তথ্য-প্রযুক্তিতে নারীদের এগিয়ে নিচ্ছেন আইরিন
- ০০:৩১
- উপকূল সংবাদ, তথ্য-প্রযুক্তি, নারী ও শিশু, পূর্ব-উপকূল, প্রধান প্রতিবেদন, লক্ষীপুর জেলা, শীর্ষ সংবাদ, সর্বশেষ, সুসংবাদ
- ৪৬৯
লক্ষ্মীপুর : যেখানে নারীদের পিছিয়ে থাকতে হতো। অন্যের প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করে শিকার মজুরি বৈষম্যর শিকার হতে হত। সেখানে আজ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এগোচ্ছেন নারীরা। তথ্য-প্রযুক্তির আলো হাতে নিয়ে নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন লক্ষ্মীপুরের এক নারী। নাম তার আইরিন সুলতানা।
কম্পিউটার তথ্য-প্রযুক্তিতে বিষয়ে নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়েও আত্মনির্ভশীল করার কথা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন লক্ষ্মীপুরের এগিয়ে যাওয়া নারী আইরিন। আর তার প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে গত কয়েক বছরে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন শতাধিক নারী ।
লক্ষ্মীপুরে স্থাপিত আইরিন কম্পিউটার এন্ড ট্রেনিং সেন্টারের সত্ত্বাধিকারী আইরিন সুলতানা। নারীদের তথ্য প্রযুক্তিতে এগিয়ে নিতে অবিরাম চেষ্টা তার। এজন্য ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যেগ নেন। তার এই প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে ২০১২ সালে। লক্ষ্মীপুরের ঝুমুর এলাকায় মজু মার্কেটে কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেন।
এর আগে তিনি ২০১০ শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন ইনঞ্জিনিয়ারিং কম্পিউটার বিভাগ থেকে পড়াশুনা শেষ করেন। সেই থেকেই তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার ও ডিজিটাল বাংলাদেশে গড়তে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা তার। এ লক্ষ্যে নারীদের উদ্বুদ্ধ ও আত্মনির্ভশীল করার পদক্ষেপ নেন আইরিন। নিজের মালিকানায় প্রশিক্ষণ সেন্টার চালুর মাধ্যমেই তার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়। তার প্রশিক্ষণ সেন্টারে বিনামূল্যে শেখার ব্যবস্থা করেন নারীদের। কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে ফ্রি ব্যবস্থা থাকায় তখন নারীরা উদ্বুদ্ধ হন তার ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হতে।
শিক্ষার্থী দীপা রানী পাল জানান, আমি কৃতজ্ঞ আইরিন ম্যাডামের নিকট। তার প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার শিখতে পেরে আজ আমি চাকুরিজীবী। আমার মত এ প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি শিখে অর্ধ শত নারী শিক্ষার্থী সরকারি বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন কর্মজীবী। তিনি এখন আমারসহ সকল নারীদের মুখে আইরিন ম্যাডাম, আইরিন স্যার।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাঞ্চানগর গ্রামের আলী আকবর এর ছোট মেয়ে হলেও নারীদের নিয়ে বড় স্বপ্ন আইরিন সুলতানার। ২০১১ সালে বিয়ে হয় তার। বিয়ের পর যেখানে প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী নারীদের থেমে যাওয়ার কথা থাকলেও আইরিনের বেলায় ঘটেছে উল্টো। এদিকে স্বামীর সংসার, অন্যদিকে প্রশিক্ষণ সেন্টার। সংসারের সব কাজ সেরে সময় দেন নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘‘আইরিন কম্পিউটার এন্ড ট্রেনিং সেন্টারে’’।
আইরিন যখন নারীদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে নারীদের প্রতিষ্ঠা করার চিন্তা করেন, তখন তার উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়ান স্বামী মাহবুবে রহমান। তিনি মনে করেন, বাধা না দিয়ে নারীদের উন্নয়নে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করাটা জরুরি।
লক্ষ্মীপুর শহরের ঝুমুর এলাকায় মজু মার্কেটে আইরিন পরিচালিত ‘‘আইরিন কম্পিউটার এন্ড ট্রেনিং সেন্টারটি’’ ইতোমধ্যেই নারীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এই ট্রেনিং সেন্টারে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও ল্যাপটপের মাধ্যমে নারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। সপ্তাহে ছয়দিন প্রশিক্ষণ দেয়া হয় ।
নারী প্রশিক্ষণে এই ধরনের ব্যবস্থা লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রথম বলে জানান এ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আইরিন সুলতানা । তিনি বলেন, এই কাজে স্বামী ও তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের কোন বাঁধা ছিল না। তাদের কাছ থেকে উৎসাহিত হয়ে নারী সমাজকে আরো এগিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেই। তবে তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে আরও বিশেষ প্রশিক্ষণ চালু করতে দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
আইরিন সুলতানা বলেন, নারীদের ঘরে বসে না থেকে কাজে নামতে হবে। এতে আত্মনির্ভর হওয়ার পাশাপাশি সমাজের কাছে নারীর মর্যাদাও অনেক বাড়ে।
‘‘আইরিন কম্পিউটার এন্ড ট্রেনিং সেন্টারের’’ স্বত্বাধিকারী আইরিন সুলতানার স্বামী মাহাবুবের রহমান বলেন, শিক্ষা জীবনে আমারও স্বপ্ন ছিল নারী উন্নয়নে কাজ করার। তথ্য প্রযুক্তির যুগে সমাজে নারীদের এগিয়ে নিতে আইরিন যে কাজ করছে, তা প্রশংসনীয়। এ ধরণের কাজে সবারউৎসাহ দেয়া উচিত। সূত্র :লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর.কম
//ডেস্ক উপকূল বাংলাদেশ/০১০৪২০১৫//
