নির্মানের ৩ বছর পরও উদ্বোধন হয়নি
- ১২:৫৩
- ঘটনাপ্রবাহ, দুর্যোগ-দুর্বিপাক, প্রধান প্রতিবেদন, সর্বশেষ
- ২৩৯
আবদুল্লাহ জুয়েল, মনপুরা (ভোলা)॥ ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য ২০০৮ সালে ২ নং হাজির হাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের বাধেঁর হাট বাজারের কাছে আবহাওয়া অফিসের অত্যাধুনিক ভবনের নির্মানের কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০১০ সালের জুন মাসে।
প্রায় ৮৪ লক্ষ টাকার অত্যাধুনিক ভবনের নির্মানের কাজ শেষ হয়ে ৩ বছর পার হলেও উদ্বোধন করা হয়নি আজও। এমনকি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও লোকবল দেওয়া না হলেও ভবনটি পাহাড়া দেওয়ার জন্য ৪ জন আনসার সদস্য দেওয়া হয়েছে। তবে কবে নাগাদ অফিসটির কার্যক্রম শুরু হবে গণপূর্ত বিভাগের প্রকোশলী মানিক লাল দাস সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কেউ বলতে পারছেনা। ৪ জন আনসার সদস্যদের প্রত্যেকের মাসিক বেতন ৭ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ বিল, যাতায়াত সহ মাসিক গচ্ছা দিতে হয় সরকারকে ৩০ হাজার টাকা।
অফিস ঘুরে দেখা যায়, নেই কোন যন্ত্রপাতি। তবে ১ টি ট্রান্সমিটার, ১টি বৈদ্যুতিক মিটার ও ১টি টিওবয়েল রয়েছে। আর এগুলো পাহাড়া দিতে সরকার প্রত্যেক মাসে এ টাকা গচ্ছা দিতে হচ্ছে গত ৩ বছর ধরে। ঝড় জলোচ্ছ্বাস সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগের আগাম খবর মনপুরার জনগণকে পৌছে দেওয়ার লক্ষ্যে ২০১০ সালে অফিসটি নির্মান করে। কিন্তু সেই লক্ষ্য অধরা রয়ে গেল। উল্লেখ্য ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর প্রাকৃতিক র্দূযোগে প্রায় এ উপজেলায় ৭ হাজার মানুষের প্রান হানী হয়, এছাড়া সিডর, আইলা, সর্বশেষ ২০১২ সালের শীলাবৃষ্টিতে ৩ জন সহ একই বছরে ১০ অক্টোবর আকস্মিক ঝড়ে ১০ জনের প্রানহীন ঘটে। যা এ উপকূলবাসীকে আজও কাদাঁয়। উদ্বোধন সহ কোন কার্যক্রম না থাকায় মনপুরার আবহাওয়া অফিসটি কোন কাজেই আসছেনা বলছেন স্থানীয়রা।
দীর্ঘদিন থেকে এ উপজেলার মানুষ ঢাকা কিংবা ভোলা থেকে রেডক্রিসেন্টের ওয়ারলেস বার্তার মাধ্যমে কোনমতে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পান। কিন্তু সে বার্তাও পৌছায় না সব স্থানে। এদিকে, উপকূলীয় জেলা ভোলার বিচ্ছিন্ন চারদিকে নদীবেষ্টিত দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় প্রকৃতিক দুর্যোগের শংকা সব সময়ই বেশী থাকে। কিন্তু সে তুলানায় এখানের দুর্যোগ থেকে রক্ষার কোন ব্যবস্থা আজ গ্রহন করা হয়নি বলে অভিযোগ দ্বীপবাসীর। তাই দ্রুত আবহাওয়া অফিসটি চালুসহ দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার সকল ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।
