ডিজিটাল বাংলাদেশ, প্রেক্ষিত ঝালকাঠি জেলা

প্রতীকী চিত্রঝালকাঠি : ঝালকাঠি ভূখন্ডে ঠিক কবে থেকে জনবসতি শুরু হয়েছিল তা নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও নাম দেখে বোঝা যায়-এখানে অতি প্রাচীনকাল হতে কৈবর্ত জেলে সম্প্রদায়ের লোকেরাই প্রথম আবাদ আরম্ভ করেছিল। কৈবর্ত জেলেদের ঝালো বলা হতো এবং তাদের পাড়াকে বলা হতো ঝালোপাড়া। অনেকের ধারণা এ ঝালোপাড়া থেকেই ঝালকাঠি নামের উৎপত্তি। কবি বিজয় গুপ্ত মনসামঙ্গল কাব্যেও জেলে সম্প্রদায়কে ঝালো নামে উল্লেখ করেছেন।মেহেদীপুরের জেলেদের সঙ্গে স্থানীয় লোকদের মনোমালিন্য দেখা দিলে তারা বাসন্ডা ও ধানহাটা খালের উভয় তীরে কাটাবাখারী জঙ্গল কেটে আবাদ করে বসতি স্থাপন করে। ঝালকাঠি বন্দরে পূর্বে অধিকাংশ নাগরিকই ছিল কৈবর্ত দাস বা জেলে সম্প্রদায়ের লোক। বর্তমান ঝালকাঠির পশ্চিম তীরে জেলেরা জঙ্গল সাফ করে বাসস্থান তৈরি করত: জেলে+কাঠি=জাল+কাঠি অপভ্রংশে ঝালকাঠি নামকরণ করা হয়েছে। এই জেলে ও জঙ্গলের কাঠি থেকেই উৎপত্তি হয় ঝালকাঠির নাম। তেমনি চাঁদকাঠি, কৃষ্ণকাঠি, চরকাঠি, বিনয়কাঠি ইত্যাদি। যা বিস্তৃত রয়েছে স্বরুপকাঠি পর্যন্ত। বিশ্বরুপ সেনের একখানি তাম্রলিপিতে ঝালকাঠি ও নৈকাঠির নামোল্লেখ আছে। এ থেকেও ঝালকাঠি নামটি যে জেলেদের কাছ থেকে পাওয়া তার সমর্থন মিলে। ঝালকাঠি জেলার প্রাচীন নাম ছিল মহারাজগঞ্জ। সুগন্ধা নদীর দক্ষিণ তীরে পোনাবালিয়া এবং উত্তর পাড়ে ছিল উজিরপুর শিকারপুর। মাঝের বিস্তীর্ণ অঞ্চলটাই ছিল নদী। ১৮৪৫ সাল পর্যন্ত নীলকরদের দ্বারা ওইসব নামকরণ করা হয়। ঐ সব নীলকর কুঠিয়াল গভর্নর জেনারেলের অনুমতি নিয়ে বরিশাল ও ঝালকাঠিতে নীল চাষ শুরু করে। তারা এখানে নীলচাষিদের ভূমি দাস প্রথার বিরুদ্ধে জনৈক নীলকর সাহেবকে আক্রমণ করে এবং তার শিরোচ্ছেদ করেন।

ঝালকাঠি শহরের সরকারি বিদ্যালয়ের নিকট আজও সেই মৃতের সমাধি দৃষ্ট হয়। ১৭৫৭ সালের পর পর্তুগিজ নাগরিক মি. উড ও ইউয়াট একটি লবণ স্টেটের এজেন্ট ছিলেন। ১২০৫ সালে রায়েরকাঠির রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা মদনমোহনের ছেলে শ্রীনাথ রায় সম্রাটের নিকট থেকে পাট্টা লাভ করেন। মদনমোহন পূর্বে নলছিটি থানাধীন বর্তমানে ঝালকাঠি থানার নথুল্লাবাদ গ্রামে জমিদারির প্রধান কার্যালয় স্থাপন করেন। মদনমোহন রায়ের পৌত্র রাজা রুদ্র নারায়ন শক্তিমান রাজা ছিলেন। তিনি স্বপ্নযোগে বলেশ্বর নদীর পূর্ব তীরে জঙ্গলে জগদম্বার দশভুজা পাষাণময়ী মূর্তি পেয়ে তা রায়েরকাঠি গ্রামে স্থাপন করেন এবং রায়েরকাঠিতে রাজধানী স্থাপন করেন। রুদ্র নারায়নের প্রপৌত্র জয়নারায়নের সময় আগাবাকের খা নামক এক পাঠান যুবক তার জমিদারির অর্ধেক জোরপূর্বক দখল করলে উভয়ের মধ্যে ঝালকাঠির পূর্বদিকে সুতালরি এবং পূর্ব দক্ষিণে বারৈকরন গ্রামে এক প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে বাকের খা ২২টি কামান ফেলে পলায়ন করেন বলে ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়। রায়েরকাঠিতে জমিদারি অর্ধেকের মালিক ঘোষাল মহারাজ।

ঝালকাঠিতে তাদের কাছারি স্থাপন করেন। ঘোষাল বাহাদুর সরকার হতে রাজা বাহাদুর পদবি প্রাপ্ত হন। তার প্রজারা তাঁকে মহারাজ সম্বোধন করত। এই মহারাজ সম্বোধন থেকেই কাছারিবাড়ী সংলগ্ন এলাকার নাম হয় মহারাজগঞ্জ। ঝালকাঠির পূর্ব নাম মহারাজগঞ্জ। অর্থাৎ ত্বদীয় পুত্র রাজা সত্যস্মরণ ঘোষাল বাহাদুর বাণিজ্য বন্দর ঝালকাঠি প্রতিষ্ঠা ও উন্নতি তারই চেষ্টায়। তার চেষ্টা ও যত্নে রাজপ্রসাদতুল্য অট্টালিকা প্রশস্ত রাজত্ব ও অসংখ্য জলাশয় নির্মিত হয়েছিল। সে সময় ঝালকাঠি বন্দর তৎকালীন বাংলার একটি শ্রেষ্ঠ ও উন্নত বাণিজ্য বন্দর হিসেবে গড়ে উঠেছিল। ঝালকাঠি বন্দর হিসেবে বহুদিন আগ থেকেই পরিচিত। কথায় কথায় আজও লোকে একে দ্বিতীয় কলিকাতা বলে। ভারত বিভক্তির পূর্বে কলিকাতার পরেই এ বন্দরের গুরুত্ব ছিল অত্যধিক। তদানিন্তন ঝালকাঠির সত্যজ্জল অতীত আছে। অতীতে এখান থেকেই দক্ষিণ বাংলার অর্থনীতি নিয়ন্ত্রিত হতো।

১৭৯৭ সালের ৬ই ডিসেম্বর মি. ম্যাসি কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া সরকারের নিকট পেশকৃত প্রতিবেদনে ঝালকাঠি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রদান করা হয়েছে। ১৭৯৭ সালে এই অঞ্চল বাখরগঞ্জ জেলায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯৮২ সালে ঝালকাঠিকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এবং ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠি পূর্ণাঙ্গ জেলার মর্যাদা পায়। ঝালকাঠি জেলায় সুবিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ গাছ-গাছালি, নদী-নালা, খাল-বিল, অপার সৌন্দর্য্যমন্ডিত ৭৩৫.০৯ বর্গকিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট ছোট্ট একটি জেলা ঝালকাঠি।

১৯৮৪ সাল থেকে বাংলাদেশের মানচিত্রে এ জেলাটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত বিরাজ করছে। এ জেলার নাম উচ্চারণ করার সময়ই সারা দেশের মানুষের হৃদয় আকাশে চাঁদের মত ভেসে ওঠে কবি জীবনানন্দ দাশ এর বিখ্যাত আবার আসিব ফিরে কবিতার ধানসিঁড়ি নদীটি। এ জেলার আছে এক গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস যা প্রদীপ্ত ভাস্করের মত জ্যোতি ছড়াচ্ছে অনর্গল।

এ জেলাটি বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর মধ্যে একটি হলেও সর্বক্ষেত্রে রাখছে স্বতন্ত্র ভূমিকা। ভৌগোলিক পরিচিতিঃ- অবস্থানঃ ২২০-২৫” হতে ২২০-৪৯” উত্তর অক্ষাংশ ও ৯০০-৫৮” হতে ৯০০-১৮”  দ্রাঘিমাংশউত্তরাংশ। সীমানাঃ- উত্তরে বরিশাল জেলা, দক্ষিণে বরগুনা জেলা, পূর্বে বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা, পশ্চিমে পিরোজপুর জেলা। আয়তনঃ ৭৩৫.০৯ বর্গ কিলোমিটার।

এক নজরে ঝালকাঠি জেলা * অবস্থানঃ ২২০-২৫” হতে ২২০-৪৯” উত্তর অক্ষাংশ ও ৯০০-৫৮” হতে ৯০০-১৮”  দ্রাঘিমাংশউত্তরাংশ * সীমানাঃ- উত্তরে বরিশাল জেলা, দক্ষিণে বরগুনা জেলা, পূর্বে বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা, পশ্চিমে পিরোজপুর জেলা। * আয়তনঃ ৭৩৫.০৯ বর্গ কিলোমিটার। প্রশাসনিক কাঠামোঃ * উপজেলা : ০৪ টি (ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঠালিয়া), * থানা : ০৪ টি, * পৌরসভা : ০২ টি (ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি), * ইউনিয়ন : ৩২ টি, * গ্রাম : ৪৭১ টি * মৌজা : ৪১২ টি * ইউনিয়ন ভূমি অফিস : ৩১ টি, * হাট-বাজার : ৮৯ টি। জনসংখ্যা (২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ): * মোট জনসংখ্যা : ৬,৯৪,০৯০ জন, * পুরুষ  : ৩,৪৬,১৬১ জন, * মহিলা : ৩,৪৭,৯২৯ জন। শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্যঃ * কলেজ :  ১৮টি, * কারিগরি কলেজ :  ০৯টি, * মাধ্যমিক বিদ্যালয় : ১৫৭ টি, * নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় :  ৩৬টি, মাদ্রাসা : ১২৩, কামিল :  ০১টি, ফাযিল  : ১৫টি, আলিম : ১৩টি, দাখিল : ৯৪টি। প্রাথমিক বিদ্যালয় * সরকারী প্রাথমিক : ৩৬৪ টি, * রেজিস্টার্ড : ১৬২ টি, * শিশু কল্যাণ প্রা: বি: ঝালকাঠি-২২ : ০১টি, * শিক্ষার হারঃ * ৬৫.৭৪% (২০০১ সালের শিক্ষা জরীপ অনুযায়ী)।  * স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যঃ * হাসপাতাল ক) ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল  : ০১ টি, খ) ৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল : ০২ টি গ) ৩১ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল : ০১ টি, * উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কমপ্লেক্স : ০৩টি, * উপ -স্বাস্থ্য কেন্দ্র : ০৫ টি * ডায়াবেটিক সেন্টার : ০১ টি, * ক্লিনিক * প্রস্তাবিত কমিউনিটি ক্লিনিক : ২৪টি, * কমিউনিটি ক্লিনিক : ৬৪টি। * যাতায়াত ব্যবস্থাঃ * পাকা : ৩৯১.৪৩ কি:মি:, * আধাপাকা : ৭৫৭.০৭ কি:মি:, * কাঁচা : ১২৮০.৯৯ কি:মি:, * ঝালকাঠি পৌরসভা সড়কঃ * পাকা : ৫৬.০০ কি:মি:, * কাঁচা : ৫০.০০ কি:মি:, * ফেরিঘাট : ০২ টি, * প্রধান নদী :  সুগন্ধা, বিষখালী ও ধানসিড়ি।
* ভূমি সংক্রান্ত তথ্যঃ * মোট ভূমি : ১,৮৬,৪৩২.১৪ একর * কৃষি জমি : ১,৪১,০০৫.৮২ একর, * অকৃষি জমি : ৪৫,৪২৬.৩২ একর। * শিল্প সংক্রান্ত তথ্যঃ * শীতল পাটি শিল্প, * গামছা শিল্প, * মৃৎ শিল্প, * লবণ শিল্প, * ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানঃ রাজাপুর সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি, কবি জীবনানন্দ দাশের মামা বাড়ি, কীর্ত্তিপাশা জমিদার বাড়ি, গাবখান সেতু, ধানসিঁড়ি নদী / রূপসা খাল, গালুয়া পাঁকা মসজিদ, নেছারাবাদ কমপ্লেক্স, পোনাবালিয়া মন্দির, সিদ্ধকাঠি জমিদার বাড়ি, নলছিটি পৌরভবন, চায়না কবর, কামিনী রায় / যামিনী সেনেরবাড়ি, কুলকাঠি (শহীদিয়া)।

বর্তমান পৃথিবী অনেকাংশে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর। তথ্যপ্রযুক্তি আজকে সারা দুনিয়াকে করেছে সবার জন্য এক সহজ সুন্দর চারণ ভূমি। মানুষের জীবনকে করেছে অনেক সহজ। ঘরে বসে আজ মানুষ তথ্য প্রযুক্তির বদৌলতে বিচরণ করছে পৃথিবী জুড়ে। ক্ষণিকেই জেনে নিচ্ছেন প্রয়োজনীয় তথ্যাদি। বাংলাদেশও তথ্য প্রযুক্তিতে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। নিজের দেশকে সর্বতভাবে জানার নিমিত্ত তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সবুজ-শ্যামল ছোট একটি জেলা ঝালকাঠি। বিষখালী, সুগন্ধা ও ধানসিঁড়ির পলি বিধৌত এ জেলাটির যেমন রয়েছে গৌরবময় অতীত তেমনি রয়েছে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা। ঝালকাঠি জেলার এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে নিঃসন্দেহে প্রয়োজন উন্নত তথ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা। সে লক্ষ্যে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সমগ্র দেশ ও বিশ্বের সাথে ঝালকাঠিকে সংযুক্ত করতে জেলা প্রশাসন, ঝালকাঠি একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে।

এ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জনগনের সাথে জেলা প্রশাসনের সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়েছে; দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট সকলে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন, ফলে কাজের গতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার মান বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বায়নের এ যুগে এ ওয়েব সাইটের সহায়তায় দ্রুততার সাথে জনগণের দ্বার প্রান্তে সেবা পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি জেলাবাসী এ ওয়েব সাইটের মাধ্যমে জেলার অন্যান্য সকল সরকারী ও বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানের সেবা সম্পর্কে অবহিত হয়ে নিজ নিজ প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারছে। প্রবাসে অবস্থানরত জেলাবাসীও এ ওয়েব সাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা গ্রহণ করতে সক্ষম হচ্ছে।

এ জেলার সকল নাগরিক, জেলা প্রশাসন এবং জেলার অন্যান্য সরকারী ও বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ওয়েব সাইটটি সেতু বন্ধন হিসাবে কাজ করছে। সীমিত সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ওয়েব সাইট অত্যন্ত যুগোপযোগী পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে।

জাতীয় তথ্য বাতায়ন বাংলাদেশের সকল ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ, অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়সহ প্রায় পঁচিশ হাজার সরকারি দপ্তরের ওয়েব সাইটের একটি সমন্বিত রূপ। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এটুআই প্রোগ্রামের আওতায় ইউনিয়ন থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় বিভাগ পর্যন্ত একই ফ্রেমওয়ার্কে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। জনগণের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি দপ্তর থেকে প্রদেয় সেবাসমূহ  প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রবেশদ্বার হিসেবে এ তথ্য বাতায়ন সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এ বাতায়নে একজন নাগরিক যে কোনো একটি ওয়েব সাইট থেকে পুরো বাতায়নের সকল ওয়েব সাইটে ভ্রমণ করা যায়।

বাংলাদেশ তথ্য বাতায়নে প্রবেশ করে বাম দিকের ন্যাভিগেশন বার থেকে সাইট নির্বাচন করে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন তথ্য বাতায়নে যাওয়া যায়। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয়/বিভাগ পর্যন্ত প্রায় পঞ্চাশ হাজার  প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা-কর্মচারী তথ্য বাতায়নসমূহের তথ্য-উপাত্ত সংযোজন এবং হালনাগাদ করেছেন। এই তথ্য বাতায়নে সন্নিবেশিত রয়েছে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন ও মানবাধিকার, মানব সম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পর্যটন ও ইতিহাস, প্রকৃতি ও পুরাকীর্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গ, মুক্তিযোদ্ধার তালিকা, সরকারি সার্কুলার/গেজেট, সেবাসমূহ ও তা প্রাপ্তির ধাপসমূহ, সরকারি ফর্মসমূহ, সিটিজেন চারটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের তালিকা, ডিজিটাল গার্ড ফাইল, ই-ডিরেক্টরি, জেলা ই-সেবা, বিভিন্ন ই-সেবা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের তালিকাসহ  জনগুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

তথ্য বাতায়নে প্রদর্শিত ব্যানারসমূহে প্রদত্ত বিবরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান, দর্শনীয় স্থান, পর্যটন স্থল, পুরাকীর্তি সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের ওয়েব সাইটগুলোতে প্রাত্যহিক খবর, নোটিশ, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার তালিকা, সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি, বিভিন্ন সেবার বিস্তারিত বিবরণ, সাংগঠনিক কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের তথ্য সন্নিবেশ করা হয়েছে। বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন তথ্য বাতায়নে ঐতিহ্য, ভৌগলিক পরিচিতি, যোগাযোগ ইত্যাদি তথ্য সংযোজিত রয়েছে।

এছাড়াও জেলার ২৬২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টি মিডিয়া ক্লাস করানো হচ্ছে। বর্তমানে ইন্টারনেট এবং ইমেইলের মাধ্যমে ছবি আদান প্রদান, অনলাইভিত্তিক গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগের জন্য ফেইজবুক সকল শ্রেণির মাঝে স্থান করে নিয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তি ফরম পূরণ, ভর্তি হওয়া, রেজিস্ট্রেশন, ফরমফিলাপ, পরীক্ষার রুটিন, ফলাফল, দেশের উন্নয়নমূলক কাজের দরপত্র আহ্বান ইন্টারনেটে ই-টেন্ডারিং প্রকাশসহ দৈনন্দিন সকল বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ জানা যাচ্ছে।

লেখকঃ- গণমাধ্যম কর্মী

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য