উপকূলে প্রকৃতির মাতম : লন্ডভন্ড জন-জীবন

গৌরাঙ্গ নন্দী ।।
গেল অক্টোবরের ১১ তারিখে নিম্নচাপ সৃষ্ট অতিবৃষ্টিতে দেশের গোটা উপকূলভাগ আবারও একবার ভাসিয়ে নেয়। জীবন ও সম্পদহানি কম হলেও মানুষের ভীতি-আতঙ্ক ছিল সর্বোচ্চমাত্রায়। মানুষ এখন আকাশে মেঘ দেখলে ভয় পেতে শুরম্ন করছে, সেই সঙ্গে নিম্নচাপের কথা শুনলেতো আর কথা নেই। জলোচ্ছ্বাস, বেড়িবাঁধ ভাঙ্গা, পস্নাবন আর নোনার ঝাপটার আতঙ্কে মানুষ কুঁকড়ে ওঠে। প্রকৃতপক্ষে ২০০৯-এর ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাত এবং ২০০৭-এর নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতের কারণে মানুষের মনোজগতে এই আতঙ্ক বাসা বেঁধেছে।

২০০৯ সালের ২৫ মে খুলনা ও সাতক্ষীরা উপকূলে ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানে। বিপন্ন হয়ে পড়ে খুলনার দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছা এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার কমপক্ষে পাঁচলাখ মানুষ। ত্রাণের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে মানুষগুলো। দেড় বছর পরেও লক্ষাধিক মানুষ এখনও ঘরে ফিরতে পারেনি। তাঁরা রাসত্মার উপর খুপড়ি বেঁধে বসবাস করছে। ৭০ হাজার প্রানিত্মক কৃষক ও বর্গাচাষী গত আমন ও বোরো মৌসুমে কোনো ফসল ফলাতে পারেনি। আড়াই লাখ মানুষের কোনো কাজ নেই। ইতিমধ্যে উদ্বাস’ হয়ে অভিবাসনে বাধ্য হয়েছে অনেক মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলো থেকে স্বাদু পানির মাছ, গরম্ন-ছাগল ও হাঁসমুরগি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়েছে। গাছপালা মরে উপদুত এলাকাগুলো বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছে।

এলাকার ভূক্তভোগী মানুষ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেড় বছরেও আইলা দুর্গতদের দুর্দশা না কাটার একমাত্র কারণ যথাসময়ে বিধ্বসত্ম বেড়িবাঁধগুলো মেরামত করতে না পারা। আইলা আঘাত হানার পর সরকারের পক্ষ থেকে যতো দ্রম্নত সম্ভব বেড়িবাঁধ পুননির্মাণের আশ্বাস দেয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। প্রথম পর্যায়ে ২০০৯-এর জুলাইয়ে রিং বাঁধ দেবার একটি পরিকল্পনা করা হয়। অজ্ঞাত কারণে সেই পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি। পরবর্তীতে সরকারের নীতি নির্ধারণী ব্যক্তিবর্গ নভেম্বর-ডিসেম্বরে বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেন। কিন্তু সে সময়সীমা আবারও পিছিয়ে ২০১০-এর জানুয়ারি মাসের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। সকল বাঁধ পুননির্মাণের জন্য কার্যাদেশ দেয়া হলেও এখনও পর্যনত্ম সকল বাঁধ আটকানো সম্ভব হয়নি; এমনকি নতুন করে দেয়া কিছু বাঁধ টেকেনি, ভেঙ্গে গেছে।

বাঁধের পরিসি’তি ব্যাখ্যা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো’র খুলনা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘উপকূলীয় এই বেড়িবাঁধের প্রকল্প-বয়স (প্রোজেক্ট লাইফ) অনেক আগেই পার হয়ে গেছে। বাঁধগুলো বর্তমানে দুর্বল। আবার চিংড়ি চাষের কারণে এই বাঁধগুলো আরও কাঁটা-ছেড়া করা হয়েছে। যে কারণে বাঁধের ভাঙ্গনে এই ভয়াবহ দশা।’

কেমন ছিল আইলা
মালদ্বীপের আবহাওবিদদের দেওয়া নাম আইলা। আইলা মানে ডলফিন বা শুশুক জাতীয় এক ধরণের প্রাণী। শুশক যেমন পানি ফুঁড়ে বেরিয়ে আবারও পানিতে ডুবে যায়, তেমনি আইলাও পানি থেকে ফুঁড়ে উঠে জনপদে আছড়ে পড়ে আবারও পানিতে মিশে যায়। ঘূর্ণিঝড় আইলার ব্যাস ছিল প্রায় তিনশো কিলোমিটার। প্রায় দশ ঘন্টা জুড়ে এটি উপকূল অতিক্রম করে। অমাবশ্যার সময় এমনিতেই সমুদ্র উত্তাল থাকে, আর এই সময় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ায় জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। উপকূলীয় খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার উপর দিয়ে আইলা যখন আছড়ে পড়ে, তখন বাতাসের গতিবেগ ছিল সর্বোচ্চ ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার। কিন্তু জলোচ্ছ্বাস ছিল ভয়াবহ মাত্রায়। প্রায় বিশ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসের ধাক্কায় বাঁধ উপচে পানি জনপদে প্রবেশ করেছে। আর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় যেখানে বাঁধ ছিল নড়বড়ে, ভঙ্গুর; সেখানে এই জলোচ্ছ্বাসের ধাক্কায় বাঁধ যথেচ্ছভাবে ভেঙ্গে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার দক্ষিণের জনবসতি দাকোপ, কয়রা, শ্যামনগর, আশাশুনি, পাইকগাছা, মংলা, শরণখোলা প্রভৃতি উপজেলাগুলো জনপদ তছনছ করে দিয়ে যায়।

এক নজরে আইলায় ক্ষয়ক্ষতি
ক্যাটাগরি-১ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় আইলার সাথে ধেয়ে আসা জলোচ্ছ্বাসে খুলনা ও সাতক্ষীরার চারটি উপজেলার ৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি বেড়িবাঁধ ধ্বসে যায়। এর ফলে উপদ্রম্নত এলাকাগুলোর জীবনযাত্রা, অবকাঠামো, পরিবেশ-প্রতিবেশ সবকিছুই এক মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে :

১। প্রায় ২ লাখ একর কৃষিজমি নোনাপানিতে তলিয়ে যায়, কাজ হারায় ৭৩ হাজার ক্ষুদ্র কৃষক ও কৃষি মজুর;

২। এলাকাগুলোর পানীয় জলের উৎস পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়, মানুষ খাদ্যের চেয়ে পানির জন্য কষ্ট পাচ্ছে বেশি;

৩। নোনাপানি ঢুকে কয়েক হাজার পুকুরের (১০৭৪ একর) স্বাদু পানির মাছ মরে যায়;

৪। পস্নাবন ও নোনাপানির প্রভাবে কমপক্ষে ৫০০ গরম্ন ও দেড় হাজার ছাগল মারা যায়, পানির দরে বিক্রি হয় কয়েক হাজার গরম্ন-ছাগল;

৫। কয়েক মাস পর থেকে এলাকাগুলোর গাছপালা মরতে শুরম্ন করে এবং বিরানভূমিতে পরিণত হয় (অবশ্য গাছপালা আগে থেকেই ওই এলাকায় কম ছিল);

৬। এলাকাগুলোর কমপক্ষে ৩ লাখ মানুষ বাসস্থানচ্যুত হয়, যার কমপক্ষে ১ লাখ বিভিন্ন শহরে স্থায়ীভাবে স্থানানত্মরিত হয়ে যায়;

৭। পর পর দুটি মৌসুম কৃষিকাজ না হওয়ায় প্রায় ৮ লাখ টন খাদ্যঘাটতি সৃষ্টি হয়; প্রভৃতি।

মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই
ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানার পর দেড় বছর পেরিয়েছে। এখনও দাকোপ-কয়রা-শ্যামনগরের হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দী। টিকে থাকা বেড়িবাঁধের ওপর দুর্দশাগ্রস’ পরিবারগুলো মানবেতর জীবন-যাপন করছে। দিনের ২৪ ঘন্টায় দুইবারের জোয়ারে বাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে নদীর নোনাপানি প্রবেশ করে গোটা এলাকা তলিয়ে দিচ্ছে। মানুষের কাছে নতুন বিপদ ও শঙ্কা হচ্ছে অমাবশ্যা ও পূর্ণিমার কাল। এসময়ে নদীর পানি বিপুল পরিমাণে ফুলে উঠে বাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে হু হু করে পানি প্রবেশ করে। জোয়ারের সময় পানি যে বেগে প্রবেশ করে, সেই বেগে ভাটার সময় নামে না। জনপদের নানা প্রতিবন্ধকতায় পানি আটকে থাকে। এতে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।

অক্টোবর ২০১০-এর অমাবশ্যার সময় সৃষ্ট নিম্নচাপে জোয়ারে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পায়। দাকোপ-কয়রার মানুষেরা বলেছেন, আইলার সময় যে পরিমাণ পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল, তার তুলনায় ওই অমাবশ্যার সময় কমপক্ষে দুই ফুট পানি বৃদ্ধি পায়। দাকোপের কামারখোলা এলাকার দেবাশীষ রায় বলেন, ‘আইলার আঘাতের সময় জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে বাঁধ ভেঙ্গে যে পরিমাণ পানি প্রবেশ করেছিল; এখন অমাবশ্যা-পূর্ণিমার সময় তারচেয়েও বেশি পানি প্রবেশ করছে। সেই সময় মুহূর্তের মধ্যে অনেক পানি প্রবেশ করে; এখন জোয়ারের সাথে সাথে পানি বাড়ছে, জনপদ তলিয়ে দিচ্ছে।’ পেশায় ছাত্র, এলাকার বাসিন্দা ধীমান বলেন, ‘আইলার আঘাতে ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ যদি মেরামত করা সম্ভব হতো; তবে, জোয়ারের পানি নতুন করে বিপদ তৈরি করতে পারতো না। এখন অমাবশ্যা ও পূর্ণিমার সময়কার জোয়ারের পানি হয়েছে নতুন বিপদ। যাতে গোটা এলাকাটি স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে পাচ্ছে।’

কয়রা উপজেলা সদরের মাঠ, কপোতাক্ষ কলেজ মাঠ, কয়রা সদরের স্কুল প্রাঙ্গন প্রভৃতি এখনও পানির তলায়। আর অমাবশ্যা ও পূর্ণিমার সময় এই পানির পরিমাণ হাঁটু ছাড়িয়ে কোমর সমান বা তারও ওপরে ওঠে। কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মোঃ রবিউল বলেন, ‘আমরা ঘরে পানিবন্দি অবস্থায় বসবাস করছি। কোথাও একটু শুকনো জায়গা নেই। পানি কমাতো দূরের কথা, পানি দিন দিন বাড়ছে।’ কালনা গ্রামের তানজিলার স্বামী রেজাউল গাজী এক সময়ে ভ্যান চালাতেন, কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঘরে মাচা করে বসবাস করছেন। তিন সনত্মানের জননী তানজিলা বলেন, ‘অনেকেই সাহায্য দিতে আসে। তবে তা রাসত্মার পাশে নয়ত সদর এলাকায়।’ এ ধরণের অভিযোগ একই এলাকার মুজিবুর রহমান, আঃ রবসহ অনেকের। লক্ষীখোলা গ্রামের মুকুন্দ মন্ডল, মদিনাবাদ গ্রামের এমদাদুলসহ অন্যান্যরা জানান, কিভাবে বেঁচে থাকব জানিনা। কোন কাজ নেই, শুকনো জায়গা নেই। তারা খেদোক্তি করে বলেন, ‘কেউ একাধিকবার সাহায্য পায়, আর কেউ একবারও পায়না।’ অনেক স্থানে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা তাদের কাছের লোকদের ত্রাণ-সহায়তা দেয়। এছাড়া এক এলাকার লোক অন্য এলাকায় এসে সাহায্য নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে কোন সমন্বয় নেই বলেও অনেকের অভিযোগ। ভূক্তভোগীদের মতে, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তুলনায় সাহায্যের পরিমান সামান্য। তাই মানুষের দুর্দশা কমছে না।

আইলায় বিধসত্ম হাজার হাজার পরিবার জানেনা কবে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বা আদৌ তারা শুকনো মাটিতে ঘর বাঁধতে পারবে কি-না? সুন্দরবন ঘেঁষা এ জনপদে ফের ফসল ফলবে কি-না, তারও আপাতত: কোন জবাব নেই। দাকোপের কামারখোলা ইউনিয়নের মানুষেরা দীর্ঘদিন ধরে নোনা পানির বাগদা চিংড়ির চাষ ঠেকাতে নোনা পানি তুলতে বাধা দিয়ে আসছিল। সেই এলাকা এখন নোনা পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। যাদের এখনও একমাত্র আয় ধানের ফসল। সেইসব পরিবারগুলো পড়েছে মহাসংকটে। এবার তারা সামান্য জমিতেও আমন ধানের চারা বপনের চিনত্ম করতে পারেনি। এখানকার বেশ অবস্থাপন্ন কৃষক উমাশঙ্কর রায়ের ষাট বিঘা জমি নোনা পানির তলায়। জোয়ারের পানিতে সেই ক্ষেতের ফসলের পানি আরও বাড়িয়ে তুলছে। তিনি গত বছর ফসল ফলাতে পারেননি, আসছে বছরও পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন। তাঁর দুর্ভাবনা ‘আগামী দিনগুলো কিভাবে চলবে!’

আইলা’র জের
আইলা’র জের হিসেবে এখন বেশিরভাগ এলাকায় জোয়ার-ভাটার সময় পানি ওঠানামা করছে। যা মানুষের কাছে ভয়ঙ্কর এক বিপদ হয়ে দেখা দিয়েছে। বাঁধের ভাঙ্গা অংশগুলো বেঁধে দেয়া বা বাঁধ বাঁধতে না পারার জন্যে এখন এলাকাগুলো প্রায় উন্মুক্ত। বর্ষাকালে এমনিতেই জোয়ারের পানির চাপ বাড়ে; এবার যেন সেই চাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক জায়গায় চেষ্টা করেও বাঁধ বাঁধা সম্ভব হয়নি। একারণে বিলের মধ্যেকার নিচু ভূমির গ্রামগুলোতে এখনও মানুষ গিয়ে তাদের বসতি গড়ে তুলতে পারেনি। বাঁধের ভাঙ্গা অংশই এলাকার যেমন যাতায়াত পথ, আবার সেখানেই তাঁবু তৈরি করে মানুষের বসতি তৈরি হয়েছে। কয়রা উপজেলা সদরসহ আশেপাশের এলাকাগুলোয় এখনও হাঁটু বা কোমর সমান পানি। রাসত্মার দুই পাশের বসতি বাড়ি-ঘরগুলোয় কোথায় হাঁটু পানি; কোথায় কোমর-সমান পানি। যে ঘরগুলো ২৫মে-র জলোচ্ছ্বাসের দাপট উপেক্ষা করে টিকে ছিল, সেগুলো জোয়ারের পানির চাপে ভেঙ্গে পড়ছে। টিকে থাকা ঘরের মধ্যে মাচা করে মানুষ বাস করার চেষ্টা করছে। আর উলেস্ন্লখযোগ্য সংখ্যক মানুষ রাসত্মার ধারে ঠাঁই নিয়েছে। জোয়ারের পানি রম্নখতে রাসত্মার ওপর কেউ কেউ চৌকি ফেলে তাতে প্রয়োজনীয় মালামাল রক্ষা করার চেষ্টা করছে।

ঘূর্ণিঝড় সিডর
সর্বনাশা সিডর-এর আঘাতে সাউথখালির ষাটোর্ধ লাল মিয়ার শেষ জীবনটা একেবারে তছনছ হয়ে গেছে। একে বয়সের ভারে তিনি ক্লানত্ম, তার ওপর স্বজন ও সম্পদ হারানোর বেদনা। তিনি মাঝে-মধ্যে কেঁদে ওঠেন। কাঁদতে কাঁদতে একসময়ে চোখের পানি ফুরিয়ে যায়। চোখে ঝাপসা দেখেন। ১৫ নভেম্বর ২০০৭-এর ভয়াল কালোরাতে বাতাস ও পানির তোড়ে তার ঘর ভেসে যায়। তিনি দুই কোলে তাঁর দুই নাতিকে জড়িয়ে নিয়ে একটি বাঁশের খুঁটি আঁকড়ে ভাসতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। যখন জ্ঞান ফেরে, তখন দুই নাতিকে আর পাননি। তিনি নিজে বেঁচেছেন, তবে সিডর কেড়ে নিয়েছে তাঁর চার নাতি- জাকিয়া (সাড়ে ৭ বছর), আছিয়া (৬), সাথী (৪) ও রাব্বি (আড়াই বছর)। সহায়-সম্পদও সব গেছে। যা পরনে ছিল, তাই ছাড়া আর কিছু ছিলনা। সিডর আঘাত হানার তিন দিন পর তার খাওয়া জোটে। এই দু:সহ-ভয়ঙ্কর দিনটিকে তিনি মনে করতে চান না, কারও জীবনে যেন এমন দিন না আসে, এটাই তাঁর একানত্ম প্রত্যাশা।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানে ১৫ নভেম্বর ২০০৭ সন্ধ্যা সাতটার দিকে। বলেশ্বরের মোহনা ছিল এর আঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, ঘূর্ণিঝড়টি বরিশাল ও খুলনা উপকূলে আঘাত হেনে উড়িষ্যা উপকূলের দিকে যাবে। পূর্বাভাস মতে আঘাত হানে বরিশাল ও খুলনা উপকূলে। আঘাতের পর দিক পরিবর্তন করে ঘূর্ণিঝড়টি দেশের মধ্যাঞ্চল-গোপালগঞ্জ, ঢাকা হয়ে সিলেটের ওপর দিয়ে ভারতের আসামে চলে যায়। যেহেতু আঘাতস’লটি ছিল বলেশ্বরের মোহনা, একারণে বলেশ্বরের উভয় তীর- পশ্চিমপাড়ের বাগেরহাটের শরণখোলা, পূবের বরগুনার পাথরঘাটা এবং সাগরঘেঁষা চর- দুবলাসহ গোটা সুন্দরবন একেবারে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। পূর্বাভাস এবং দুর্যোগের প্রস’তির কারণে অনেক মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হলেও জীবন ও সম্পদহানি হয় ব্যাপক। সাউথখালির লাল মিয়ার মত অনেক মানুষ তাদের প্রিয়জন হারান, সম্পদ হারান।

কেমন ছিল ঘূর্ণিঝড় সিডর
সুন্দরবন থেকে জীবন নিয়ে ফিরে আসা মোঃ মিলনের বর্ণনায়, বিশ-ত্রিশ ফুট উঁচু হয়ে আগুনের গোলার ন্যায় সাগরের পানি এসে আছড়ে পড়ে। আর মুহূর্তের মধ্যে সকল কিছু উড়িয়ে নিয়ে যায়। ট্রলারগুলো একটার পর একটা উঠে ডুবে যায়। মানুষগুলো কে কোথায় তলিয়ে যায়, ভেসে যায়, তা কেউ বলতে পারে না। অনেকেই ভেসে যায়, কে-কোথায় কিভাবে ভেসে যায়; তা কেউ জানে না। কেউ কেউ বালুতে আটকা পড়েন। কত মানুষ মারা গেছে, তার কোন হিসাব নেই। সেই ভয়াল রাতটির কথা মনে হলে মিলন আজও আঁতকে ওঠে, ভয়ে সারা শরীর কাঁপতে থাকে।

ঘূর্ণিঝড় সিডরের ছোবল থেকে বেঁচে এসেছেন বরগুনা জেলার পাথরঘাটার মো: মিলন। তিনি সাংবাদিকদের কাছে তাঁর ভয়াবহ এই অভিজ্ঞতার কথা শোনান। সিডরের ছোবলে তিনি ৩২ ঘন্টা অবচেতন হয়ে ভেসে ছিলেন। ‘মায়ের দোয়া’ নামের একটি ট্রলারে ছিলেন তিনি। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানবে এই কথা শুনে তাঁরা ১৫ তারিখ বৃহষ্পতিবার বিকেলের দিকে নিরাপদ জায়গায় যাচ্ছিলেন। কিন্তু গনত্মব্যে পৌঁছুতে পারেননি, তার আগেই ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। তাদের ট্রলার ডুবে যায়। তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ভাসতে থাকেন নদীতে। বেঁচে যাওয়া জেলেরা তাঁকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারীরা তার জ্ঞান ফেরান। মিলন বলেন, আগুনের গোলার ন্যায় পানির শ্রোত এসেই ভাসিয়ে নেয় তাদের। তিনি ট্রলারের কি যেন একটা ধরেছিলেন। শরীরটির উপর দিয়ে ঢেউয়ের প্রবল একটা ঝাপটার কথা তিনি মনে করতে পারেন। তাঁর মনে হয়, সেটি যেন একটি আগুনের পিন্ড। তারপর তার আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফিরলে দেখেন একটি ট্রলারে তিনি শুয়ে আছেন। উদ্ধারকারী জেলে ওয়াহেদ জানান, তাঁরা ছিলেন আলোর কোল এলাকার একটি ছোট্ট খালের মধ্যে। সেখানে আরও অনেক ট্রলার ছিল। ছিল আরও হাজার খানেক জেলে। যাদের অনেককেই পরে আর পাওয়া যায়নি।

ওয়াহেদ বলেন, সাগরে তিনি পনেরো বছরেরও বেশি সময় ধরে মাছ ধরেন। এরআগেও দশ নম্বর সতর্ক সংকেত শুনেছেন। সাগরের নিরাপদ স্থান মানে তারা চলে যান ছোট খালের মধ্যে। বনের গাছপালার আড়ালে থাকা খালে তাদের ট্রলার ভাসিয়ে তারা নিশ্চিনেত্ম থাকেন। কিন্তু গেলবারের ঘূর্ণিঝড় ছিল ভয়ানক শক্তির। এই ঝড় মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু লন্ডভন্ড করে দেয়। ট্রলারগুলো খোলামকুচির মত উড়ে গিয়ে পানির মধ্যে ডুবে যায়। আর আঁছড়ে পড়তে থাকে ত্রিশ-চল্লিশ হাত উঁচু ঢেউয়ের পর ঢেউ। এই অবস্থায় যে ভেসে গেছে, সে নিশ্চিত মারা গেছে। আর যারা কোন কিছু আঁকড়ে থাকতে পেরেছিল, তাঁরাই কোন রকমে বেঁচে আছে। তাবে আঘাতে আহত হয় বেশ। অনেকেই চরের বালুতে আটকা পড়ে। সকালে জলোচ্ছ্বাসের পানি নেমে যাওয়ার পর বালুর মধ্যে থেকে জীবিত-মৃত অনেককেই বেঁচে যাওয়ারা টেনে বার করেন। আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের মৃত গণি গাজীর ছেলে বারো বছরের লাভলু গাজীর লাশ বালুতে আটকে ছিল। প্রায় একইভাবে কয়রার কুড়িকাহনিয়ার মালেক গাজীর ছেলে আমিরম্নল গাজীর (৩৫) লাশ উদ্ধার হয়। এদের লাশ দুটোই বাড়িতে এসে পৌঁছায়।

বলেশ্বরের তীরে ধ্বংসস’প
বলেশ্বর নদীতীরের পূর্বপাড়ে বরগুনার পাথরঘাটা ও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া; আর পশ্চিম পাড়ে শরণখোলার একেবারে দক্ষিণ প্রানেত্মর জনপদ। সিডরের আঘাতে এখানকার জনপদ একেবারে ধ্বংসস’পে পরিণত হয়। সুপেয় পানি ও খাবারের সংকট তৈরি হয়। এই এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের তীব্র ধাক্কায় হেরিং বোন-এর রাসত্মার ইট সরে চলে যায়। রাসত্মায় তৈরি হয় বড় বড় গর্ত। সামান্য উঁচু ভিটের ওপর তোলা কাঁচা ঘরগুলোর নিশ্চিহ্ণ হয়ে যায়। ঘরগুলো আসত্ম ধরে যেন কেউ উপড়ে ফেলে দেয়। একটি নির্দিষ্ট অংশ জুড়ে মাটি উঁচু দেখে সনাক্ত করতে হয় এখানে বাড়ি ছিল। আর অপেক্ষাকৃত মজবুত বাড়িগুলো দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে যায়। ঘরকে নিরাপদ ভেবে যেসব মানুষেরা সেখানে ছিল, তাদেরকে ভাসিয়ে-উড়িয়ে নিয়ে যায়। এসব পরিবারগুলোর একাধিক সদস্য মারা যায়। তাফালবাড়ি, রায়েন্দা, উত্তর সাউথখালি, দক্ষিণ সাউথখালি, বগি, চালিতাবুনিয়া, শরণখোলা, খুড়িয়া, বকুলতলা প্রভৃতি গ্রামগুলোয় হাজারখানেক মানুষ মারা যায়। এরমধ্যে উলেস্ন্লখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু। স্থানীয় সাংবাদিক মিলন বলেন, রায়েন্দা গ্রামের প্রায় সকল বাড়ির একাধিক সদস্য মারা গেছে। ঝড়ের সময় এরা সকলেই বাড়িতে ছিলেন। বাতাসের প্রবল ধাক্কায় এদের ঘর ভেঙ্গেছে। এর পরপরই এসেছে জলোচ্ছ্বাসের ঝাপটা। যাতে ঘরবাড়ি-মানুষ-অস্থাবর সম্পদ-গরম্ন-বাছুর সকল কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

সিডর-এর আঘাতে লন্ডভন্ড সুন্দরবন
ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন-এর ক্ষতি হয় ব্যাপক। আক্ষরিক অর্থে এই বনাঞ্চল লন্ডভন্ড হয়ে যায়। তবে এই বনাঞ্চলটি নিজে ঝড়ের ঝাপটা ধারণ করে উপকূলের মানব বসতি ও সম্পদকে রক্ষা করেছে। যে কারণে ঝড়ের আঘাতে সাগর সংলগ্ন দুবলার চর, আলোরকোল, নারকেলবাড়িয়া প্রভৃতি ব্যাপকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্থ হলেও খুলনা ও সাতক্ষীরায় এর দানবীয় থাবা স্বল্পমাত্রায় অনুভূত হয়। অন্যান্য এলাকার তুলনায় এই দুই জেলায় ক্ষতিও হয় কম। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে লম্বালম্বিভাবে সুন্দরবনের অবস্থান। এর পূর্বদিকের অংশটি বরগুনার পাথরঘাটা, আর পশ্চিমে আমাদের দেশে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা হয়ে বাংলাদেশ সীমানত্ম পেরিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গিয়েছে। অবশ্য বনাঞ্চলের ষাট ভাগের মত বাংলাদেশের মধ্যে। সাইক্লোন সিডর বরগুনায় প্রথম আঘাত হানে। একই সাথে এর আঘাত আঁছড়ে পড়ে সাগরকুলের দুবলার চর এলাকায়। সুন্দরবনের ওপর দিয়ে ঘন্টায় ২২০ কিলোমিটার থেকে ২৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যায়। এতে বনের গাছপালা ব্যাপকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙ্গে পড়ে। বন বিভাগের একটি সূত্রমতে, ছোট-বড় দিয়ে বনাঞ্চলের ত্রিশ শতাংশ গাছ-পালা ভেঙ্গে পড়ে। এই এক বছরে সুন্দরবন প্রাকৃতিকভাবেই আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গাছে গাছে এখন সবুজ পাতা। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাছপালাগুলো আবারও সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুর্গত মানুষদের জীবনসংগ্রাম
সিডরের আঘাতে সব হারানো মানুষগুলোর পাশে দেশি-বিদেশি নানা ধরণের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে। এরা মানুষগুলোকে খেয়ে বেঁচে থাকার জন্যে সহায়তা দিতে থাকেন। পত্র-পত্রিকায় দুর্দশার কাহিনীও বেশ ফলাও করে প্রচারিত হয়। দুর্যোগে-দুঃসময়ে পড়া এই মানুষগুলোর জন্যে স্বাভাবিকভাবে প্রথমেই প্রয়োজন ছিল খাবার ও পানীয় জল। প্রকৃতপক্ষে দুর্যোগ পরবর্তীকালের এই প্রয়োজন মেটানোর জন্যে বড়মাপের ত্রাণ তৎপরতা চলে। ঘূর্ণিঝড়ের পর-পরই  শুকনো খাবার, সুপেয় পানি ও কাপড় বিতরণ, চিকিৎসা ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রভৃতি কার্যক্রম (ক্যাশ ফর ওয়ার্ক) পরিচালনা করে এনজিওগুলো। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এক হিসেবে দেখা যায় যে, প্রায় পনোরোশ’ কোটি টাকা (২১১,৫৩৯,১৭৩ আমেরিকান ডলার) ত্রাণ তৎপরতার জন্যে বিদেশি সংস্থাগুলো দিতে সম্মত হয় (সূত্রঃ http://www.reliefweb.int/fts compiled by OCHA on the basis of information provided by donors and appeeling organizations )। যার অধিকাংশই সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমে এসেছে এবং ব্যবহূত হয়েছে। এছাড়াও দেশের বহু প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক প্রচুর পরিমাণে অর্থ দুর্গতদের সহায়তায় ব্যয় করেছেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই ক্ষতি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে তাৎক্ষণিক ত্রাণ কার্যক্রম মানুষকে আশাবাদী  করে। তবে পুনর্বাসন কার্যক্রমটি যথাযথ হয়নি। একটি কথা স্পষ্ট যে, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে লাল মিয়ার মত যে পরিবারে জীবন হানির মত ঘটনা ঘটেছে, সেই ক্ষতি কেউ পূরণ করতে পারবে না। বেঁচে থাকা মানুষগুলোর জীবন টিকিয়ে রাখার জন্যে প্রয়োজন সার্বিক পুনর্বাসন কার্যক্রম। যা শুধুমাত্র বৈষয়িক (সম্পদভিত্তিক) নয়, মানসিকও বটে। দুর্গতদের জন্যে বাসস্থান বা আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা; সুপেয় পানি ও সেনিটেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা; পেশাভিত্তিক জনগোষ্ঠীকে আবারও পেশায় ফিরে যেতে সহায়তা করা; ব্যবসা বা আয়মূলক যেসব কাজে মানুষগুলো জড়িয়েছিল, তা আবারও শুরম্ন করতে সহায়তা করা; কৃষি কার্যক্রমে সহায়তা করা; যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরম্নদ্ধার করা; বৃক্ষায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা; স্কুলগামী বা গমনোপযোগী শিক্ষার্থীদের আবারও স্কুলে ফিরে যেতে সহায়তা করা; ক্ষতিগ্রস’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার-নির্মাণ করা; দুর্যোগ মোকাবেলার উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রভৃতি।

সত্যি কথা বলতে কি, পুনর্বাসন কার্যক্রমে ‘সুপেয় পানি এবং সেনিটেশন’ বিভাগে কিছু কাজ হয়েছে; কিছু কিছুু ক্ষেত্রে যাতায়াত ব্যবস্থা পুনরম্নদ্ধারেও কাজ হয়েছে; তবে উভয় ক্ষেত্রেই আরও অনেক কাজ করার প্রয়োজন ছিল। আর এখনও সকল আশ্রয়হীন মানুষ তার আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারেননি। অনেককে আশ্বাস দেয়া হলেও শেষ পর্যনত্ম তা বাসত্মবায়িত হয়নি। কয়েকটি জায়গায় প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম-সংখ্যক ঘর তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। তবে সেই ঘর ভবিষ্যতের দুর্যোগ মোকাবেলার উপযোগী কি-না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দুর্গতদের অনেকেই এখনও খোলা আকাশের নিচে, বাঁধের ওপর, পলিথিনের তাঁবু প্রভৃতিতে বসবাস করছে।

প্রকৃতির উন্মত্ততার সাথে পালস্না দিয়ে উপকূলে মানুষ তার বসতি গড়ে তুলেছিল। লড়াই করে টিকে থাকা মানুষগুলো এখন বারেবারে দুর্যোাগের মধ্যে পড়ায় তাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি-শঙ্কা তৈরি করেছে। কেন এবং কি কারণে প্রকৃতি এমন রম্নষ্ট হলো?

গৌরাঙ্গ নন্দী
ব্যুরো প্রধান, খুলনা অফিস, দৈনিক কালের কণ্ঠ, খুলনা

উপকূল বাংলাদেশ

উপকূল বাংলাদেশ

পাঠকের মন্তব্য