জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অতিথি পাখি আসছে না
- ১৬:১৮
- জলবায়ু পরিবর্তন, প্রধান প্রতিবেদন, বিশেষ প্রতিবেদন, সর্বশেষ
- ৪২১
নাছিউর রহমান, ভোলা ॥ ভোলার অদ্যশত চরসহ দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে এই বছর এখনো উল্লেখ্যযোগ্য অতিথি পাখির বিচরন দেখা যাচ্ছে না। গত বছর এই সময় ঝাকে ঝাকে অতিথি পাখির বিচরন থাকলেও এ বছর হঠাত করে এই অতিথির পাখির আসা ব্যজ্ঞাত ঘটেছে। পাখি বিশেষজ্ঞরা জলবায় পরিবর্তনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে জানাগেছে, তাদের মতে ভোলার ২১টি চরাঞ্চলে দেশের সর্বাদিক পাখি বিচরন করে থাকে। এ বছর চরাঞ্চলে আর ঐ পাখি দেখা যাচ্ছে না।
জলবায় পরিবর্তনের কারনে ভোলা জেলে দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় পানি থেকে শুরু করে জমি পর্যন্ত সর্বত্রই লবনাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবেশের লবনাক্ততার প্রভাব ও প্রকৃতিক ভাসাম্যতার কারনেই অতিথি পাখি কম আসছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
চরফ্যাশন উপজেলার, সাগর কূলের চর ইউনিয়ন ঢালচর, পাতিলা ও কুকুরী, এই উপজেলার চর কলমী ইউনিয়নের তেতুলিয়া নদীর মধ্যবত্তি চর মোতাহার, চর শাহাজালাল, চর সিকদার,চর মনোহর, চর লিউলিন,চর ষ্টিফেন,চর বাংলা,চর মোনতাজ, পূর্ব চর বিশ্বাস, চর আশ্ররাফ আলম,কালকিনি, সোনার চর, বদনার চর, চর ফারুকি, চর নিরারা, চর হাসিনা, চর ফকিরা, খোরচির চর, চর আলাউদ্দিন, চর কুরাইলা, লক্ষির চর। মনপুরা উপজেলার, চর নিজাম, কলাতলির চর, ঢালচর, গোরিন্দার চর, চর পিয়াল। ভোলার ভেলুমিয়া, মাঝের চর, ভেদুড়িয়া, টেংড়ার চর, দৌলতখানের মদন পুরসহ ৫০টি চরে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে চার লক্ষ অতিথি পাখি এসে থাকে এই শীতের মৌসুমে।
গতবছর পাখিশুমারি শেষে পাখি ্িবশেষজ্ঞ শাজাহান সরদার, এমনটাই বলেছেন। তার ভাষায় দেশে মাই গ্রোট পাখিদের বিচরন ক্ষেত্র হচ্ছে, উপকূলীয় অসংখ্য নতুন চর ও নিম্নাঞ্চল। গত বছর চর শাহাজালাল সহ ১১টি চরে দেড় লক্ষ কমনস্যাল ডাক (হাঁস) চর চর পাখি দেখা গেছে। গত বারের শুমারিতে এই অঞ্চলে রাজমনির হাস, রেডিসেল ডাক, ব্যালাক হেডেস, আইবিজ,হোয়াইট স্পন,ছোট বক,ইন্টারমিডিয়েট পিকগ্রেন্ড,ধুসর বক,ব্যালাক ট্রেইল, গত উইডসহ অসংখ্য বিরল প্রজাতির পাখি ভোলার চরাঞ্চলে দেখাগেছে। পাখিদের সংখ্যা প্রায় সারে চার লাখ।
এ বছর এ্কই সময় গুটিকয়েক পাখি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চরফ্যাশনের চর মোতাহারের সাহফুদ্দিন নসু জানান, এ বছর জলবায়ু পরিবতনের ফলে চরাঞ্চলে লবনাক্ততার পরিমাণ বেড়ে গেছে। ইতিমেধ্য পরিবেশে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়াও দেখাগেছে। এসব কারনে অতিথি পাখি কম আসছে। তাছাড়া চরাঞ্চলের ধান চিটা হয়ে যাওয়ায় ধান ক্ষেত্রে পাখি পড়ছে না।
চরফ্যাশনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য ছুট্র মেম্বার জানান, প্রতিবছর নভেম্বর -ডিসেম্বর মাসেই ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসতে শুরু করে । কিন্তু এবার চরফ্যাশনের দক্ষিণ উপকূলের চরাঞ্চল গুলোতে আর আগেরমতো অতিথি পাখি দেখা যাচ্ছে না। নিলকমল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন লিখন জানান, প্রতিবছর হালকা শীত আসার সাথে সাথেই চরফ্যাশনের দক্ষিণ পশ্চিম এলাকার চরাঞ্চলগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসতে দেখাযেতো। এবছর পাখি আসলেও আগের তুলনায় খুবই কম।
জলবায়ু পরিবর্তনই এর কারণ হতে পারে। এমনিতেই বিগত দিন গুলিতে উপকূলীয় এলাকায় আইলা, সিডর ও নারগিসের আক্রমনের পর উপকূলীয় এলাকার পাখির আবাসস্থল বলে পরিচিতি এলাকাগুলোতে বেশির ভাগ গাছ পালায় লবনাক্ততার করনে মরন রোগ দেখা দিয়েছে । কোথায়ও আগের মতো তেমন কোন ঝোপ ঝাড় নেই।
এদিকে, চরফ্যাশন উপজেলার কুকুরী-মুকুরি,সিকদারচরসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থাণীয় সংবাদকিরা গিয়ে দেখেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে এই এলাকাগুলোতে লবনাক্ততা বেড়ে গেছে। গাছের মড়ক লেগেই আছে। আর এর কারনেই চরাঞ্চলে অতিথি পাখির বিচরন কম বলে মনে করেছেন।
তবে এ বছর কোন দ্বপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত পাখিশুমারি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পাখি শুমারি দলের এক সদস্য লালমোহনের সাংবাদিক জসিম জনি জানান, তারা ইতি মধ্যেই তেতুলিয়া নদীর ভক্ষে অবিস্থত কয়েকটি চরে ঘুরে এসেছেন। জানুয়ারী পর্যন্ত পাখিদের আগমনের উপর তাদের পর্যবেক্ষণ চল্েব।
অন্যদিকে, ভোলার মেঘনা বৃস্থিত নেয়ামতপুর ,মাঝেরচরসহ কিছু নিম্মাঞ্চলে বাঁধিসাহ সহ কিছু পাখির আনাগোনা লক্ষ করাগেছে।
