ঝালকাঠিতে কানের হাতুরে চিকিৎসায় প্রতারিত হচ্ছেন মানুষ!

jhalakati-kan-pic.jpgমোঃ আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি || ঝালকাঠিতে ভ্রাম্যমাণ হাতুরে ডাক্তার দিয়ে কানের চিকিৎসা করিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রামের সহজ সরল মানুষ। ভ্রাম্যমাণ হাতুরে চিকিৎসকরা চিকিৎসার নামে ধোকা দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন কয়েক হাজার টাকা। চিকিৎসার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করছে স্পোক, শোন ও বিভিন্ন ধরণের তৈল।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মাদারীপুর থেকে আসা আলআমিন লুঙ্গি পড়ে আদালতে আসা এক যুবকের কানের চিকিৎসা দিচ্ছিল। ক্যামেরা বের করে ছবি তুলতে গেলে তিনি অন্যদিকে ফিরে দাড়ান।

তারপর কথা প্রসঙ্গে আলআমিন জানান, কানের চিকিৎসায় কোন রকম প্রশিক্ষন নেই। পূর্ব পুরুষ এই কাজ করেছেন, তাই আমিও করছি। বাবা মারা যাবার আগে বলেছেন আমি এই কাজ করে তোদের বড় বানিয়েছি। এ কাজ শিখে করতে পারলে অভাব হবে না।

আলআমিন আরো জানান, এ পেশায় ৩ বছর যাবত কাজ করছি। বরিশাল নথুল্লাবাদের একটি হোটেলে থেকে ঘুরে ঘুরে এ চিকিৎসার কাজ চালাচ্ছি। দুটি কান পরিষ্কার করে ২০ টাকা নেই। চিকিৎসার উপাদান হিসেবে রয়েছে স্পোক (লোহার শলা), শোন, ডেটল, স্যাভলন, পানি, কান পাকার ওষুধ, কর্ণ সেবা ও বিভিন্ন ধরণের তৈল। চিকিৎসা নেয়া যুবক কামাল জানান, কানের ভেতর ওজন ওজন ঠেকছি তাই পরিষ্কার করিয়ে নিলাম। এতে ভয়ে ছিলাম যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডাঃ আক্তারুজ্জামান চৌধুরী জানান, অনেকের কানে ময়লা জমে থাকায় পরিষ্কার করানোর জন্য এসকল ঝুকি নেয়। হাতুরে চিকিৎসক দিয়ে এ সকল স্পর্শ কাতর স্থানের চিকিৎসা করানো মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ। এতে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

//মো. আতিকুর রহমান/উপকূল বাংলাদেশ/ঝালকাঠি/২৩১০২০১৪//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য