ঝড়-জলোচ্ছ্বাস আর দস্যু আতংক নিয়ে জেলেদের সমুদ্র যাত্রা
- ১১:২৩
- প্রধান প্রতিবেদন, বিশেষ প্রতিবেদন, সর্বশেষ
- ২৬৬
আমির হোসেন আমু, মংলা।। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস আর জলদস্যুদের শংকার বোঝা মাথায় নিয়ে সমুদ্রে যাত্রা শুরু করেছেন সুন্দরবন উপকূলীয় জেলেরা। এ বছরও অন্তত ৩০ হাজার জেলে সমুদ্রে মাছ আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণের প্রস্তুতি নিয়েছেন। বন বিভাগের অনুমতি ও পাস-পারমিট নিয়ে জেলেবহর ইতিমধ্যেই রওনা হয়েছে সুন্দরবন সংলগ্ন সাগরপাড়ের দুর্গম চরাঞ্চলে। জেলেদের এ সমুদ্র যাত্রাকে ঘিরে সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে আইন-শৃংখলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। যাত্রা পথে জলদস্যুদের হামলা ও লুটপাটের কবল থেকে রক্ষায় পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের প্রহরাসহ ফিস্যারম্যান গ্র”পের নিজস্ব এস্কট থাকছে জেলেবহরের সঙ্গে।
জাল-নৌকা ও শুঁটকি তৈরির সরঞ্জামাদিসহ ৬ ও ৭ অক্টোবর দুটি বহরে সহস্রাধিক জেলে নৌকা ছেড়ে গেছে। আরও একাধিক জেলেবহর সমুদ্র যাত্রার জন্য জড়ো হচ্ছে মংলার পশুর নদীর চিলা বাজারে। টানা তিন মাসের জন্য জেলেদের এ সমুদ্র যাত্রা উপলক্ষে চলছে নানা আয়োজন। স্ত্রী-পুত্র ও স্বজনদের কাছ থেকে বিদায় নেয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় বিধির হরেক রকম আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে পুরোদমে। পশুর নদীর চিলা খালের মোহনায় সমুদ্রগামী জেলেদের মিলনমেলায় এখন ভিন্ন রকম এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ দিকে শুরু হতে যাওয়া শুঁটকি মৌসুমে ১৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের টার্গেট নির্ধারণ করেছে বন বিভাগ। সমুদ্রে অনুকূল পরিবেশ থাকলে রাজস্ব আদায়ের এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
সূত্র মতে, মংলা থেকে নদী পথে দুবলা জেলে পল্লীর দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। সুন্দরবন সংলগ্ন এ পল্লীর সব কর্মকাণ্ড জেলেদের ঘিরে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরের ১৩টি মৎস্য আহরণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র নিয়ে গঠিত দুবলা জেলে পল্লী। প্রতি বছর এ মৌসুমে সাগরপাড়ের দুবলা, মেহের আলীরচর, আলোরকোল, অফিস কিল্লা, মাঝের কিল্লা, শোলারচর, নারকেলবাড়িয়া, ছোট আমবাড়িয়া, বড় আমবাড়িয়া, মানিকখালী, কবরখালী, চাপড়াখালীর চর, কোকিলমনি ও হলদাখালী চরে হাজার হাজার জেলে জড়ো হন।
প্রতি বছর অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত দুবলা জেলে পল্লীর অধীন এসব চরে অবস্থান নিয়ে জেলেরা সমুদ্র মোহনায় মৎস্য আহরণ করেন। দুবলা জেলে পল্লীর জেলেরা নিজেদের থাকা মাছ ধরার সরঞ্জাম রাখা ও শুঁটকি তৈরির জন্য অস্থায়ী ঘর তৈরি করে। জেলেরা সমুদ্র মোহনায় বেহুন্দী জাল দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার ও বাছাই করে জাত ওয়ারি শুঁটকি করে থাকে। জেলে পল্লীতে জেলেদের ঘর তৈরি ও জ্বালানি ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত রাজস্ব আদায় করে থাকে বন বিভাগের দুবলা টহল ফাঁড়ি। এ পল্লীতে মূলত জেলেদের মৎস্য আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণের ওপর ভিত্তি করেই বন বিভাগের রাজস্ব আয় হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমের শুরুতেই দেশের দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলের হাজার হাজার জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা সুন্দরবন সংলগ্ন দুবলার চরাঞ্চালে সমবেত হতে শুরু করেছেন। ঝড়- জলোচ্ছ্বাস ও জলদস্যুদের উৎপাত আশংকার মধ্যেও জীবন-জীবিকার তাগিদে সাগরপাড়ের চরাঞ্চালে ছুটছে। তবে এ বছরও সমুদ্রগামী জেলেদের মধ্যে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ জলদস্যু গ্র”পগুলোরে উৎপাত-আতংক কাটছে না। পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমির হোসেন চৌধুরী জানান, মৌসুমি ওই শুঁটকি জেলেদের নিরাপত্তার জন্য বন বিভাগের সব টহল ক্যাম্পকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ১ অক্টোবর থেকে সমুদ্রগামী জেলেদের বনে প্রবেশের পাস-পারমিট দেয়া শুরু হয়েছে। দুবলা ফিশারম্যান গ্র”পের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) জিয়া উদ্দিন জানান, বঙ্গোপসাগরে মৎস্য আহরণ ও শুঁটকি মৌসুমকে ঘিরে সুন্দরবন সংলগ্ন দুবলা জেলে পল্লীতে ইতিমধ্যেই সমবেত হতে শুরু করেছেন হাজার হাজার জেলে।
