প্রধান শিক্ষক বিহিন ৫৬০ প্রাইমারী স্কুল, বরিশাল বিভাগের চিত্র!

img_9584.jpgরফিকুল ইসলাম, বরিশাল ● বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬৩ নং বদিউল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রায় শত বছরের পুরানো এ বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী রয়েছে চার শতাধিক। ফলাফল বিবেচনায় স্কুলটি জেলার কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় খারাপ নয়। কিন্তু সমস্যা হল শিক্ষক শুন্যতা। বিদ্যালয়টির চারশতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ৬ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছে তিনজন। তাও আবার প্রধান শিক্ষক ছাড়াই। স্কুলটি গ্রামে অবস্থিত হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যাবস্থা খারাপ হবার কারনে প্রধান শিক্ষক তাহমিনা চৌধুরী বদলীর আদেশ নিয়ে চলে গেছেন নগরীর সন্নিকটে অবস্থিত লামছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

একই কারনে অপর দুই সহকারী শিক্ষকও চলে গেছেন এ প্রতিষ্ঠান ছেড়ে অন্যত্র। ফলে তিনজন শিক্ষক দিয়ে চলছে শিক্ষাকার্যক্রম।একই অবস্থা উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ৭০নং চন্দ্রমোহন হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালযের। এ প্রতিষ্ঠানটিতে সাড়ে চারশ শিক্ষার্থীর জন্য ৮ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও রয়েছেন মাত্র তিনজন।

প্রধান শিক্ষক সাহিদা নাসরিন নগরীর বাসিন্দা হওয়ায় লবিং তদ্বিরের মাধ্যমে বদলীর আদেশ নিয়ে চলে এসেছেন বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি আসার পরপরই চারজন সহকারী শিক্ষকও এখান থেকে চলে এসেছেন বদলীর আদেশ নিয়ে। এ কারনে সারে চারশ শিক্ষার্থীকে ওই তিনজন শিক্ষকই পাঠদান করাচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক সাহিদা নাসরিন বললেন নগরীর বাসিন্দা হওয়ায় দুটি নদী পারি দিয়ে চন্দ্রমোহন হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে পাঠদান করিয়ে আবার ফিরে আসা সম্ভব নয়। তাই বদলরি আদেশ নিয়ে কাছাকািিছ চলে এসেছি। গ্রামের স্কুলগুলোর সকল শিক্ষকরাই এরকম করছেন। কারন যাত্য়াাতে অসুবিধার কারনে কেউই গ্রামের স্কুলে থাকতে চান না।

কেবল এ দুটি বিদ্যালয়ই নয় বরিশাল বিভাগের ৫৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। একইভাবেসহকারী শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে ৪৪৫টি। আর এ সবগুলোই গ্রামের স্কুলগুলোতেই। প্রাথমিক শিক্ষা বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালকের দেয়া তথ্যানুযায়ী বিভাগের ৬ জেলায় মোট স্কুলের সংখ্যা ৩ হাজার ৩০৫টি। এর মধ্যে বরিশাল নগরী ও ছয়টি জেলা শহরে অবস্থিত স্কুলের সংখ্যা রয়েছে দেড় হাজারের মত। বাকি স্কুলগুলো গ্রামে। বরিশাল জেলার ৯৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫৩ স্কলে প্রধান শিক্ষক নেই। এখানে সহকারী শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে ১৩১টি। পটুয়াখালী জেলার ৫৮২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৫টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে ৯৮টি।

পিরোজপুর জেলার ৬০৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০২টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে ৪৯টি। ভোলা জেলার ৪২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৫টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে ৮৯টি। বরগুনা জেলার ৩৭৯টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মদ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে ৭০টি। সহকারী শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে ৩৭টি। ঝালকাঠি জেলার ৩৬৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্শকের পদ শুন্য রয়েছে ৭৫ট। সহকারী শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে ৪১টি। এ তালিকার মধ্যে শহরের স্কুলগুলো নেই। তবে গ্রামের স্কুলগুলোতে শিক্ষক সংকট রয়েছে ব্যাপক। এর কারন হচ্ছে শিক্ষকরা বদলরি আদেশ  নিয়ে শহরমুখী হওয়া।

নগরীর গীর্জামহল্লা এলাকার ইসলামিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের পদ সংখ্যা ৮টি। সবগুলো পদ পরিপুর্ন থাকা সত্বেও এখানে ডেপুটেশনে আনা হয়েছে আরো একজন শিক্ষক। এখানে সারে তিনশ শিক্ষাথীর পাঠদানে এরপরও হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠান কতৃপক্ষকে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বললেন সারে তিনশ শিক্ষার্থীর পাঠদান ৮ জন শিক্ষককে দিয়ে হয়না। তাই ডেপুটেশনে আরো একজন আনা হয়েছে।

নগরীর কাশিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮ জন শিক্ষকের সৃষ্ট পদ থাকলেও তা সবকটিই পুর্ন রয়েছে। এখানের তিনশ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করানোর জন্য ডেপুটেশনে আরো একজন শিক্ষক নিয়ে আসা হয়েছে। প্রকিতষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক ফিরোজা বেগম বললেরন একজন শিক্ষক ট্রেনিংএ থাকায় ডেপুটেশনে আর একজন নিয়ে আসা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করানোর জন্য আরো শিক্ষক প্রয়োজন এমন দাবিও রয়েছে তার।

প্রাথমিক শিক্ষা বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক মাহবুব এলাহী বলেন, শহরের স্কুলগুলোতে শিক্ষকের কোন শুন্যতা নেই। বরং অধিকাংশ স্কুলে বাড়তি চাপ সামলাতে স্কুল পরিচালনা কমিটি নিজেদের অর্থায়নে বাইরে থেকে শিক্ষক এনে নেন। গ্রামের স্কুলগুলোতে শিক্ষকরা থাকতে চাননা বলে সেখানে শিক্ষক সংকট রয়েছে ব্যাপক। আর এ সংকটটা প্রধান শিক্ষকদের বেলায়ই বেশি হয়ে থাকে। কারন তারা উপর থেকে বদলীর আদেশ নিয়ে চলে যায়। এক্ষেত্রে আমাদেরও কিছু করার থাকে না। যার ফলে গামের স্কুলে শিক্ষক সংকট বেরেই চলছে।

//রফিকুল ইসলাম/ উপকূল বাংলাদেশ/বরিশাল/১৫০৯২০১৪//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য