ঝালকাঠির প্রাচীন বড় মাছ বাজারে সংকটের শেষ নেই
- ০০:৪৩
- উপকূল আজ, উপকূল সংবাদ, ঝালকাঠি জেলা, মধ্য-উপকূল, সর্বশেষ
- ৫৯৯
প্রতিবেদন উপকূল বাংলাদেশ, ঝালকাঠি ● প্রাচীন ঐতিহ্যের জেলা শহর ঝালকাঠির দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বাজারগুলোর চেহারা আজও ফিরেনি। স্বাধীন সংগ্রামের ফসল সমাজের বহু শ্রেণি ভোগ করলেও বাজারগুলোর ব্যবসায়ীদের চেহারা আগের মতই। স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বাজার মাছ ব্যবসায়ীদের দূরত্বের কারণে চিত্রটি একই অবস্থায় রয়ে গেছে।যুগের পর যুগ পেরিয়ে গেলেও ঝালকাঠি জেলা শহরের প্রধান (বড়) মাছ বাজার ও যাতায়াত পথের চিত্রটি আজও পাল্টায়নি। ঝালকাঠি শহরের বাজার ক’টিসহ গ্রামাঞ্চলের বাজারগুলোতে মাছ সরবরাহ হয় এখান থেকে। বরফ, বিদ্যুৎ ও পানি সমস্যাসহ বিধ্বস্ত রয়েছে দালানের ছাদটি। নেতাদের কাছ থেকে একের পর এক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি মিললেও মাছ ব্যবসার সাথে জড়িতরা কথার বুলিতে হারিয়ে যাচ্ছে সে সব আশ্বাস। এখান থেকে ঝালকাঠি শহরের চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজারে মাছ পাঠানো হয়।
এরমধ্যে কীর্ত্তিপাশা, টেকেরহাট, নাচনমহল বাজারে মাছ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তাছাড়া পূর্ব চাঁদকাঠি বাজারে ৮০ ভাগ মাছ সরবরাহ করা হয়ে থাকে এখান থেকে। একসময়ে জেলা উপজেলাগুলো ছাড়িয়ে অন্য জেলায়ও মাছ চালান দেয়া হত।
মাছ ব্যবসায়ীরা আরো জানান, বাজারের ছাদে ফাটলের কারণে বর্ষার দিনে বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। বৃষ্টিতে ভিজে তাঁদের বেচা-বিক্রি করতে হয়। তাছাড়া বাজারটি নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে দুর্গন্ধ পোহাতে হয় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই। অপরিষ্কার থাকার কারণে নাক বন্ধ করে ঢুকতে হয় ক্রেতাদের। ১০-১২ বছর আগে দালানটি নির্মিত হলেও সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি। ফলে সন্ধ্যার আগেই সেখানের বেচা-বিক্রি শেষ করতে হয়।
বাজারে যাতায়াতের পথে সব্জি বিক্রেতাদের পসরা থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় ক্রেতাদের। সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পারিবারিক ভাবে চাষ করা সব্জি নিয়ে এসে পথে বিক্রি করছেন চাষিরা। সাজি, ঢালা, ছালার চট বিছিয়ে অস্থায়ীভাবে সব্জি ও বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় ফল বিক্রি করা হচ্ছে। কালীবাড়ি রোডের কালীমন্দিরের উত্তর পাশের রাস্তা দিয়ে বাজারে প্রবেশের চিত্র এটি।
এছাড়াও দক্ষিণ দিক থেকে ধানসিড়ি রেস্ট হাউজ সংলগ্ন বাজারে প্রবেশের পথটি পান, সুপারি ও চুন বিক্রেতারা আটকে রেখে বেচা-বিক্রি করছে। বারচালার সামনের খোলা জায়গায় অস্থায়ীভাবে বসেছে কয়েকটি দোকান। সেখানে বিরাজ করছে স্যাঁত স্যাঁতে পরিবেশ। কয়েকটি চায়ের দোকান, ডাব, পান ও মুড়ি বিক্রেতারা দখল করে নিয়েছে এ জায়গাটি।
ঝালকাঠি জেলা মৎস্য শ্রমিকলীগ ও ঝালকাঠি মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ভান্ডারী বাজারটি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট এসকল সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
//মো. আতিকুর রহমান/ উপকূল বাংলাদেশ/ঝালকাঠি/২৮০৯২০১৪//
