রাজাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শুধু নেই আর নেই!
- ২৩:৫০
- অসুখ বিসুখ, উপকূল আজ, উপকূল সংবাদ, ঝালকাঠি জেলা, মধ্য-উপকূল, সর্বশেষ
- ২০৮
ঝালকাঠি : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডেন্টালের চিকিৎসক (সার্জন) থাকলেও যন্ত্রপাতি ও ঔষধ নেই। ১শ’২২টি পদের মধ্যে ৪জন ডাক্তারসহ ১৬টি পদ শূন্য রয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে ডাক্তার না থাকায় সেবা বঞ্চিত হচ্ছে হতদরিদ্র ও সাধারণ মানুষ।
হাসপাতালের ডাক্তার না থাকায় নষ্ট হচ্ছে এনেসথিসিয়া (অজ্ঞান) মেশিন এবং অপারেটর না থাকায় এক্সরে মেশিনটি। এক্সরে মেশিনটি না থাকায় এ উপজেলার সাধারণ গরিব মানুষ যে কোন এক্সরের জন্য বাহিরের ডায়াগনোস্টিক থেকে চড়ামূল্যে এক্সরে করাতে বাধ্য হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সূত্রে জানা গেছে, জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী) ১জন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ১জন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেসথিসিয়া) ১জন, মেডিকেল অফিসার ১জন, ক্যাশিয়ার ১জন, মেডিকেল টেকনিশিয়ান ল্যাবরেটরি ২জন, মেডিকেল টেকনিশিয়ান রেডিওলোজিস্ট ১জন, ফার্মাসিস্ট ১জন, টিএলসিএ ১জন, স্বাস্থ্য সহকারী ১জন, নিরাপত্তা প্রহরী ১জন ও ঝাড়–দার ৩ জনের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
এতে এ উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ২ লক্ষাধিক মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ছাড়াও যেকোনো পরীক্ষা নিরীক্ষার বা ডাক্তার না থাকার কারণে নানা ভোগান্তির শিকার মানুষ দিন দিন স্বাস্থ্য কেন্দ্র বিমুখ হয়ে উপজেলার মানুষ ক্লিনিক নির্ভর হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া ডাক্তার না থাকার কারণে ক্লিনিকে অথবা ঝালকাঠি, বরিশাল গিয়ে গরিব-সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে মোটা অঙ্কের চাহিদা পূরণে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে দিনদিন। চিকিৎসা করাতে গিয়ে ধার দেনা ও ঋণের বোঝাও মাথায় নিতে হচ্ছে অনেককে।
জানাগেছে, বহু বছর পর ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করার লক্ষে ১৮/৮/২০০৯ ইং তারিখে ৫০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধনের প্রায় ৫ বছর অতিবাহিত হলেও তা মঞ্জুরি না হওয়ায় কার্যক্রম শুরু হয়নি। যদিও ৫০ শয্যার নতুন ভবনের কিছু অংশে কোন মতে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে কার্যক্রম চলছে। এর ফলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া কিছুই পায়নি এ উপজেলার জনগণ।
ডেন্টাল সার্জন ডা: মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, গত ২৩ আগস্ট রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগদানের পর থেকে কোন যন্ত্রপাতি ও ঔষধপত্র না থাকায় রোগীদের সমান্যতম চিকিৎসা দেয়া যাচ্ছে না।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক ডাক্তার মোঃ আবুল খায়ের রাসেল বলেন, অপারেশনের জন্য ডাক্তার ও এনেসথিসিয়া (অজ্ঞান) ডাক্তার না থাকলেও লক্ষ লক্ষ টাকা মূল্যের এনেসথিসিয়া মেশিন দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে। উপজেলাবাসী ডাক্তারসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দ্রুত সহযোগিতা কামনা করেছেন।
//মো. আতিকুর রহমান/উপকূল বাংলাদেশ/ঝালকাঠি/৩০১১২০১৪//
