ডিজিটাল বাংলাদেশ, এগিয়ে যাচ্ছে জীবন
- ২২:২৩
- উপকূল আজ, উপকূল সংবাদ, চট্টগ্রাম জেলা, তথ্য-প্রযুক্তি, পূর্ব-উপকূল, বিশেষ প্রতিবেদন, শীর্ষ সংবাদ, সুসংবাদ
- ৬৭০
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) : বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৬ জানুয়ারী ২০০৯ইং তারিখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো শপথ নেন। তারই ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারে সরকার বহুমুখী কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ই-সেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে স্বল্প সময় ও ব্যয়ে এবং হয়রানি মুক্ত সেবা প্রদান করাই সরকারের লক্ষ্য। এটা এমন এক ব্যবস্থা যেখানে হাতের কাছে এবং দ্রুত সেবা পাওয়া যাবে। সেবার জন্য নানা জায়গায় ছুটতে হবে না। ঘরে বসেই মোবাইল ফোনে এবং কমিউটারে তথ্য জানা যাবে।
গ্রামীন জনপদের মানুষের কাছে তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর দেশের সকল ইউনিয়নে স্থাপন করা হয় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। এসব ডিজিটাল সেন্টার কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সরকারী- বেসরকারী- বাণিজ্যিক তথ্য ও সেবা প্রাপ্তির অনন্য কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে।
সীতাকুণ্ডের ৬ নং বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মো: শওকত আলী জাহাঙ্গীর বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ক সরকারের যে সমস্ত কর্মসূচী রয়েছে আমরা চেষ্ঠা করছি সবগুলো বাস্তবায়ন করতে। সরকারের যে সমস্ত কার্যক্রম ডিজিটালের আওতায় এসেছে তার প্রতিটি কার্যক্রমই আমাদের এখান থেকে পাওয়ার সুযোগ আছে। আইটি বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় আছে বলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন অচিরেই পূরণ হবে বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশ কৃষি নির্ভর দেশ, কৃষি খাতে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করলে বাংলাদেশ আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। জাতীসংঘ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশ বলে স্বীকৃতি দিচ্ছে”।
বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা মো: সালাউদ্দিন রুবেল বলেন, “আমরা এখানে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে যাচ্ছি যেমন, সরকারের বিভিন্ন নোটিশ, গ্যাজেট, ভিসা চেকিং, বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ, জন্ম-মৃত্যু সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার কম্পোজ ও প্রিন্ট, ছবি তোলা ও স্ক্যানিং, ফটোকপি, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ভাড়া, চাকরী সংক্রান্ত তথ্য ইত্যাদি সেবা আমরা জনগনকে দিয়ে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে সেবার পরিধি আরো বাড়বে এটাই প্রত্যাশা।”
তথ্য সেবা কেন্দ্র চালু হওয়ায় মানুষের হাতে নাগলে সবকিছু। বাঁশবাড়িয়া গ্রামের লাভলী আক্তার বলেন, “আগে আমরা সামান্য কোন বিষয় জানার জন্য, ফটোকপি করার জন্য, দরখাস্ত লিখার জন্য যে কোন বিষয়ের জন্য সেই সীতাকুন্ড যেতে হতো। এখন আমাদের হাতের নাগালে সবকিছু। যে কোন সেবা চাইলেই আমরা এখন ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে পাচ্ছি।”
কমিউনিটি রেডিও হচ্ছে এমন একটি সম্প্রচার পদ্ধতি যা কোন বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রচষ্টায় প্রতিষ্ঠিত এবং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর কল্যাণে পরিচালিত হয়। এটি এক ধরনের জনসেবামূলক সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান যা কোন নির্দিষ্ঠ জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করে। সারাদেশে ১৪ টি কমিউনিটি রেডিও রয়েছে। যার একটি চট্টগ্রামে সীতাকুন্ডেরপ্রথম কমিউনিটি রেডিও সাগরগিরি।
রেডিও সাগরগিরির স্টেশন ম্যানেজার জনাব মো: শাহ্ সুলতান শামীম বলেন, “রেডিও সাগরগিরির প্রতিদিন বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৮ পর্যন্ত সম্প্রচার কার্যক্রম চলছে। সম্প্রচার এলাকার জনগনের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্য ইত্যাদি বিষয়ে জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। এটুআই কর্মসূচী থেকে সকল কমিউনিটি রেডিওর তথ্যসমূহকে একটি ওয়েব প্লাটফর্মের আওতায় আনার মাধ্যমে সহজেই সকল কমিউনিটি রেডিওকে এক সূত্রে আনা সম্ভব হয়েছে।
“তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি” এই মূলমন্ত্রকে ধারন করে শিক্ষাব্যবস্থায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। শিক্ষাব্যবস্থাকে ডিজিটাল করতে মোবাইলে ভর্তিও আবেদন, পাববিলক পরীক্ষার ফলাফল, ই-বুক, ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া টকিং বুক, আমার বর্ণমালা, শিক্ষক বাতায়নসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহন করেছে সরকার।
সীতাকুণ্ড উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মো: ফেরদৌস হোসেন বলেন,“শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি বর্তমান সরকারের একটি বিরাট সাফল্য। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় সেটা অনেকটা সাফল্যের পথে শিক্ষা ক্ষেত্রে। সীতাকু- উপজেলায় ইতোমধ্যে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ৩ জন শিক্ষককে ডিজিটাল কনটেন্ট এর উপড় প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। এছাড়াও গতবার থেকে আমরা পরীক্ষার ফলাফলও ওয়বে সাইটে প্রদান করছি। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা ক্ষেতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
সীতাকুণ্ড উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাজনাব মো: শাহ আলম বলেন, “জনগনের দারপ্রান্তে সরকারের সেবাগুলো পৌছে দেওয়াই ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য। আমরা ইতিমধ্যে সরকারী যেসব নথিপত্রগুলো আছে সেগুলো কম্পিউটারাইজ করেছি। গত এক বছরে যুবদের চারটি মোবাইল সার্ভিসিং এর উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। প্রতি বছর দুইবার জেলা পর্যায়ে কম্পিউটার প্রশিক্ষণে সীতাকুন্ডের ছেলে মেয়েদের পাঠাচ্ছি।”
২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে অর্থ ও শারীরিক শক্তির বদলে মেধা ও জ্ঞানের শক্তির প্রাধান্য থাকবে। কৃষিভিত্তিক একটি সমাজ থেকে বাংলাদেশ একটি সৃজনশীল ও মেধাভিত্তিক শিল্পোন্নত দেশে পরিণত হয়ে মানসভ্যতার ডিজিটাল যুগে নেতৃত্ব দেবে। তারহীন উচ্চগতির ইন্টারনেট ওয়াইম্যাক্স সহজলভ্য হবে এবং সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্কের কাজ খুব তাড়াতাড়ি চালু হবে। আর এই স্বপ্ন পূরণের জন্য সরকার ও জনগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
//মোহছেনা মিনা/ উপকূল বাংলাদেশ/সীতাকুণ্ড-চট্টগ্রাম/২১০২২০১৫//
