ঝালকাঠির পিপি হত্যা মামলায় ৫ জনের ফাঁসি
- ১৯:৫১
- আইন আদালত, উপকূল আজ, উপকূল সংবাদ, ঘটনাপ্রবাহ, ঝালকাঠি জেলা, মধ্য-উপকূল, শীর্ষ সংবাদ, সর্বশেষ
- ২৩০
ঝালকাঠি : ঝালকাঠির পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইন হত্যা ঘটনায় অভিযুক্ত ৫ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১ টায় বিচারক মোঃ আব্দুল হালিম এ রায় প্রদান করেন। এসময় আসামী তানভীর, মুরাদ ও আমীর আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বেল্লাল ও সগির পলাতক রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট এম আলম খান কামাল। স্টেট ডিফেন্স ছিলেন অ্যাডভোকেট মঞ্জুর হোসেন। আসামী পক্ষে ছিলেন বরিশালের আইনজীবী মোঃ লুৎফর রহমান। এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার, জেলা আইনজীবী সমিতি, সরকারী কৌসূলী বৃন্দ।
তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর বোমায় ঝালকাঠি আদালতের সহকারী বিচারক সোহেল আহমেদ ও জগন্নাথ পাড়ে নিহত হয়। এরপর জেএমবির শীর্ষ নেতারা পর্যায়ক্রমে আটক হন। জঙ্গিদের ঝালকাঠিতে এনে জেলা জজ আদালতে চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচার কাজ চলে। রাস্ট্রপক্ষের সরকারী কৌসূলী হিসেবে মামলা পরিচালনা করেন তৎকালীন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইন। কোরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে আদালতে জেএমবির বক্তব্যকে অসারতা প্রমাণ করতে সক্ষম হয় পিপি হায়দার হোসাইন। যার প্রেক্ষিতে আদালত ২০০৬ সালের ২৯ মে সাতজনকে ফাঁসির আদেশ দেন।
দেশের বিভিন্ন কারাগারে ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ ৬ জন জঙ্গির ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা হয়। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাই, সামরিক শাখা প্রধান আতাউর রহমান সানি, উত্তরাঞ্চলীয় সমন্বয়কারী আবদুল আউয়াল, দক্ষিণাঞ্চলীয় সমন্বয়কারী খালিদ সাইফুল্লাহ ও বোমা হামলাকারী ইফতেখার হাসান মামুন। অন্য দন্ডপ্রাপ্ত আসাদুল ইসলাম আরিফ প্রথম থেকেই পলাতক থাকায় তার ফাঁসি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি আজও। এর ২০ দিন পর বিচারক দ্বয়ের হত্যা মামলা পরিচালনাকারী পিপি অ্যাডভোকেট হায়দার হোসেনকে এরই জের ধরে ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল গোরস্থান মসজিদে থেকে এশার নামাজ পড়ে বের হবার সময় গুলি করে হত্যা করে জেএমবি সদস্যরা।
এ ঘটনার পরের দিন নিহত’র একমাত্র ছেলে তারিক বিন হায়দার বাদী হয়ে ঝালকাঠি থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-৭, তারিখ-১২ এপ্রিল ২০০৭) দায়ের করেন। মামলার এজাহারে কারো নাম উল্লেখ করা না হলেও শীর্ষ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার কথা উল্লেখ করা হয়। পিঁপি হত্যা মামলা শুরু থেকে তদন্ত করেছেন ঝালকাঠি থানার উপ-পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা, সিআইডি পিরোজপুর ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক আমির হোসেন, পরিদর্শক শাহজাহান খান, তোফাজ্জেল হোসেন। চার্জশিটের আগ পর্যন্ত এ চারজন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়।
সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়ে সিআইডি পিরোজপুর ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক মোশারেফ হোসেন তদন্ত সম্পন্ন করে জেএমবির পাঁচ জঙ্গির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (নং-৫) দাখিল করেন। মামলা দায়েরের ৩৩ মাস পর ২০১০ সলের ১৭ জানুয়ারি রবিবার বিকেলে ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হয়।
চার্জশীটভূক্ত পাঁচ জঙ্গির মধ্যে বরগুনার তালতলী উপজেলার আমিনুল ওরফে আমির হোসেন (৩৭), খুলনার মুরাদ হোসেন (২০) ও বরগুনার আবু শাহাদাত মোহাম্মদ তানভীর (৩১), পলাতক রয়েছেন ঝালকাঠির বিকনা গাজী বাড়ি মসজিদের ইমাম ও বরগুনার তালতলী উপজেলার বেল্লাল হোসেন (২৭) ও ঢাকার উত্তরখানের সগির হোসেন ভূঁইয়া (৩৮)।
নিহত পিপি’র ছেলে ও মামলার বাদী তারিখ বিন হায়দার বলেন, মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। ন্যায় বিচারের জন্য সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ তিনি। নিহত পিপি’র সহধর্মিনী কহিনুর বেগম বলেন, যতদ্রæত সম্ভব রায় কার্যকর করা, যাতে উচ্চ আদালত থেকেও ছাড়া না পায়। অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইনের নামে স্মৃতি ফলক নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী অতিরিক্ত পিপি এম আলম খান কামাল বলেন, এ রায়ের মধ্য দিয়ে জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান রসুল বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট, আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সরকার ও বিচারকার্য পরিচালনায় সহায়তাকারীদের ধন্যবাদ।
//মোঃ আতিকুর রহমান/ উপকূল বাংলাদেশ/ঝালকাঠি/১১০২২০১৫//
