অনলাইনে সাংবাদিকতা

---সানা উল্লাহ সানু : সাংবাদিক আলমগীর হোসেনের হাত ধরে ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর বিডিনিউজের মাধ্যমেই বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতা শুরু। কিন্তু কয়েক বছর পর জনাব আলমগীর হোসেন বিডিনিউজ ছেড়ে গড়ে তোলেন বাংলানিউজ। বাংলানিউজ আজ দেশের প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। যার দৈনিক পাঠক সংখ্যা কোটির ওপরে।

২০০৬ এর আগে দেশে গণমাধ্যম হিসাবে নানা ধারার প্রিন্টের পত্রপত্রিকা আর একই সময়ে ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া হিসাবে রেডিও এবং টেলিভিশন প্রচলিত ছিল।

বর্তমানে প্রতিদিনই দেশে প্রযুক্তির প্রসার হচ্ছে, বিশেষ করে ইন্টারনেটের প্রসার ঘটেই চলছে। তাই মানুষ এখন শুধু তথ্য প্রাপ্তিই নয় বরঞ্চ বিনোদন মাধ্যম হিসাবেও ইন্টারনেট কে নতুন করে স্থান দিতে শুরু করছে।

সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য মতে, বর্তমানে দেশে ৫কোটির বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে  এ  ৫ কোটি ব্যবহারকারীর বেশির ভাগই দিনের অধিকাংশ সময় বিনোদন বা তথ্য সব কিছুই নিচ্ছে শুধুমাত্র ফেসবুক নামক সামাজিক যোগাযোগের এই ওয়েবসাইট থেকে। অর্থাৎ তাদের কাছে ইন্টারনেট বলতে এখন ফেসবুকই ১ নম্বর।

আবার প্রত্যেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ওয়েবসাইট ভিজিটের দ্বিতীয় তালিকায় আছে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ও প্রচলিত সংবাদ মাধ্যমের অনলাইন সাইটে ভিজিট করা। ফলে সংবাদপত্রের পাঠক আগের তুলনায় কয়েক শতগুন বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সে বৃদ্ধি প্রিন্ট না, শুধু মাত্র অনলাইনে বৃদ্ধি।

অন্যদিকে অনলাইন ভার্সনে যেভাবে পাঠক বৃদ্ধি পাচ্ছে, ঠিক সে হারেই প্রিন্ট র্ভাসনের পাঠক কমে যাচ্ছে অবিশ্বাস গতিতে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জরিপকারী সংস্থা এবং বিশ্ব বিখ্যাত সব প্রিন্ট মিডিয়ার বর্তমান অবস্থায় সে ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

তাই অনেকে বলছে, এ দেশে এক সময়ের জনপ্রিয় ডাক বিভাগের আজকের যে অবস্থা হয়তো কোন এক সময়ে প্রিন্ট সংবাদপত্রের ও ঠিক একই দশা হবে। আর সেটাই হবে অনলাইন সাংবাদিকতার ভবিষ্যতের চরম প্রভাব।

অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের সমালোচনা

এ দিকে দেশব্যাপী অনলাইন গনমাধ্যম যখন ব্যাপক জনপ্রিয় ঠিক তখনই সমান তালে অনলাইন সংবাদপত্র বিষয়ক বিভিন্ন সমালোচনাও হচ্ছে দেশ ব্যাপী। কিন্তু অনলাইন সাংবাদিকরা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসাবেই মেনে নিচ্ছি।

কারণ সকল অবস্থায়ই যারা সমালোচনার কাজ করে তারা তো সমালোচনা শুনতে হবেই। চায়ের দোকানের কর্মচারী যদি সাংবাদিকের পরিচয়পত্র পায় তবে সে তো সমালোচনাই শুনবে। তাতে প্রকৃত সাংবাদিকদের কষ্ট পাওয়ার কোন কারণ নেই।

কেউ কেউ মনে করে একটি ডোমেইন কিনলেই দেশব্যাপী ‘কপি-কাট’ সাংবাদিকতা করা যাবে। এমন ধারণা পোষণকারীরা অন্ধকারে আছে। কারণ পাঠক সবই বুঝতে পারে। যার একটি চা দোকান চালানোর সাহস নেই । সে নাকি দেশব্যাপী একটি সাংবাদিক গোষ্টি পরিচালনা করে। তাদের কারণেই মূলত এত সমালোচনা। কিন্তু সেদিক থেকে উপকুল বাংলাদেশ সহ কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম সম্পূর্ন ব্যতিক্রম।

উপকূলের উন্নয়নে অনলাইন সংবাদ মাধ্যম হিসাবে
উপকূল বাংলাদেশ-এর ভূমিকা

বাংলাদেশ ছোট হলেও এ দেশের বিশাল জনগোষ্ঠির একটি অংশ উপকূলে বাস করে। নানাবিধ সমস্যা যেন উপকুলীয় অঞ্চলের মানুষের নিত্য সংগী। তথ্যের অভাবে এ অঞ্চলের মানুষের আশা আকাংখা সঠিক ভাবে ফুটে উঠছে না। বিগত দিনে এ অঞ্চলের তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রচলিত মিডিয়ার সাথে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কমিউনিটি রেডিও।

তাতেও যেন কিছু ঘাটতি থেকেই যায়। সে ঘাটতি কে মাথায় রেখে কমিউনিটি রেডিও র আলোকে শুধুমাত্র বাংলাদেশের উপকুল কে প্রাধান্য দিয়ে এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কয়েকটি অনলাইন সংবাদপত্র। যার মধ্যে উপকূল বাংলাদেশ অন্যতম।

যতটুকু জানি উপকূলের অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করাই উপকূল বাংলাদেশ অন্যতম লক্ষ্য। কারণ উপকূলের তথ্য প্রচারের এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে উপকূলের সার্বিক উন্নয়ন। আমাদের বিশ্বাস অবাধ তথ্য প্রবাহ যে কোনো অবহেলিত অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে পারে।

২০১০ সালের ১৫ নভেম্বর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’-এর তৃতীয় বার্ষিকীর মাত্র একদিন আগে ১৪ নভেম্বর ‘উপকূল বাংলাদেশ’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।

দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে সাগর বা নদীপাড়ের ১৫টি উপকূলীয় জেলায় নানা ধারার অনেক গণমাধ্যম থাকলেও বর্তমানে অনলাইন গণমাধ্যমগুলোতে বেশি মানুষ ভিজিট করে। এ অনলাইন গণমাধ্যমের মধ্যে উপকুল বাংলাদেশ এ অঞ্চলের মানুষের কাছে জনপ্রিয় এবং এটি অত্যন্ত সাহসী, সময়পোযোগী ও পরিকল্পিত একটি মানবিক উদ্যোগ।

উপকূলের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর নানা সমস্যা এবং সম্ভাবনার কথা এমন সুন্দর ও পরিকল্পিত উপায়ে আর কোন মাধ্যম এর আগে উপস্থাপন করেনি।

যার কারণে প্রত্যন্ত চরাঞ্চল বা নদী ও সাগরপাড়ের সাধারণ মানুষ এখন মোবাইল ফোনে ক্লিক করেই এই মুর্হুতের উপকূলীয় ঘটনাটি জেনে নিচ্ছে। জেলেরা জানতে পারছে যে, তাদের জীবনধারার নানা গল্প ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী । আর প্রতিক্রিয়াও আসছে সাথে সাথেই। এক সময় যা ছিল সম্পূর্ন কল্পনাতীত। সর্বোপরি উপকূল বাংলাদেশ রচনা করতে চলছে এ অঞ্চলের এক চিরন্তন ডিজিটাল ইতিহাস। তাই প্রতিদিনই পাঠকগণ ঘটনার সাথে সাথেই ক্লিক করছে উপকূল বাংলাদেশের ওয়েব পেইজে।

প্রকৃত এবং পেশাদার সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টুর নেতত্বে এ ভিন্নধারার গণমাধ্যম টি আজ ৫ম বর্ষে পর্দাপন করতে যাচ্ছে। আমাদের ধারণা উপকূলের সঠিক ও টেকসই উন্নয়নে উপকূল বাংলাদেশ হবে উপকূলের এক নতুন ইউকিমিডিয়া। সেই প্রত্যাশায় উপকূল বাংলাদেশের পাঠকগণ কে আমাদেরর শুভেচ্ছা। আসুন আমরা উপকূলের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হই। গড়ে তুলি নতুন এক তথ্য ভান্ডার। যেটির ব্যবহার হবে শুধুমাত্র উপকূলবাসীর কল্যাণে।

লেখক : সানা উল্লাহ সানু, সম্পাদক, লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য