কলাপাড়ায় সরকারি পূনর্বাসন প্রক্রিয়া ভেস্তে যেতে বসেছে
- ২৩:৪১
- ঘটনাপ্রবাহ, প্রধান প্রতিবেদন, সর্বশেষ
- ২১৮
মিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া।। একশ পরিবারের জন্য নির্মিত ঘরে আছে মাত্র নয় পরিবার। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার চম্পাপুর ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া আবাসন কেন্দ্রের চিত্র এটি। ছিন্নমূল ও গৃহহারা মানুষকে পূনর্বাসনের জন্য প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে এ আবাসন কেন্দ্র নির্মান করলেও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সদিচ্ছার অভাবে সরকারের পূনর্বাসন প্রক্রিয়া ভেস্তে যেতে বসেছে।
কলাপাড়ায় নদীভাঙ্গন ও প্রাকৃতিক দূর্যোগে গৃহহারা ও নিঃস্ব হাজার হাজার পরিবার এখনও বেড়িবাঁধের উপর, রাস্তার পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছে। কিন্তু আবাসন কেন্দ্রগুলো এখন ব্যবহার হচ্ছে গরু-ছাগলের খোয়ার ঘর হিসেবে।
সরেজমিনে চালিতাবুনিয়া আবাসন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, চার বছর আগে নির্মিত এ আবাসনের ৯১ টি ঘর এখন শূন্য। আবাসনের ১০ টি ব্যারাকের আটতিতেই কোন পরিবার নেই। ওই ব্যারাকগুলোতে এখন ভুতুড়ে পরিবেশ। ব্যারাকের দড়জা, জানালা ভেঙ্গে গেছে। স্থানীয় গ্রাসবাসীরা ওই খালি ঘরগুলোতে ধান, কুটা এনে জড়ো করেছে। কোন কোন ঘরের বেড়া, লোহার এঙ্গেল খুলে বিক্রি করে দিয়েছে স্থানীয়রা।
আবাসনের এক নং ব্যারাকের দুইনং ঘরে বাসিন্দা মাজেদা বগম জানায়, এই হ্যানে রাইতে থাকতে ভয় করে। সব ঘর খালি। দিনের ব্যালায়ও এইহানে কেউ আয় না। একটা ব্যরাকে মুই একলা থাহি গত চাইর বছর ধইর্যা। আগে অনেক মানুষ আছিল। কিন্তু এইহানে কোন কামকাইজ না থাহায় হ্যারা ঘর ছাইর্যা চইল্লা গ্যাছে।
পাঁচনং ব্যারাকের দুইনং ঘরের রাহিমা বেহম জানায়, মুই এইহানে একলা থাহি। দ্যাহেন না ঘরগুলা সব খালি। মাইনষে ধান, কুডা রাহে এ্যাহন। কেউ এইহানে বেশিদিন থাকতে চায়না।
চালিতাবুনিয়া গ্রামের ননী জানায়, নদীভাঙ্গনে নিঃস্ব ইউনিয়নে শতশত মানুষ এখনও খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। কিন্তুু তাদের এখানে থাকার কোন ব্যবস্থা করা হচ্ছেনা। রাতের বেলা এই খালি ঘরে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান। তাদের দাবি সরকার গৃহহারা মানুষের জন্য এ আবাসন কেন্দ্র করলেও তাদের এখানে থাকার কোন ব্যবস্থা করা হচ্ছেনা।
ইউপি চেয়ারম্যান রিন্টু তালুকদার জানান, ইউনিয়নে গৃহহারা মানুষের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যারা একেবারে নিঃস্ব তাদের আবাসন কন্দ্রে স্থায়ী থাকার ব্যবস্থা করা হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আবাসন কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে গৃহহারা মানুষের জন্য। স্থানীয় চেয়ারম্যান গৃহহারা মানুষের তালিকা তৈরি করে পাঠালে তা জেলা প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে ওই নিঃস্ব পরিবারকে আবাসন কেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। তবে অন্য এলাকার মানুষ এখানে থাকতে পারবেন না।
