উপকূলবাসীর প্রত্যাশার প্রতিফলন, পায়রা সমুদ্র বন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল
- ১৭:৫৫
- প্রধান প্রতিবেদন, সর্বশেষ
- ৩৮৬
মেজবাহউদ্দিন মান্নু, কলাপাড়া।। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। আগামি সংসদ নির্বাচনে বিএনপি/জমায়াত ক্ষমতায় আসলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে নির্মাণ করা পায়রা সমুদ্র বন্দর, শের-ই-বাংলা নৌঘাঁটিসহ দেশের সকল উন্নয়ন আওয়ামী লীগ করেছে তা বাতিল হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বিএনপি/জামায়াত জোটকে সন্ত্রাসী অবহিত করে বলেন, তারা বোমা মেরে মানুষ খুন করছে। গাড়ি-বাড়ি পুড়ে দিচ্ছে। এই জঙ্গীদের ঠেকাতে হলে এবং দেশকে রক্ষা করতে আগামি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফের ক্ষমতায় আনতে হবে। মঙ্গলবার দুপুরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার রামনাবাদ মোহনায় আন্ধার মানিক নদীর তীরে টিয়াখালীতে দেশের তৃতীয় ‘পায়রা সমুদ্র বন্দর’ প্রকল্প কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে আয়োজিত এক সুধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেন, একসময় বরিশাল ছিল শস্য ভান্ডার। সেই সম্পদ গণমানুষের কোন কাজে লাগানো হয় নি। ঘটেনি এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ দেশে উন্নীতের জন্য পাশ্চাত্যের সুইজারল্যান্ড গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে স-পরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে। শেখ হাসিনা বলেন, ৩৮টি বছর এই দেশের মানুষ ভোটের-ভাতের অধিকারে সংগ্রাম করেছে। ১৯৯৬ সালে দেশের মানুষ তাদের সরকারকে খুঁজে পেয়েছিল। ১৯৯৬-২০০১ ছিল এই দেশের মানুষের সেই স্বর্ণকাল। এরপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে না পারায় মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয় নি। বিএনপি ক্ষমতায় এসে নিজেদের আখের গোঁছাতে, লুটপাটে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এই এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সমুদ্র বন্দর নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। দক্ষিণের জনপদে, নদীতে-সাগরে ট্রলার কিংবা লঞ্চে নিজের ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র সম্পদ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজে লাগানোর জন্য পায়রা সমুদ্র বন্দর করা হয়েছে। শান্তির প্রতীক পায়রা হওয়ায় এই নামকরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। শেখ হাসিনা আরও বলেন একদিকে সমুদ্র বন্দর অপরদিকে নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করতে লালুয়ায় শের-ই-বাংলা নৌঘাঁটি স্থাপন করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই এলাকায় জাহাজ ভাঙ্গা এবং মেরামত অর্থাৎ জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্প গড়ে তোলা হবে। কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টার থেকে নেমেই সরাসরি পায়রা সমুদ্র বন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শান্তির প্রতীক পায়রা আকাশে উড়িয়ে। করেন উদ্বোধন ফলকের উম্মেচন। পায়রা বন্দরের সুধি সমাবেশ পরিণত হয় জনসমুদ্রে। সুধি সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহম্মদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নৌ-মন্ত্রী আলহাজ শাজাহান খান, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মাহবুবুর রহমান এমপি, নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি, জাতীয় সংসদের হুইপ নুর-ই আলম চৌধুরী লিটন এমপি, নৌ-বাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব। সভাপতিত্ব করেন নৌ-সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স্র, শিশু একাডেমি কমপ্লেক্স ও বাউফল উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে এখানকার মানুষের আরেক প্রত্যাশিত কুয়াকাটাগামী বিকল্প সড়কের বালিয়াতলী পয়েন্টে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু, লালুয়ায় শের-ই-বাংলা নৌ-ঘাটি, পটুয়াখালীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন, বাউফল থানা ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী টিয়াখালী পোতাশ্রয় হতে বানৌজা সুরমাযোগে রামনাবাদ চ্যানেল সংলগ্ন ‘শের-ই-বাংলা’ নৌঘাঁটি এলাকা পরিদর্শন করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী কলাপাড়ায় এসে পৌঁছালে নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আহমেদ তাঁকে অর্ভ্যথনা জানান । জাহাজে দুপুরের খাবার সেরে নেন। আদায় করেন জোহরের নামাজ। এরপরে কপ্টারযোগে তালতলীর উদ্দেশে যাত্রা করেন।
বন্দর চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে বলেছেন, মাদার ভ্যাসেলকে বহির্নোঙ্গরে রেখে লাইটার জাহাজে এই বন্দর দিয়ে পণ্য ওঠা-নামা করা যাবে। পণ্য হ্যান্ডলিংএর যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। এখানে সংযোগ সড়কের কাজ করা হচ্ছে। নেভিগেশনের কাজ করা হচ্ছে। এই বন্দর এলাকা এক্সক্লুসিভ জোনে পরিণত হবে। এছাড়াও নৌবাহিনীকে আধুনিক ও ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে খুব শীঘ্রই সাবমেরিন সংযোজিত হতে যাচ্ছে। দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দরের পাশে স্থাপিত এই স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আধুনিক নৌঘাঁটিতে নৌ কমান্ডো, এভিয়েশন, জাহাজ ও সাবমেরিন বার্থিং সুবিধা থাকবে। এই ঘাঁটি দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মধ্যবর্তী হওয়ায় এখান থেকে নেভাল এভিয়েশান কার্যক্রম পরিচালনা করে দেশের বিস্তৃত সমুদ্র এলাকায় নজরদারী রক্ষা করা সম্ভব হবে। তাছাড়া সমুদ্রে মোতায়েনকৃত জাহাজ সমূহে লজিষ্টিকস্ সুবিধা প্রদান সহজতর হবে। এই ঘাঁটির মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অপরাধ দমনে নৌবাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে পারবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে সাধারণ জনগণের জানমাল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া নৌবাহিনী তার নিজস্ব বিভিন্ন অপারেশনাল ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে এ অঞ্চলের জনগণের জন্য সরকারের গৃহীত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতেও সক্ষম হবে। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শের-ই-বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক এর নামানুসারে প্রায় ৫০০ একর জমির উপর স্থাপিত এই ঘাঁটির নামকরণ করা হয়েছে ‘বানৌজা শের-ই-বাংলা’।
