শরতেও জমজমাট ঝালকাঠির নৌকার হাট
- ১৫:৩৪
- উপকূল আজ, উপকূল সংবাদ, ঝালকাঠি জেলা, ফিচার, মধ্য-উপকূল, সর্বশেষ
- ২৫৫
ডেস্ক উপকূল বাংলাদেশ ● শরতেও জমজমাট বরিশাল অঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার সীমান্তবর্তী আটঘরের নৌকার হাট।মূলত বর্ষা ঋতুকে কেন্দ্র করে খাল-বিল আর নদী বেষ্টিত বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বড় নৌকার হাট এটি জমে ওঠে। তবে পুরোদমে বিক্রি চলে হেমন্ত পর্যন্ত। রাইজিংবিডি ডট কম এ তথ্য দিয়েছে।
বর্ষা মৌসুমের পেয়ারা, আমড়া কিংবা মাছের ঘের সবখানেই নৌকা প্রধান বাহন ।
শুধু কৃষি কাজই নয়, এ অঞ্চলে অনেক এলাকা আছে, যেখানে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যেতেও নৌকা ছাড়া ভাবাই যায় না।
এখানের প্রতি হাটে দেড়-দুই লাখ টাকার নৌকা বিক্রি হচ্ছে বলে জানান হাটের ইজারাদার মনোজ কুমার রায়। সাধারণ বিক্রেতাদের কাছ থেকে হাজারে ১০০ টাকা করে ইজারা নেওয়া হচ্ছে জানান ইজারাদার মনোজ।
হাটে আসা সন্তোষ মিশ্রি নামের এক নৌকা বিক্রেতা বলেন, দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে এক একটি নৌকা। বছরের চার মাস এখানে প্রতি শুক্রবার নৌকার হাট বসছে। বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলার হাজার হাজার মানুষ শত বছর ধরে এ পেশায় জড়িত জানান ওই নৌকা বিক্রেতা।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম গ্রামের মিস্ত্রী আব্দুল খালেক বলেন, গ্রামের সাধারণ গাছ যেমন রেইনট্রি, মেহগনি এমকি সাড়ি চাম্বল গাছ থেকেও নৌকা তেরি করা হয়। এক একটি নৌকা তৈরি করতে কমপক্ষে সাত দিন লেগে যায়। হাটের ইজারার টাকা দিয়ে এক একটি নৌকা বিক্রি করে ৩০০ টাকা লাভ হয়।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া গ্রামের মো. আব্দুল খালেক নৌকা কিনতে আসেন এই হাটে। তিনি জানান, প্রতি বছরই তিনি এ মৌসুমে ডিঙি নৌকা কিনে থাকেন। দেড়-দুই হাজার টাকায় দুই একটি করে সিজোনাল নৌকা কিনে তা দিয়েই চলাচল করেন।
এ ব্যপারের কথা হয় ঝালকাঠি বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক আশ্রাফুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিসিক এ শিল্পটিকে সহায়তা করে আসছে। তবে নৌকা তৈরির কারিগররা চরম দরিদ্র পরিবারে। পুঁজি না থাকায় এ শিল্পকে প্রসারিত করতে পারছেন না তারা।
তিনি জানান, নৌকা তৈরি সামান্য আয় তাদের মৌসুমি পেশামাত্র। তাই এ শিল্পে জড়িতদের সরকারিভাবে সুদমুক্ত ঋণ কিংবা এককালীন অনুদান দিলে নৌকা তৈরির এ পেশাকে সারা বছরের স্থায়ী পেশায় রূপান্তর করা করা যায় বলে পরামর্শ দেন বিসিকের ওই কর্মকর্তা ।
//ডেস্ক উপকূল বাংলাদেশ/০৯০৯২০১৪//
