কোন্দলে ঝালকাঠি বিএনপি যু্বদল ছাত্রদল!
- ২৩:৫১
- উপকূল আজ, উপকূল সংবাদ, ঝালকাঠি জেলা, প্রান্তের রাজনীতি, বিশেষ প্রতিবেদন, বিশেষ বিভাগ, মধ্য-উপকূল, শীর্ষ সংবাদ, সর্বশেষ
- ২২০
ঝালকাঠি : ঝালকাঠি জেলা বিএনপি ও যুবদল দীর্ঘ দিন যাবত দু’গ্রুপে বিভক্ত রয়েছে। জেলা বিএনপি নিয়ন্ত্রণ করছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপি সভাপতি ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম এবং যুবদল নিয়ন্ত্রণ করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা, বিএম কলেজের সাবেক ভিপি মাহবুবুল হক নান্নু।
তবে ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাফায়াত হোসেন সরদার, যুগ্ম আহ্বায়ক মুশফিকুর রহমান বাবু, আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে ছাত্রদলের একটি গ্রুপ রয়েছে নান্নুর নিয়ন্ত্রণে এবং জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক সাজু, এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিন, তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন গ্রুপটি রয়েছে শাহজাহান ওমরের নিয়ন্ত্রণে।
বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচী দু’গ্রুপই পৃথকভাবে পালন করছে। ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাফায়াত প্যানেলের গ্রুপ যুবদলের সাথে একত্রিত হয়ে এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজু প্যানেলের গ্রুপ জেলা বিএনপির সাথে দলীয় কার্যক্রমে অংশ গ্রহন করছে।
দুটি গ্রুপে বিভক্ত হওয়ায় দায়সারাভাবে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে বলে সচেতন রাজনৈতিক মহলের অভিমত। বিগত আন্দোলন সংগ্রামেও দায়সারা কর্মসূচী পালন করতে দেখা গেছে। এমতাবস্থায় নান্নুর ঘণিষ্ঠজনরা দায়ী করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান ওমরকে। তারা বলছেন শাহজাহান ওমরের কারসাজিতে ঝালকাঠি ছেড়েছেন মাহবুবুল হক নান্নু। আধিপত্যের লড়াই এবং নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখতেই নান্নুকে জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখেনি শাহজাহান ওমর। একারণেই দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে মূল দল ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এছাড়া ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-২(সদর-নলছিটি) আসনে মাহবুবুল হক নান্নুর মনোনয়ন পেতে শাহজাহান ওমর বিরোধিতা করায় এ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয়। যার কারণে সাবেক এমপি ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচনে হেরে গেলে আ’লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আমির হোসেন আমু বিজয় লাভ করে। ঢাকায় বসে বিএনপির এ কেন্দ্রীয় নেতাদ্বয় জেলা ও তৃণমূলের কলকাঠি নাড়ছেন। নান্নু পন্থিরা মনে করছেন শাহজাহান ওমর চান না ঝালকাঠিতে তার বিকল্প অথবা সমকক্ষ কোন নেতা তৈরী হোক। তাই জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাহবুবুল হক নান্নুকে কৌশলে মূল কমিটি থেকে সরিয়ে দিয়ে উপদেষ্টা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
তবে নেত্রী (চেয়ারপার্সন)কে দেখাতে তিনি নান্নুতে নাম সর্বস্ব উপদেষ্টা কমিটিতে রেখছেন। অনুসন্ধানে জানাগেছে, ১৯৯১ সালে বিএনপির ক্ষমতামলে বরিশাল সরকারী ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএম কলেজ) জিএস ছিলেন মাহবুবুল হক নান্নু। পর্যায়ক্রমে নান্নু বিএম কলেজের ভিপি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। বিএনপি ঘোষিত আন্দোলন সংগ্রাম কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে একাধিকবার কারাবরণ করেন তিনি।
অপর দিকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্বে ৯ নং সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তৎকালীন সেনাবাহিনীর ক্যাপটেন শাহজাহান ওমর অংশ নেয়। এরপরে মেজর জিয়াউর রহমানের সাথে সিপাহী বিপ্লবে অংশ নিয়ে তিনি বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন। ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে একাধিকবার নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে জয়লাভ করে। ইতোমধ্যে তিনি লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যারিস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন। জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবেও তিনি দীর্ঘ দিন দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে ৪ দলীয় জোট জয় লাভ করলে প্রথমে তিনি ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হন। পরে তাকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করেন ৪ দলীয় জোট নেত্রী ও তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
এসব ব্যাপারে মাহবুবুল হক নান্নু জানান, বিএনপির আন্দোলন সংগ্রাম কর্মসূচীতে সামনের সারিতে থেকে এক সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছি। একারণে আওয়ামীলীগ ক্ষমতার আমলে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। ব্যক্তি স্বার্থ নয়, শহীদ জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য কখনো পিছ পা হইনি। তিনি শাহজাহান ওমরের সমালোচনা করে বলেন, তিনি রাজনীতি করে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য। যে কারণে তার সবসময় লক্ষ থাকে জেলা বিএনপির শীর্ষ পদটি দখলের জন্য।
ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি দেশ রক্ষার জন্য। দেশ ও দলের জন্য কাজ করে জীবন প্রায় পার করে দিয়েছি। সমুদ্রের পাশে খাল থাকলে যেমন সমুদ্রের কোন ক্ষতি হয় না, তেমন দলের মাঝে দু’একটা ছেলে-পেলে অন্য মনের থাকলে থাকলে তাতেও আমার কিংবা দলের কিছু আসে যায় না।
//মো. আতিকুর রহমান/উপকূল বাংলাদেশ/ঝালকাঠি/০১১২২০১৪//
