ধান ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত, কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত
- ২২:১৪
- ঘটনাপ্রবাহ, প্রধান প্রতিবেদন, সর্বশেষ
- ২২৩
মিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া।। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধান ব্যবসায়ীদের এখন মাথায় হাত। টানা অবরোধে হাজার হাজার মন ধান অবিক্রিত অবস্থায় গোডাউনসহ ও বিভিন্ন ধানের বাজারে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। গত দুই/তিন সপ্তাহ ধরে এভাবে কোটি কোটি টাকার ধান আটকা পড়ায় সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছে ব্যবসায়ীরা। অবরোধ প্রত্যাহার হলে ধানের বাজার ঠিক থাকবে কিনা তা নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন।
সরেজমিনে কলাপাড়ার বিভিন্ন ধানের বাজার ঘুরে দেখা যায়, হাজার হাজার মন ধান অবিক্রিত অবস্থায় বিভিন্ন ষ্টেশনে জমা হয়ে আছে। বালিয়াতলীর ধান ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, বর্তমানে বালিয়াতলী ষ্টেশনে প্রায় ছয় হাজার বস্তা ধান আটকা পড়েছে। অবরোধের কারনে এ ধান মোকামে পাঠাতে পারছেন না। প্রতিমন ধান ৬৭০/৭০০ টাকা দরে কেনা। তার আশংকা অবরোধ উঠে গেলে সারা দেশের ধান এক সাথে মোকামে যাবে। এতে ধানের ক্রয় মূল্য তারা পাবেন কিনা এ নিয়ে শংকিত।
নিশাণবাড়িয়া এলাকার ধান ব্যবসায়ী সুলতান মিয়া জানান, গত সপ্তাদে প্রায় চার হাজার মন ধান কিনেছেন। কিন্তু গত পাঁচদিনে একমন ধানও বিক্রি করতে পারেন নি। একই কথা জানালেন বাবলাতলা বাজারের ব্যবসায়ী জামাল হোসেন। তিনি জানান, এই সপ্তাতে তিনি দশ হাজার মন ধান কিনেছেন। ক্রয়কৃত ধান ট্রলার ভাড়া করে মোকামে পাঠালেও অবরোধের কারনে মাল খালাস করতে পারেনি। এ কারনে তাকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ট্রলার ভাড়া। এতে প্রতিমন ধানে ১৫/২০ টাকা অতিরিক্ত খরচ। তার আশংকা এখন সে ক্রয় মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারবেন কিনা।
মেসার্স জাকির রাইচ মিলের মালিক মোশারফ হোসেন মিন্টু জানান, তার মিলে প্রায় শতশত মন ধান জমা আছে। কিন্তু পরিবহন সংকটে এই ধান পাঠাতে পারছেন না। তিনি জানান, এখন ব্যবসায়ীরা ধান বিক্রি করতে না পেরে বয়লারে পাঠাচ্ছে চাল করার জন্য। সেখানেও ধানের স্তুপ প্রতিদিনই বাড়ছে। বয়লার শ্রমিকরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। কিন্তু পরিবহন সংকটের কারনে সেই চালও খালাস হচ্ছে না। এতে প্রতিটি মিলেই এখন বস্তাজট শুরু হয়েছে।
একাধিক ধান ব্যবসায়ী জানান, আজ মঙ্গলবার কলাপাড়া ধান বাজারে প্রতিমন ধান ৬৭০-৬৮০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। কিন্তু পাশ্ববর্তী গলাচিপা ও আমতলী বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়। ধান ব্যবসায়ীরা তাদের ক্রয়কৃত ধান মোকামে পাঠাতে না পেরে সিন্ডিকেট করে ধানের বাজার কমিয়ে রাখছে। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সাধারন কৃষক।
