উপকূলের গ্রামে বাল্যবিয়ে বাড়ছে, পুষ্টিহীনতায় মা ও শিশু
- ২১:১৮
- ঘটনাপ্রবাহ, প্রধান প্রতিবেদন, বিশেষ প্রতিবেদন, সর্বশেষ
- ২০৫
এনসানী আল মামুন: বাল্যবিবাহ প্রবনতা বরগুনার আমতলী ও তালতলীতে বেড়েই চলছে। বারছে কিশোরী মাতৃত্বের হার। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতার কারনে হত দরিদ্র পরিবারের কন্যা শিশুরা বাল্য বিয়ের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে বলিদান হচ্ছে। জাতিসংঘের সহযোগী উন্নয়ন সংস্থা ইউ এন এফ পি এ’র প্রতিবেদনে বাল্য বিবাহ প্রবনতা বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। এর বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলায়। গত তিন মাসে কমপক্ষে ৫০টি বাল্য বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তালতলীর শারিখালী ইউনিয়নের বাদুরগাছা গ্রামের মোশাররফ খানের ১১ বছরের মেয়ে আঞ্জুমারা, পচাঁকোরালীয়া ইউনিয়নের চন্দনতলা গ্রামের হারুন গাজীর ১৩ বছরের মেয়ে হালিমা বেগম,আমতলী সদর ইউনিয়নের চলাভাঙ্গা গ্রামের ওহাব মিয়ার নাবালিকা কন্যা তানজিলা,হলদিয়া ইউনিয়নের সোনাউটা গ্রামের ফজলু মোল্লার ১২ বছরের মেয়ে ফারজানা, আরপাঙ্গাশিয়ার জয়নাল মিয়ার নাবালিকা মেয়ে কুলসুম, নয়া বেঙ্গলীর সিদ্দিক মিয়ার কন্যা বিলকিস, গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়ার ওহাব মিয়ার ১২ বছরের মেয়ে রাবেয়া বাল্য বিয়ের কাঠগড়ায় বলিদান হয়েছে। অনুসন্ধান করে এ নাম পাওয়া গেছে। সমাজ কর্মী সজিব জানান বাল্য বিয়ের কারনে কিশোরী মাতৃত্বের হার ক্রমস্ব বাড়ছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহজাহান কবির বলেন হতদরিদ্র পরিবার গুলোতে অশিক্ষা-কুশিক্ষার প্রভাব ও জম্ম নিবন্ধন সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি থাকায় বাল্য বিয়ে রোধের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না। জনপ্রতিনিধি আবুল কালাম বলেন বাল্যবিয়ের ব্যাপারে একক জনপ্রতিনিধি’রা দাই না। জন সচেতনতার নামে সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সভা- সেমিনার করছে তা তৃনমুল পর্যায়ের গরীব দিন মজুরদের ঘরে পৌছে না। মাদ্রাসার সুপার আবু তাহের জানান বাল্য বিয়ের কুফল অনেক। ইমাম সাহেবদের বাল্যবিয়ের কুফল ও বাল্য বিয়ে নিরোধ আইন সম্পর্কে জ্ঞান দেয়া প্রয়োজন। নিকাহ রেজিষ্ট্রার কাজী জয়নাল আবেদীন বলেন কন্যার জন্ম সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। তিনি বলেন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মেয়েদের যে সনদ দেয়া হয় তাতে বয়স উল্লেখ থাকে ১৮ বছর কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সনদে বয়স থাকে ১৩ বছর। এ কারনে কাজী সাহেবদের বিবাহ রেজিষ্ট্রার করতে ঝুকির মধ্যে পরতে হচ্ছে। মাওলানা রাসেদুল ইসলাম বলেন বাল্য বিয়ে রোধে আইন আছে প্রযোগ নেই। তিনি আরো বলেন স্থানীয় প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বাল্য বিয়ে বন্ধের ব্যাবস্থা নিলে ভাল হয়। আমতলী সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন মৃধা বলেন দফাদার ও চৌকিদারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেখানে ব্যাল বিয়ের খবর পাওয়ার সাথে সাথে তাকে সংবাদ দেয়া হয়। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল্লাহ বলেন বাল্য বিয়ের খবর পেলে তাৎক্ষনিক ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে। অনুসন্ধান করে দেখা গেছে আমতলী ও তালতলী উপজেলায় গত তিন মাসে একটি বাল্য বিয়ে বন্ধ হয়েছে কিংবা আদালত সাজা দিয়েছে এমন নজির পাওয়া যায়নি।
