বরগুনায় দুহাজার হতদরিদ্র পরিবার স্বাবলম্বী

4_38638.jpgআনোয়ার হোসেন মনোয়ার, বরগুনা।। বরগুনার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের গুদিঘাটা গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের গৃহবধূ হ্যাপী বেগম (৩৪)। দিনমজুর স্বামীর অভাবী সংসারে ছোট দুই শিশু সন্তান নিয়ে অপুষ্টিজনিত রোগে-শোকে এক সময় মুমূর্ষু হয়ে পড়েছিলেন হ্যাপী বেগম। কখনও গ্রামীণ সড়ক মেরামতের কাজ, কখনওবা এ বাড়ি-ও বাড়ি ঝিয়ের কাজ করে খেয়ে না খেয়েই চলত তাদের দিন। ঝড়-বৃষ্টি আর অসুস্থতার কারণে যেদিন কাজে যাওয়া হতো না সেদিন না খেয়েই উপোস থাকতে হতো সবার। আত্মবিশ্বাস আর পরিশ্রমের সমন্বয়ে সেই হ্যাপী বেগম এখন জয় করেছেন দারিদ্র্যকে। তিনি এখন আর ঝিয়ের কাজ করেন না। স্থানীয় একটি এনজিও থেকে এককালীন অফেরৎযোগ্য ১০ হাজার টাকার আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে হ্যাপী এখন নিজেই তৈরি করেছেন নিজের কর্মসংস্থান। দিনভর নিজের গরু, ছাগল আর হাঁস-মুরগি পালনেই দিন চলে যায় তার। দিনমজুর স্বামী কুদ্দুসকে একটি পুরনো রিকশা কিনে দিয়েছেন হ্যাপী বেগম। নিজের জন্য কিনেছেন কিছু হাঁস-মুরগি আর দুটি ছাগল। রিকশা চালিয়ে যা আয় হয় তার পুরোটাই ব্যয় হয় সংসার পরিচালনায়। বছর ঘুরতে না ঘুরতে সংসারের সব খরচ মিটিয়ে হাঁস-মুরগি আর ডিম বিক্রি করে উপার্জিত টাকায় একটি গরুও কিনেছেন হ্যাপী বেগম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু হ্যাপী বেগম নয়, ক্ষুদ্র ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করে হ্যাপী বেগমের মতো দারিদ্র্যের শেকল ছিঁড়ে বেরিয়ে এসেছে বরগুনা সদর ও বেতাগী উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের প্রায় দু’হাজার হতদরিদ্র পরিবার। বাংলাদেশ সরকারের ইইপি প্রকল্পের আওতায় অক্সফামের সহযোগিতায় নারী অধিকার বিষয়ক স্থানীয় উন্নয়ন সংগঠন জাগোনারী সিডর পরবর্তী সময় থেকে বরগুনা ও বেতাগী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে রিকল প্রকল্প নামে জলবায়ু পরিবর্তনে অভিযোজন বিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। স্থানীয় অধিবাসীদের সংগঠিত করে তাদের দুর্যোগ প্রস্তুতি ও প্রশমনের পাশাপাশি সব ধরনের অধিকার সচেতন করে গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য নিয়ে এ প্রকল্পটি শুরু হয় ২০০৯ সালে। এসব সিবিওর অধীনে যেসব হতদরিদ্র সদস্য রয়েছে অর্থনৈতিকভাবে তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসা, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালনের জন্য অফেরৎযোগ্য এককালীন ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত বরগুনা ও বেতাগী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মোট ২ হাজার হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে এসব সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।
বরগুনায় দুহাজার হতদরিদ্র পরিবার আজ স্বাবলম্বী
আনোয়ার হোসেন মনোয়ার, বরগুনা
বরগুনার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের গুদিঘাটা গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের গৃহবধূ হ্যাপী বেগম (৩৪)। দিনমজুর স্বামীর অভাবী সংসারে ছোট দুই শিশু সন্তান নিয়ে অপুষ্টিজনিত রোগে-শোকে এক সময় মুমূর্ষু হয়ে পড়েছিলেন হ্যাপী বেগম। কখনও গ্রামীণ সড়ক মেরামতের কাজ, কখনওবা এ বাড়ি-ও বাড়ি ঝিয়ের কাজ করে খেয়ে না খেয়েই চলত তাদের দিন। ঝড়-বৃষ্টি আর অসুস্থতার কারণে যেদিন কাজে যাওয়া হতো না সেদিন না খেয়েই উপোস থাকতে হতো সবার। আত্মবিশ্বাস আর পরিশ্রমের সমন্বয়ে সেই হ্যাপী বেগম এখন জয় করেছেন দারিদ্র্যকে। তিনি এখন আর ঝিয়ের কাজ করেন না। স্থানীয় একটি এনজিও থেকে এককালীন অফেরৎযোগ্য ১০ হাজার টাকার আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে হ্যাপী এখন নিজেই তৈরি করেছেন নিজের কর্মসংস্থান। দিনভর নিজের গরু, ছাগল আর হাঁস-মুরগি পালনেই দিন চলে যায় তার। দিনমজুর স্বামী কুদ্দুসকে একটি পুরনো রিকশা কিনে দিয়েছেন হ্যাপী বেগম। নিজের জন্য কিনেছেন কিছু হাঁস-মুরগি আর দুটি ছাগল। রিকশা চালিয়ে যা আয় হয় তার পুরোটাই ব্যয় হয় সংসার পরিচালনায়। বছর ঘুরতে না ঘুরতে সংসারের সব খরচ মিটিয়ে হাঁস-মুরগি আর ডিম বিক্রি করে উপার্জিত টাকায় একটি গরুও কিনেছেন হ্যাপী বেগম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু হ্যাপী বেগম নয়, ক্ষুদ্র ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করে হ্যাপী বেগমের মতো দারিদ্র্যের শেকল ছিঁড়ে বেরিয়ে এসেছে বরগুনা সদর ও বেতাগী উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের প্রায় দু’হাজার হতদরিদ্র পরিবার। বাংলাদেশ সরকারের ইইপি প্রকল্পের আওতায় অক্সফামের সহযোগিতায় নারী অধিকার বিষয়ক স্থানীয় উন্নয়ন সংগঠন জাগোনারী সিডর পরবর্তী সময় থেকে বরগুনা ও বেতাগী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে রিকল প্রকল্প নামে জলবায়ু পরিবর্তনে অভিযোজন বিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। স্থানীয় অধিবাসীদের সংগঠিত করে তাদের দুর্যোগ প্রস্তুতি ও প্রশমনের পাশাপাশি সব ধরনের অধিকার সচেতন করে গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য নিয়ে এ প্রকল্পটি শুরু হয় ২০০৯ সালে। এসব সিবিওর অধীনে যেসব হতদরিদ্র সদস্য রয়েছে অর্থনৈতিকভাবে তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসা, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালনের জন্য অফেরৎযোগ্য এককালীন ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত বরগুনা ও বেতাগী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মোট ২ হাজার হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে এসব সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য