নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে নির্বিচারে চিংড়ির পোনা আহরন

dsc00152.JPGজাকির হোসেন, আমতলী, বরগুনা।। আমতলীর পায়রা নদীর  আশার চর থেকে পটুয়াখালীর পায়রা কুঞ্জ পর্যন্ত অবাধে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিষিদ্ধ কারেন্ট ও নেট জাল দিয়ে নির্বিচারে বাগদা ও গলদা চিংড়ির পোনা আহরন চলছে।  উপজেলা মৎস্য অফিস পুলিশের সহায়তায় গত এক বছরে প্রায় ৭৭ লাখ টাকার জাল আটক করলেও পায়রা নদীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্ট ও নেট জাল দিয়ে পোনা আহরন বন্ধ হয়নি।পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতি ক্ষুদ্র ফাঁসের এ জাল থেকে অন্য মাছের পোনাও রেহাই পাচ্ছে না। একটি বাগদা পোনা সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রায় ৯৯ প্রজাতির মাছের পোনা তিন শতাধিক জলজ উদ্ভিদ ধ্বংস হচ্ছে। এর ফলে উপকূলীয় এলাকায় মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়বে।

আমতলী উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারী থেকে জুন মাস পর্যন্ত বাগদা চিংড়ির পোনা আহরনের মৌসুম। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিন  পায়রা  নদীর  আশারচর, বড়বগী, পঁচাকোরালিয়া, ফকিরহাট, আরপাঙ্গাশিয়া, আমতলী, বৈঠাকাটা, আঙ্গুলকাটা, কলাগাছিয়া ,পায়ড়াকুঞ্জ সহ উপকূলীয় এলাকায় প্রতিদিনই মশারি জাল দিয়ে বাগদা সহ বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ির পোনা আহরন করা হচ্ছে। জেলেরা চিংড়ি পোনা আহরনের সময় অন্যান্য প্রজাতির পোনা মাটিতে ফেলে দেয় । এভাবে চিংড়ির পোনা আহরন করায়, পোয়া, টেংরা, গুইলসাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা মরে যাচ্ছে । একারনে সাগর ও নদীতে আগের মতো আর এসব মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।   এসকল জেলেরা আবার তালতলীর আশার চর, পঁচাকোরালিয়া, মাঝের চর হরিন বাড়িয়ার চরে মৌসুম ভিত্তিক অস্থায়ী বসতী গড়ে তুলেছে। পোনা ব্যবসায়ী ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল ফরাজী বলেন, হ্যাচারির বাগদা পোনার তুলনায় নদী থেকে আহরিত পোনা ঘেড়ে ছাড়লে তাতে উৎপাদন অনেক বেশী হয়ে থাকে। এ কারনে ব্যাবসায়ী ও ঘের মালিকদের কাছে নদীর পোনার চাহিদা বেশী। দামও বেশী হওয়ায় জেলেরা পাল্লা দিয়ে নদী থেকে এ সময় পোনা আহরনে ব্যাস্ত থাকে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড: মো: লোকমান আলী বলেন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইনিষ্টিটিউট এর এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, একটি বাগদার পোনা আহরনে ৯৯ রকম বিভিন্ন মাছের পোনা ও ৩শ’ ১২ রকমের জলজ উদ্ভিদ ধ্বংস হচ্ছে। আমাদের মৎস্য সম্পদের জন্য এ ক্ষতি অপূরনীয়। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি দরিদ্র এ জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা করতে হবে। সে সাথে কারেন্ট জাল ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্র্কে স্থানীয় জনসাধারনকে আরো বেশী জানাতে হবে। যাতে তারা নিজেরাই সচেতন হয়। আমতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, নেট জাল দিয়ে পোনা আহরন সম্পুর্ন নিষিদ্ধ থাকলেও জেলেরা অবৈধভাবে পোনা সংগ্রহে নিয়োজিত রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে আলাপ করে খুব দ্রুত ব্যাপকভাবে পায়রা নদীতে পোনা নিধন রোধে অভিযান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন,নির্বিচারে  পোনা নিধনের ফলে মৎস্য সম্পদ হুমকির মুখে পড়বে। এতে সামুদ্রিক মৎস্য কমে আমিষের ঘাটতি দেখা দেয়ার আংশঙ্কা রয়েছে।

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য