বোরো ক্ষেতে পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি, ঝালকাঠিতে ব্যাপক সাড়া

---মো. আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি || ঝালকাঠি জেলার ৪ টি উপজেলায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান ক্ষেতের পোকা দমনের পার্চিং পদ্ধতির কৃষকদের কাছে বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবার আরো ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এ সময়েই নানা প্রজাতির পোকার আক্রমণে ধানের গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে এবং ফলশ্রুতিতে ফলনও অনেক কম হয়। কিন্তু এলাকার কৃষকেরা কৃষি বিভাগের পরামর্শে তারা ধানের চারা লাগানোর সময়ই প্রতিটি ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতির ব্যবস্থা করে রেখেছেন।ফলে এখন তারা পার্চিং পদ্ধতিতে পোকা দমন করে সুফল পাচ্ছেন এবং কোন প্রকার বালাইনাশক (কীটনাশক/বিষ) ব্যবহার না করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতি থেকে রেহাই পাচ্ছেন। কৃষকরা তাদের বোরো ধান ক্ষেতের বিভিন্ন স্থানে বাঁশের আগা, বাঁশের কঞ্চি, গাছের ডাল পুঁতে দিয়েছেন। এসব বাঁশের আগা, বাঁশের কঞ্চি, বাঁশের মাচাল বা আড়, গাছের ডালে নানা ধরনের পাখি বসে পোকা শনাক্ত করে। সুযোগ মত উড়াল দিয়ে পোকা ধরে খেয়ে ফেলছে এবং পাখি ওই পার্চিং-এ বসে ক্ষণিক সময়ের বিশ্রামও নিচ্ছে।

এভাবে কীটনাশক ছাড়াই পোকার আক্রমণ থেকে ধান গাছ রক্ষা পাচ্ছে বলে কৃষকরা জানান এবং তারা ডেড পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে পোকা দমনে অনেকটা সফল হয়েছেন।

ফসলের জমিতে পাখি বসার উপযোগী বাঁশের আগা, বাঁশের কঞ্চি, বাঁশের মাচাল বা আড়, গাছের ডাল পুঁতে যে পার্চিংয়ের ব্যবস্থা করা হয় তাকে ডেড পার্চিং বলে বিভিন্ন গ্রামের বোরো খেতে  পোকা দমনে কৃষকেরা কৃষি বিভাগের পরামর্শে জমিতে কিছু দূর পরপর গাছের ডাল পুঁতে দিচ্ছেন। ওই ডালগুলোতে বিভিন্ন রকমের পাখি বসছে এবং ধানখেতের পোকা খেয়ে ফেলছে।

এভাবে কীটনাশক ছাড়াই পোকার আক্রমণ থেকে ধানগাছ রক্ষা পাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে পদ্ধতিটি স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে  বোরো চাষ হয়েছে। রাজাপুর উপজেলার পার-সাতুরিয়া গ্রামের কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘মোগো গ্রামের হগল জমিতে পোকের আক্রমণ হইছে। এ বছর চারা লইয়া এমনেতেই মোরা ধরা খাইছি। বিষ কেনার মতো টাহা নাই। কৃষি স্যাররা জমিতে গাছের ডাল পুঁইতা দিতে কইছে। মোরা ভালো উপকার পাইতাছি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপসহকারী কর্মকর্তা মাওঃ মোঃ শাহজালাল বলেন, কৃষকদের কাছে পোকা দমনের পার্চিং পদ্ধতির ব্যবহার বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবার আরো ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সাধারণত ধান গাছে মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, খাটসুর, ঘাসফড়িং ও পাতাফড়িং আক্রমণ করে। জমিতে পুঁতে রাখা পার্চিংয়ে বসে পোকাখাদক পাখি এসব ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফেলে।

ফলে এর মাধ্যমে অতি সহজেই ক্ষতিকর পোকা দমন করা সম্ভব হচ্ছে। এটা পরিবেশ বান্ধব এবং এই পদ্ধতি ব্যবহারে জমিতে ক্ষতিকারক কীটনাশক ব্যবহার কমবে।

//মো. আতিকুর রহমান/ উপকূল বাংলাদেশ/ ঝালকাঠি/০১১১২০১৪//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য