ঝালকাঠির বাজারে শীতের সবজি ভরপুর
- ১৬:৪৮
- অর্থ বানিজ্য শিল্প, উপকূল আজ, উপকূল সংবাদ, ঘটনাপ্রবাহ, ঝালকাঠি জেলা, মধ্য-উপকূল, শীর্ষ সংবাদ, সর্বশেষ
- ১৮০
ঝালকাঠি : শীতের সবজিতে ভরে গেছে ঝালকাঠির হাটবাজার। চাহিদার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সবজি উৎপাদন হওয়ায় এসব সবজি চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। আগাম সবজির বাজারও বেশ ভালো। হাট ঘুরে সবজি হাতে কৃষকের আনন্দের হাসিই বলে দেয় সেই কথা। স্থানীয় বাজার থেকে সবজি কিনতে পাইকারি ব্যবসায়ীরা রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, ঝালকাঠি জেলায় এবছর শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭ শ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৫শ ৫০ হেক্টর জমিতে এবং অর্জিত হয়েছে ১ হাজার ২ শ ৫০ হেক্টর জমিতে। রাজাপুর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯শ ৬০ হেক্টর জমিতে এবং অর্জিত হয়েছে ৮ শ ৭৫ হেক্টর জমিতে। নলছিটি উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ২শ ৫০ হেক্টর জমিতে এবং অর্জিত হয়েছে ৭ শ ৭৫ হেক্টর জমিতে। কাঠালিয়া উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯শ ২৯ হেক্টর জমিতে এবং অর্জিত হয়েছে ৬ শ হেক্টর জমিতে।
ঝালকাঠি জেলার কৃষিভান্ডার সদর উপজেলার নবগ্রাম, বিনয়কাঠি, গাভারামচন্দ্রপুর, রাজাপুর উপজেলার, শুক্তাগড়, সাতুরিয়া, বড়ইয়া, মঠবাড়িয়া, গালুয়া, নলছিটি উপজেলার কুশাঙ্গল, রানাপাশা, মোল্লারহাট, কুলকাঠি এবং কাঠালিয়া উপজেলার আওড়াবুনিয়া, শৌলজালিয়া, আমুয়া ইউনিয়নে অন্যান্য ইউনিয়নগুলোর চেয়ে বেশি সবজি উৎপাদন হয়। উপজেলাগুলো থেকে প্রতিদিন ট্রাকে করে সবজি পাঠানো হচ্ছে বাইরের জেলাগুলোতে। জেলার অর্ধ শতাধিক গ্রামে শীতকালে প্রচুর সবজির চাষ হয়। কৃষকরা সেসব সবজি স্থানীয় বাজারে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে। সেখান থেকেই ট্রাকযোগে চলে যায় দেশে বিভিন্ন এলাকায়।
ঝালকাঠি শহরের পূর্বচাঁদকাঠি বাজারে সবজি কিনতে এসেছেন মামুন হোসেন। তিনি জানান, ঝালকাঠিতে শীতের সবজির মান অনেক ভালো। এখানে যে ধরনের কপিসহ অন্যান্য সবজি উৎপাদন হয় তা পাশ্ববর্তি অন্য কোনো জেলায় হয় না। এ ছাড়া ব্যবসায় পরিবেশসহ যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো।
সবজি ব্যবসায়ী মোতালেব জানান, দাম কম, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ প্রচুর থাকায় দেখেশুনে সবজি নিচ্ছে ক্রেতাগণ। জেলায় সারা বছরে উৎপাদিত এসব সবজি বিক্রি থেকে জেলার কৃষকরা কোটি টাকারও বেশি টাকা আয় করেন।
কৃষক আব্দুল কাদের জানান, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত সবজির বেচাকেনা বেশি হবে। এরপর কিছুটা কমে যাবে চাহিদা। তবে এবার ফলন ভালো হওয়ার কারণে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আশানুরূপ বেচা-কেনার আশা করছেন তাঁরা।
//মোঃ আতিকুর রহমন/ উপকূল বাংলাদেশ/ঝালকাঠি/২৮১১২০১৪//
