রাখাইনদের তৈরি কাপড় পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ

rakhine_weaving.jpgএইচএম এরশাদ, কক্সবাজার।। জেলার সাগর দ্বীপ মহেশখালী, সীমান্ত শহর টেকনাফ ও কক্সবাজার সদরে বেড়াতে আসা শত শত পর্যটকের অন্যতম আকর্ষণ রাখাইনদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী বেডসিট, শাল এবং ফতুয়া। রাখাইনরা মানসম্মত কাপড় তৈরি করায় দৃষ্টি কাড়ছে অসংখ্য পর্যটকের। মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা বাজার এলাকায় অবস্থিত রাখাইন পাড়ায় রাখাইনদের তৈরি বিভিন্ন কাপড়ের সম্ভার নিয়ে গড়ে উঠেছে ২০/৩০টি দোকান। কক্সবাজার সদরে রয়েছে ২ শতাধিক দোকান সম্মলিত ১৫টি বার্মিজ মার্কেট। যেখানে রাখাইন মহিলাদের আলাদা এক কাপড় তৈরির কারখানা। রাখাইন পাড়ায় গড়ে উঠা ওসব দোকানে রয়েছে রাখাইন তরুণীদের হাতে বুনা শাড়ি, শাল, থ্রি পিস, ফতুয়া, নকশী কাঁথা, বেডশীট, বিভিন্ন প্রকার ব্যাগ ইত্যাদি। তাদের মূল গ্রাহক বা ক্রেতারা হচ্ছেন, দেশ বিদেশ থেকে কক্সবাজার, টেকনাফ ও মহেশখালীতে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা। যদিও পূর্বের তুলনায় বর্তমানে বিক্রি অনেকটা কম। কাপড়ের আনুষঙ্গিক খরচ বাড়লেও সেই তুলনায় দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রাখাইন মহিলাদের। রাখাইন পাড়া ও বার্মিজ মার্কেট এর দোকানগুলোতে যে কোন প্রকার জিনিসের মূল ক্রেতা হচ্ছেন বেশির ভাগ মহিলা পর্যটক। যার ফলে দোকানগুলোতে সেলসম্যান হিসাবে তাদের সংখ্যাটা বেশি। ওসব দোকানও রাখাইন পলস্নীতে বিক্রেতাও বেশির ভাগ রাখাইন তরম্নণী। বর্তমানে ব্যবসার শোচনীয় অবস্থা উলেস্নখ করে রাখাইন মহিলারা বলেন, ঈদ, আদিনাথ মেলা, পূজার সময় ও শীতকালীন মৌসুমে বিক্রিটা ভাল হয়। জানা গেছে, মানসম্মত রাখাইন মহিলাদের তৈরি চাদরের মূল্য ২৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা, থ্রি পিস ৩৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ১শ’ টাকা, নকশী কাঁথা ৮শ’ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা, ফতুয়া ১৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, বেড শীট ৫৫০ থেকে ১ হাজার ২শ’ টাকা মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে বলে এ এলাকার রাখাইন মহিলা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। মহেশখালী উপজেলার ন্যায় পাড়া বা মহলস্নায় এত দোকান কঙ্বাজার জেলার অন্য কোন স্থানে নেই। বিভিন্ন জায়গা থেকে মহেশখালীর দর্শনীয় স্থান আদিনাথ মন্দির, বৌদ্ধদের রাখাইন মন্দির, লবণ মাঠ, চিংড়ি ঘের, পান বরজ, সমুদ্র সৈকত দেখতে আসা মানুষরাই ওসব দোকানে ভিড় জমায়। রাখাইন সম্প্রদায়ের দাবি, যদি সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের কাপড়ের ব্যবসার প্রতি সুদৃষ্টি দেন, তাহলে আবারও ঐতিহ্য ফিরে আনার ব্যাপারে আশাবাদী তারা। রাখাইন সমপ্রদায়ের বুড্ডিষ্ট ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উক্যাথিং জানান, সরকারের সদ্দিচ্ছার অভাবে রাখাইন পরিবারের মেয়েরা তাঁতী কাজে আগ্রহ হারাচ্ছে। সরকার ব্যাংক ঋণ বা কাপড় তৈরির সরঞ্জামাদি সংগ্রহে আর্থিক সুবিধা প্রদান করলে রাখাইন মহিলারা চকরিয়ার হারবাং, টেকনাফের চৌধুরী পাড়া ও মহেশখালীতে বিভিন্ন জাতের মানসম্মত কাপড় তৈরিতে সফল হবে।

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য