কাঁকড়ার কদর আছে, ন্যায্য দাম নেই!
আশাশুনি (সাতক্ষীরা) : দেশে-বিদেশে কাঁকড়ার কদর থাকলেও ন্যায্য দাম নেই। কাঁকড়া রপ্তানি করে সাতক্ষীরার উপকুলীয় অঞ্চল থেকে প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে ব্যবসায়ীরা মনে করেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় উদ্যেগ ও প্রক্রিয়াজাত করনের অভাবে বর্তমানে সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিসেম্বর-জানুয়ারি থেকে সুন্দরবন এরাকায় ঘটা করে কাঁকড়া ধরা হয়। শুকনো মৌসুমে সুন্দরবন এলাকায় ভাটার সময় ঝাঁকে ঝাঁকে কাঁকড়া দেখা যায়। এ সময় শিকারিরা বিভিন্ন উপায়ে কাঁকড়া ধরে থাকেন। সাগর উপকুলে বেন্তি জাল, খুচইন জাল ও শিক দিয়ে মাটি খুড়ে কাঁকড়া ধরা হয়। সাতক্ষীরা অঞ্চল থেকে কয়েক হাজার কেজি কাঁকড়া বিদেশে রপ্তানির জন্য ঢাকা খুলনায় পাঠানো হয়।
জানা গেছে, কাঁকড়া পানির আবর্জনাবুক্ত প্রনী। খাদ্য হিসেবে এটি বেশ উপদেয় ও পুষ্টিকর। এতে দশমিক ৭১ থেকে ৭৪ শতাংশ পানি রয়েছে।খনিজ পদার্থ আছে ১৯ থেকে ২৪ শতাংশ।জানুয়ারি মার্চ কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম।এ সময় টা কাঁকড়া ধরা বা শিকার বন্ধ করতে না পারলে এর উৎপাদন বাড়বে না।সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে অবস্থিত ডিপো মালিকদেরসাথে আলাপ করে জানা গেছে, হংকং, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাস্ট্র ও ভারতে কাঁকড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আন্তজাতিক ভাবে কাঁকড়াকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বাজারজাত করা হয়। ২৫০ গ্রাম ওজনের কাঁকড়াকে এ গ্রেড, ২৫০ এর নীচে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত বি গ্রেড এবং ১৫০ গ্রামের নিচে সি গ্রেডের পর্যায় ভুক্ত।
সুন্দরবন এলাকায় সাধারনত ১১/১২ প্রজাতির কাঁকড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে সাইলা বা শীলজাতীয় কাঁকড়া পাওয়া যায় সবচেয়ে বেশী।
সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজারে কাঁকড়া ব্যবসায়ি খোকন সরদার জানান, এ অঞ্চলে কাঁকড়ার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও তারা সঠিক মূল্য পাচ্ছে না। এখানকার আড়তদাররা জেলেদের কাছ থেকে কাঁকড়া কিনে তা খুলনার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয় করেন। বর্তমানে তাঁরা এ গ্রেডের কাঁকড়া ৭৫০ টাকা থেকে একহাজার টাকা, বি গ্রেডের কাঁকড়া ৫৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রয় করেন। শুধু এ গ্রেড বি গ্রেডের কাঁকড়া বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। সি গ্রেডের কাঁকড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রয় করা হয়।
আশাশুনির কুল্যা এলাকার কাঁকড়া চাষী জানান, এ এরাকায় উন্নত মানের কাঁকড়া থাকা সত্বেও প্রক্রিয়াজাত করনের অভাবে সে গুলো তারা নায্যা দামে বিক্রয় করতে পারছে না।
সাতক্ষীরা সদরের জোড়দিয়া গ্রামের কুদ্দুস জানান, আমরা স্থানীয় আড়তদারদের কাছে কাঁকড়া নাম মাত্র মূল্যে বিক্রয় করি।আড়তদার রা তাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে ঢাকায় চড়া দামে বিক্রয় করে।
দেবহাটা উপজেলার পারুরিয়ার কাঁকড়া ব্যবসায়ি সুকুমার জানান, শীতে কাঁকড়ার দাম ভাল পাওয়া যায়।কাঁকড়া বিশেষ প্রক্রিয়ায় বাঁশের ঝুড়িতে করে পরিহন যোগে ঢাকায় চালান দেন। ১০০ কেজি কাঁকড়া পাঠালে পাঁচকেজি মত মারা যায়। আর গরমে ১০০ কেজিতে কমপক্ষে ২০ কেজি মারা যায়। এ কারনে এগুলো রপ্তানির উপযোগি থাকে না। এ কারনে বেশী দামে স্থানীয় চাষী বা শিকারিদের কাছ থেকে বেশী দামে কাঁকড়া কেনা যায় না।
//সচ্চিদানন্দদেসদয়/ উপকূল বাংলাদেশ/আশাশুনি-সাতক্ষীরা/১৬০১২০১৫//
