উপকূলজুড়ে আনন্দের জোয়ার, বহুকাঙ্খিত পায়রা সমুদ্রবন্দর উদ্বোধন আজ
- ২২:০৩
- প্রধান প্রতিবেদন, সর্বশেষ
- ২২৭
মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া।। বর্ণিল সাজে সেজেছে পায়রা সমুদ্র বন্দর প্রকল্প এলাকা। আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বন্দরের প্রকল্প কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। বহুকাঙ্খিত পায়রা সমুদ্র বন্দর কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সাগরপারের জনপদ পর্যটন শহর কলাপাড়ার গোটা উপকূলের লাখো মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসব মুখর পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে দেয়া হয়েছে কলাপাড়া পৌর শহরসহ পায়রা বন্দর এলাকা।
পায়রা বন্দর প্রকল্প কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট সরদার বেল্লাল হোসেন জানান, নদীরপাড় ঘেঁষে প্রকল্প এলাকায় বালু ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। করা হয়েছে সড়ক। বসানো হয়েছে বিদ্যুত লাইনের খুঁটি। সোলার সিষ্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুত সরবরাহ চালু করা হয়েছে। কন্টেইনারসহ পণ্যসামগ্রী ওঠা-নামা করাতে ক্রেন সংযুক্ত করা হয়েছে। গভীর নলকূপ, টার্মিনাল ভবনসহ জেটি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দু’টি পন্টুন, একটি প্রশাসনিক ভবন ও একটি গুদাম নির্মাণ করে বন্দরের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হচ্ছে। শত শত শ্রমিক এসব কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ছোট ভ্যাসেলের মাধ্যমে পণ্য খালাসের মধ্য দিয়ে এই বন্দরের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বর্ণিল সাজে সজ্জিত রয়েছে প্রকল্প এলাকা। সু-সজ্জিত প্রধান ফটকে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা প্রহরা।
আজ বেলা সাড়ে এগারটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে বহুকাঙ্খিত পায়রা সমুদ্র বন্দর প্রকল্প কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ছাড়াও একই অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স্র, শিশু একাডেমি কমপ্লেক্স ও বাউফল উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে এখানকার মানুষের আরেক প্রত্যাশিত কুয়াকাটাগামী বিকল্প সড়কের বালিয়াতলী পয়েন্টে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু, লালুয়ায় শের-ই-বাংলা নৌ-ঘাটি, পটুয়াখালীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন, বাউফল থানা ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন। সমাবেশ শেষে নৌ-বাহিনীর জাহাজে আরোহন করে সমুদ্র বন্দর এলাকা পরিদর্শন করবেন। এরপরে বরগুনার তালতলীতে জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। সুধি সমাবেশকে মহাসমাবেশে পরিণত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে ব্যাপক জনসংযোগ চলছে। দিনরাত চলছে মাইকিং। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা কলাপড়া পৌর শহরসহ গ্রামের হাঁট-বাজারে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ ও শুভেচ্ছা মিছিল চলছে। পাশাপাশি শত শত কর্মীরা প্রত্যেকদিন সন্ধ্যায় শুধু শেখ হাসিনা ও নৌকা এই শ্লোগানে মুখরিত করে রাখছে সাগরপারের জনপদ। মোটকথা প্রধানমন্ত্রীর আগমন এবং সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে গোটা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মাঝে বিরাজ করছে উৎসব মুখর পরিবেশ। সর্বত্র সাজ সাজ রব পড়ে গেছে।
সংশ্লিষ্টসুত্রে জানা গেছে, রামনাবাদ চ্যানেলে সমুদ্র বন্দর স্থাপনের লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ৫ আগস্ট মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ অর্ডিন্যান্স-২০১৩ অনুমোদিত হয়। একই বছরের ৫ নবেম্বর নবম সংসদের ১৯তম অধিবেশনে পায়রা বন্দর অর্ডিন্যান্স পাশ হয়। পায়রা বন্দরের পুর্ণাঙ্গ অবকাঠামো নির্মাণ করতে ১০ বছরের ১৫ হাজার কোটি টাকার ব্যয় হবে।
এছাড়া কলাপাড়ার লালুয়ায় শের-ই-বাংলা নৌঘাটি স্থাপনের লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহনের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন। সংশ্লিষ্টসুত্রে জানা গেছে, নৌÑঘাটি স্থাপনের ফলে দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সমুদ্রে ডাকাতি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চোরাচালান, অস্ত্র পাচার, অবৈধ মৎস্য আহরণ, সমুদ্র দূষণ ইত্যাদি কার্যক্রমে নৌবাহিনীর জাহাজসমূহ আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে। দেশের যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ সাহায্য পাঠানো সম্ভব হবে। যুদ্ধকালীন সময়ে নৌবাহিনীর জাহাজগুলোকে বিচ্ছিন্ন ও দূরবর্তী স্থান থেকে পরিচালনা করে শক্রপক্ষের ইষড়পশধফব অপারেশন্স অকার্যকর করা সম্ভব হবে। নৌবাহিনীর ফাস্ট এ্যাটাক ক্রাফট এর মাধ্যমে শক্র পক্ষের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে অপারেশন্স পরিচালনা করা সহজতর হবে। যুদ্ধকালীন সময়ে নৌবাহিনীর অপারেশনাল যুদ্ধসরঞ্জামাদি পৌঁছানো সহজতর হবে। পোতাশ্রয় থেকে সমুদ্রমুখে ১৫ ন্যটিক্যাল মাইল প্রাকৃতিক ভাবে সাবমেরিন হুমকি হতে মুক্ত হওয়ায় জাহাজ সমুদ্রে গমন ও প্রত্যাবর্তনে শক্ররা কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরী করতে পারবে না।
