস্ত সড়ক সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। নগরীর প্রাণকেন্দ্র বিবির পুকুরের ফোয়ারার আলোকসজ্জা এখন রাতের অন্ধকারে জ্বলে উঠে না। পুকুরকে ঘিরে তৈরি করা সৌন্দর্য বাতির সিংহভাগই বিকল হয়ে পড়ে আছে। পুকুরের পানিও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।অথচ এই বিবির পুকুরের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য সাবেক দুই মেয়রের আমলে কয়েক কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।

বিশেষ করে প্রয়াত শওকত হোসেন হিরনের আমলে বিবির পুকুরকে অত্যাধুনিক রূপ দেয়া হয়েছিল। পুকুরের আশ-পাশের অবৈধ স্টল ও মার্কেট ভেঙ্গে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। পুকুরের পানি বিশুদ্ধ রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। পুকুরের মাঝে ফোয়ারা ও দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা নগরবাসীর পাশাপাশি পর্যটকদের মুগ্ধ করতো। এর পাশেই নির্মাণ করা হয় পাবলিক স্কয়ার। বিকালে পুকুরের চারপাশে অসংখ্য তরুণ-তরুণী ভিড় করতো। চলতো গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা। সেই ফোয়ারার আলো ঝলমলে পরিবেশ তো দূরের কথা পুকুরের পানিই নষ্ট হয়ে গেছে।

ভ্রমণপিপাসু মানুষের আরো একটি প্রিয় জায়গা ছিল কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী শহর রক্ষা বাঁধ। লঞ্চঘাট থেকে শুরু করে চরকাউয়া খেয়াঘাট, ফেরিঘাট ও মুক্তিযোদ্ধা পার্ক হয়ে চাঁদমারী পর্যন্ত দীর্ঘ কয়েক কিলোমিটার এ বাঁধের উপর হাঁটার সুবিধার্থে টাইলস লাগানো হয়েছিল। বাঁধের উপর বেঞ্চ ও ছাতা বসানো হয়েছিল। সার্বক্ষণিক সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা এসব ধুয়েমুছে রাখতো। বিকাল হলেই মানুষজন হাঁটতে আসত বাঁধের উপর। কেউ কেউ নৌকা ভাড়া করে ভ্রমণ করতো কীর্তনখোলায়।

দু’বছর আগের নদীর এমন সুন্দর পরিবেশ রাতারাতি বদলে যায়। যে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে চরকাউয়া ফেরিঘাট থেকে লঞ্চঘাট পর্যন্ত সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছিল সেসব স্থাপনা ফের গড়ে উঠেছে। এমনকি মূল সড়ক দখল করে শত শত ঝুপড়ি ঘর তৈরি করা হয়েছে। সেখানে এখন পান, বিড়ি সিগারেট ও চায়ের দোকান বসানো হয়েছে। রাতের অন্ধকারে এ সব দোকানে বিক্রি হয় মাদকদ্রব্য।

এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, শহর রক্ষা বাঁধের জায়গা বিআইডব্লিউটিএ’সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের আর সড়ক নির্মাণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সিটি করপোরেশন শুধু সৌন্দর্য বর্ধনসহ কিছু কাজের তদারকি করেছে। তবুও এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বিআইডব্লিউটিএ’কে তালিকা করতে বলা হয়েছে। আর সিটি করপোরেশনের জমিতে যেসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলো উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল বলেন, তিনি নিজে উপস্থিত থেকে কয়েকটি এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নগর ভবনের জমি দখলমুক্ত করেছেন।

//ডেস্ক উপকূল বাংলাদেশ/১৯০৬২০১৫//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য