ট্রাক সংকটের কারণে রাজাপুরে ইউরিয়া সার মিলছে না

urea-fertilizer.jpgপ্রতিবেদন উপকূল বাংলাদেশ, ঝালকাঠি ● ঝালকাঠির রাজাপুরে সরকার অনুমোদিত বিসিআইসির দুই ডিলারের কাছে শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে ইউরিয়া সার নেই।গত ১ অক্টোবর থেকে ইউরিয়া সার ট্রাক সংকটের কারণে বরিশাল মোকাম থেকে সার সরবরাহ না থাকায় গত তিনদিন থেকে কৃষকরা ডিলারদের কাছ থেকে সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে চাহিদার তুলনায় কম সার পেলেও গতকাল শুক্রবার থেকে কোন ইউরিয়া সার না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন কৃষকরা। এতে কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সার নিতে আসা উপজেলার ইন্দ্র পাশা গ্রামের আনসার হোসেন, রঘুকুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, সাংগর গ্রামের শক্কুর মোল্লা ও সিরাজ হোসেনসহ একাধিক কৃষক অভিযোগে জানান, এ উপজেলায় সরকার অনুমোদিত বাঘরী বাজার এলাকার মোঃ কামাল হাসেন ও বাইপাস এলাকার মোঃ সুলতান হোসেন নামের দুই ডিলার কয়েকদিন থেকে অন্য কোন খুচরা ব্যবসায়ীদেরকে সার না দিয়ে নিজেরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি কেজি ১৬ টাকা মূল্যের সার ১৭-১৮ টাকা দামে বিক্রি করেছে।

শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে তাও কৃষকরা পায়নি। বর্তমানে রোপা আমন বীজ তলায় সার দেয়ার উপযুক্ত সময়। ইতিপূর্বে পানি বৃদ্ধিতে বীজতলার ক্ষতি এবং ভয়াবহ পামরী পোকার আক্রমণে রোপা অমনের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় এখন সার দেয়ার খুবই প্রয়োজন। কিন্তু উপজেলার কোথাও সার পাওয়া যাচ্ছে না। এখনই যদি জমিতে সার দেয়া না যায়, তাহলে আদৌ কোন ফসল পাওয়া যাবে না আশঙ্কা করেছেন কৃষকরা।

এ বিষয়ে বাঘরী বাজারের সারের ডিলার মোঃ কামাল হোসেন অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সরকারী নিয়মানুযায়ী মাসের এক তারিখ ছাড়া বরিশাল সারের মোকামে টাকা জমা নেয় না এবং সারও দেন না। তাই আমরা গত ১ অক্টোবর টাকা জমা দিয়ে সার অ্যালোড করিয়েছি। কিন্তু কোরবানির কারণে কোন ট্রাক না পাওয়ায় গন্তব্যস্থলে সার নিতে পারছি না। তারপরেও প্রতি বস্তা সারে ৫০ টাকা করে অতিরিক্ত ক্যারিং খরচ দিয়ে কিছু সার পিকআপ ভ্যানে করে আনলেও তাতে কৃষকদের চাহিদা মিটছে না। সার নেয়ার জন্য ১ তারিখ থেকে আমি ও সুলতান বরিশাল অবস্থান করছি। ট্রাক পেলেই এ সমস্যার সমাধান হবে।

// মো.আতিকুর রহমান/ উপকূল বাংলাদেশ/ঝালকাঠি/০৩১০২০১৪//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য