মেঘনা বদলে দিচ্ছে হিজলার মানচিত্র
- ১৩:৪৯
- উপকূল সংবাদ, বরিশাল জেলা, বিশেষ প্রতিবেদন, মধ্য-উপকূল, সর্বশেষ
- ২১৬
ডেস্ক উপকূল বাংলাদেশ ● বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীর ভাঙ্গন এখন তান্ডবে রূপ নিয়েছে। চারদিনে দেড় শতাধিক বসত ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গনের মুখে এখন উপজেলার ব্যাবসায়িক বন্দর হরিনাথপুর। গৃহহারা পরিবারের সদস্যরা খোলা আকাশের নীচে অবস্থান করলেও কোন সহায়তা পায়নি। তবে নদী ভাঙ্গন রোধে কোন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে পরিষদের সীমাবদ্ধতার কথা বলছে উপজেলা প্রশাসনের কর্তারা। ভয়েস অব বরিশালএ খবর দিয়েছে।
হরিনাথপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুল হক মুন্না জানালেন, বছরের পর বছর ধরে মেঘনার ভাঙ্গনে হরিনাথপুর এবং ধূলখোলা ইউনিয়নের শত শত বসত ঘর এবং স্থাপনা বিলীন হয়েছে। চার দিন ধরে মেঘনার অব্যাহত ভাঙ্গনে হরিনাথপুরের দেড়শ পরিবার ভিটের মাটি হারিয়ে কেউবা খোলা আকাশের নীচে অবস্থান নিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দশ কেজি করে চাল দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে মাত্র। আর কোন সহায়তা পায়নি ভাঙ্গুলি পরিবারগুলো।
মুন্না আরো জানান, চার বছর আগে তৎকলীন পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন হিজলায় মেঘনার ভাঙ্গন দেখে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্থায়ী পদক্ষেপ নিবেন বলে। সেই থেকে আজ অবধি কোন ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা নদী ভাঙ্গন রোধে প্রধান মন্ত্রীর দপ্তর এবং জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার জন্য ধর্ণা দিয়েছেন বহুবার। কোন সুখবর পাননি। তবে স্থায়ী ব্যাবস্থা নেওয়া না হলে হরিনাথপুর বাজার এবং পুরাতন হিজলার পুরোটাই বিলীন হবে মেঘনার গর্ভে এমনটাই জানালেন তিনি।
টুমচর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, ইতিমধ্যে হরিনাথপুর বাজারের ৮/১০টি দোকান, টুমচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বদরটুনি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রয়েছে ভাঙ্গনের মুখে। এছাড়াও হরিনাথপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, ফাজিল মাদ্রাসা, ৩টি মন্দির, ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পুরাতন হিজলার অধিকাংশ এলাকা এখন মেঘনার হুমকীর মুখে। তিনি আরো জানান, মেঘনার পানি বৃদ্ধি পাওয়াতে হিজলার বাউশিয়া, পুরাতন হিজলার ভেরী বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এতে প্লাবিত হয়েছে ৩ হাজার ঘরবাড়ি। তলিয়েছে ফসলী জমি।
উপজেলা ব্যাসায়ীক প্রাণ কেন্দ্র হরিনাথপুর বাজারের ব্যাবসায়ী আক্কাস আলী জানান, এই বাজার নদী গর্ভে হারিয়ে গেলে ৮ থেকে ৯শ দোকানদার কর্মহীন হয়ে পরবে। কোটি কোটি টাকার স্থাপনা এবং শত শত কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হবে ব্যাবসায়ীরা। তাদের দিকে তাকিয়ে এখনই মেঘনার ভাঙ্গনে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। এছাড়াও তিনি আশঙ্কা করছেন মেঘনার ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে এবং প্রতিরোধ করা না হলে ঐতিহ্যবাহী হরিনাথপুর ইউনিয়ন ও বড়জালিয়া ইউনিয়নের পুরাতন হিজলা বিলুপ্ত হয়ে বদলে যাবে হিজলা উপজেলার মানচিত্র।
মেঘনার ভাঙ্গন নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদি জানালেন, তাদের পরিষদের আর্থিক সঙ্গতি নেই এই ভাঙ্গন রোধ করার। তিনি ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। জেলার মাসিক সমন্বয় সভায় উত্থাপন করেছেন। তবে ভাঙ্গ রোধে স্থায়ী কোন ব্যাবস্থা না নিলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ আরো বাড়তেই থাকবে।
//ডেস্ক উপকূল বাংলাদেশ/৩০০৮২০১৪//
