অবৈধ জালে জাটকা নিধন, বাজার সয়লাব

ঝাটকা, প্রতীকী চিত্রঝালকাঠি : ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে অবৈধ জাল দিয়ে ধরা হচ্ছে জাটকা (ছোট ইলিশ) । এতে সরকারের জাটকা সংরক্ষণ অভিযান হুমকিতে পড়েছে। ১০ ইঞ্চির ছোট ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ।মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, আশ্বিন মাসের নির্দিষ্ট সময়ে মা-ইলিশ নদীতে ডিম ছাড়তে আসে। ডিম ছাড়ার পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর গত বছর ১১ দিন নদীতে জাল ফেলা, ইলিশ শিকার, ক্রয়-বিক্রয়, বহন, পরিবহণ ও মজুত নিষিদ্ধ করে। ওই ১১ দিন হলো আশ্বিনের পূর্ণিমার তিন দিন আগে থেকে পরের সাত দিন।

ওই সময় ছাড়া ডিম থেকে বের হওয়া পোনা, মা-ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে মৎস্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসন নিয়োজিত আছেন। তার পরও জাটকা ইলিশে পরিণত হচ্ছে না। রোববার সুগন্ধা নদীতে দেখা যায় নৌকায় জেলেরা অবৈধ কারেন্ট জাল ও পাইজাল দিয়ে জাটকাসহ ছোট মাছ শিকার করছেন। এ ছাড়া সুগন্ধা, বিষখালী ও গাবখান নদীর মোহনা, নাচনমহল, ভবানীপুর এলাকা ঘিরে শত শত মশারি ও বেহুন্দি জাল দিয়ে শিকার করা হচ্ছে রেণু পোনা। এসব জালে শিকার হওয়া জাটকার দৈর্ঘ্য এক থেকে চার ইঞ্চি। সেই জাটকা প্রকাশ্যে শহরের বাজারগুলোতে এবং গ্রামের হাটে-বাজারে ভাগ দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এক ভাগে ১০-১২ টি জাটকা ১শ-১২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

রাজাপুর বাগড়ি বাজারের আড়তদার আঃ জলিল বলেন, ইলিশের পোনাগুলো ছোট হওয়ায় বরিশালের কোনো পাইকার কেনেন না। স্থানীয় পাইকারেরা এক ঝুড়ি জাটকা কেনেন ৪০০-৫০০ টাকায়। এক ঝুড়িতে যে পরিমাণ জাটকা থাকে, সেগুলোর একেকটির ওজন ১শ’-দেড়শ’ গ্রাম করে ওজন রয়েছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির ঝালকাঠি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, নদীতে পাতা বেহুন্দি, মশারি, চরঘেরা, পাইজালসহ সব অবৈধ জাল অপসারণ করা হলে বছরে ২ থেকে আড়াই কোটি টাকার মাছ উৎপাদন করা সম্ভব। এছাড়াও প্রচুর মশারি, চরঘেরা, বেহুন্দিসহ কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকা ধরা হলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তেমন কোনো অভিযান নেই।

সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগের ক্ষেত্র সহকারী কর্মকর্তা অধির কুমার বলেন, ২২ জানুয়ারি নদীতে অভিযান চালিয়ে ১ টি বাধা জালসহ মোট ৭ হাজার ১শ মিটার জাল আটক করা হয়। ইউএনও শামীমা ফেরদৌসকে জানিয়ে তা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। অভিযানে যে পরিমাণ খরচ হয়, সে অনুসারে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পুলিশ নদীতে অভিযান চালাতে পারছে না।

//মো. আতিকুর রহমান/উপকূল বাংলাদেশ/ঝালকাঠি/২৭০১২০১৫//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য