উদ্যানের সবুজ ঘাসে উপকূলের তরুণ বন্ধুদের সম্মিলনী

dscn0019.JPGনিজস্ব প্রতিবেদক॥ গতকাল বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৩, বিকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যনের সবুজ ঘাসে উপকূলবাসী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সম্মিলনী বসেছিল। ঢাকায় অবস্থানরত উপকূল অঞ্চল থেকে আসা এই শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়া উপকূল অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে চান। এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারা বলেন, উপকূলের বিভিন্ন সমস্যা নীতিনির্ধারক মহলে তুলে ধরতে উপকূলের তরণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণেরা সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন ধরণের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র সোহায়েব রানা বলেন, তৃণমূলের মানুষদেরকে কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা ফেইজবুকে গ্রুপ করতে পারি। পত্রিকায় লেখালেখি করতে পারি। উপকূল ভিত্তিক অনলাইন পত্রিকা উপকূল বাংলাদেশ-এর একটি মূদ্রণ সংখ্যা প্রকাশ করে উপকূলের মানষের কাছে ছড়িয়ে দেয়া যেতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্রী সালমা বেগম বলেন, আমরা অনেক সংগ্রাম করে পড়াশুনা করে এই পর্যন্ত এসেছি। এই সংগ্রামের কথা আমরা ছাড়া আর কেউ বুঝতে পারবে না। সুতরাং আমরা এ বিষয়ে কাজ করলে সেটা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। ঢাকায় আমরা যেমন কাজ করবো, তেমনি উপকূলের বিভিন্ন এলাকায়ও কার্যক্রম চালাতে হবে। যাতে কেন্দ্রের সঙ্গে তৃণমূলের যোগাযোগ বাড়ানো যায়।

dscn0022.JPGঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিরাজ হোসেন শান্ত বলেন, উপকূলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় পড়াশুনারত ছাত্রছাত্রীরা একত্রিত হয়ে এলাকার জন্য অনেক কিছুই করতে পারে। ভালো কাজে বেশি লোক পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সেলিম হোসেন বলেন, সাধারণত আমরা ঢাকায় পড়াশুনা করতে আসি। ভালো একটা চাকরি খুঁজি। চাকরি পেলে এলাকার কথা ভুলে যাই। শেকড়ের কথা আর আমাদের মনে থাকে না। নিজের এলাকার জন্য কিছু করার কথা অনেকে হয়তো ভাবে; কিন্তু করার জন্য কোন সুযোগ পায় না। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করতে পারি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিঙ্গুষ্টিক বিভাগের ছাত্র আমানউল্লাহ বলেন, আমরা কিছু সভা-সেমিনার করতে পারি। লেখালেখির চর্চা করতে পারি। তবে এসব কাজ করতে হলে আমাদের একটি সাংগঠণিক কাঠামো দাঁড় করাতে হবে।

সভার সম্বয়ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট রফিকুল ইসলাম (মন্টু) বলেন, উপকূলের তথ্য নীতিনির্ধারণী মহলে তুলে ধরতে আমি উপকূল ঘুুরে প্রতিনিয়ত রিপোর্ট করছি। বাংলানিউজে প্রায় প্রতিদিনই আমার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। আমি চাই উপকূলের তরুণরা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হোক।

শেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

dscn0031.JPG

বাতিঘর। এক ভিন্ন উদ্যোগ। ব্যতিক্রমী আয়োজন। পথ দেখাবে উপকূলের মানুষকে। ঠিক অন্ধকারে টর্চের আলোর মত। চলার পথে কোথায় গভীর খাদ আছে, কোথায় বা আর পা ফেলার সুযোগ নেই, সেই পথ নির্দেশ করবে বাড়িঘর। এটা উপকূলের কিশোর-তরুণদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি ঘর। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত উপকূলে কিংবা ঢাকায় অবস্থানরত কিছু স্বপ্নের কারিগর। স্কুলে, কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছেলেমেয়েদের মধ্যে যারা উপকূল উন্নয়নে কিছু একটা স্বপ্ন দেখেন তারাই বাতিঘরের ছায়াতলে সমবেত।

উপকূল ভাবনায় জাগিয়ে রাখা কিশোর-তরুণদের একত্রিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে বাতিঘর। নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নের পাশাপাশি তারা স্বপ্নের কথা, ভাবনার কথা বাতিঘরের দেয়ালে লিখতে পারবে। লেখার মাধ্যমে স্বপ্নবাজ উদীয়মান নতুন প্রজšে§র ভাবনাগুলো একাকার হয়ে যাবে। একদিকে রাজধানীতের অবস্থারনত উপকূলের তরুণদের জোট, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ের স্কুল-কলেজ পড়–য়া তরুণদের সংগঠিত হওয়া। এদের মধ্যে রচিত হবে এক নতুন সেতুবন্ধন। আর এভাবেই একদিন নতুন স্বপ্নের যাত্রায় মিলিত হবে সবাই।

স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, যে যেখানেই অধ্যায়ন করুক না কেন, এই সময় থেকেই লেখালেখির অভ্যাসটা গড়ে ওঠা উচিত। অনেক ছেলেমেয়েদের মধ্যে লেখার অদম্য ইচ্ছা থাকলেও পারছে না। এমনকি উপকূলের অনেক প্রত্যন্ত গ্রামেও কিশোর-তরুণদের মধ্যে লেখার উদ্যম দেখেছি। একমাত্র সুযোগের অভাবেই এই প্রতিভা ছাইচাপা পড়ে। আজকের অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা শেষ করে একদিন বড় চাকরি করবে। বাইরে কোথাও লিখতে না হলেও তাকে অন্তত দাপ্তরিক চিঠিপত্র লিখতে হবে। অথবা তার সহকারীর লেখাটা তাকে সংশোধন করতে হবে। এই জন্যে হলেও লেখালেখির অভ্যাসটা পড়–য়া জীবন থেকেই চর্চায় নিয়ে আসা উচিত।

আপনি কী ঢাকায় বসবাসকারী উপকূলের বাসিন্দা? উপকূল নিয়ে কিছু করার কথা ভাবছেন? আমাদের সহযাত্রী হতে চান? মেইল করুন। ঠিকানা: info@coastalbangladesh.com

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য