দক্ষিণের সাগর-নদীতে মাছ নেই, দিশেহারা জেলেরা

zianagar-fish-pic-2.jpgআহাদুল ইসলাম শিমুল, জিয়ানগর Θ চলতি রমজানে মাছের চাহিদা মেটাতে উপকূলীয় অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকার মানুষের চাষ করা পাঙ্গাশই একমাত্র ভরসা। সাধারনত এ মৌসুমে সাগরে অনেক মাছ ধরা পড়ে থাকে। কিন্তু এ বছর সাগরে ও স্থানীয় নদীগুলোতে মাছের তেমন একটা দেখা মিলছে না। জেলেরা ফিরছেন খালি হাতে। দক্ষিনের বৃহত্তম মৎস্য বন্দর জিয়ানগরের পাড়েরহাটের আড়ৎ গুলোতে সাগর ও নদীর মাছের বদলে মিলছে চাষ করা পাঙ্গাশ ও কই মাছ। এ দৃশ্য সচারাচার এখানকার আড়তে দেখা যায় না। যে সব মাছ ধরা ট্রলার বঙ্গপসাগরে গিয়েছে তার অনেক জেলে জানিয়েছেন সাগরে খুব কম মাছ ধরা পড়ছে। যা তাদের খরচের তুলনায় খুবই সামান্য। সাগরে খুব কম মাছ ধরা পড়া সত্তেও কমছে না জলদস্যুদের তান্ডব।

ফলে বিপাকে পড়েছেন এসব জেলেরা। তারা অনেকেই চড়া সুদে বিভিন্ন এনজিও এবং মহাজনদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে সাগর ও নদীতে জাল নিয়ে নেমেছেন। রমজানে মাছের দাম বেশি থাকলেও এবার জেলেরা মাছই ধরতে পারছে না। পারছেনা তাদের কাঙ্খিত উপার্যন করতে। ফলে আশঙ্কায় রয়েছেন জেলেরা। কি ভাবে শোধ করবেন কর্জের টাকা। আবার কি ভাবেই বা পরিবারের চাহিদা পূরন করবেন। মাস না ফুরাতেই তো ঈদ।

উপকুলীয় অঞ্চলের জিয়ানগর, পাড়েরহাট, ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর, রাজাপুর, মঠবাড়িয়া, মোড়েলগঞ্জের অধিকাংশ বাজারে পাঙ্গাশ, কই ও তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে। আর যদি বাজারে কিছু সাগর বা নদীর মাছ উঠছে তারও আবার দাম আকাশ ছুম্বি। যা সাধারন ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

মাছ বিক্রেতা কাদের জানান, পাঙ্গাশ মাছ যশোর এবং সাতক্ষিরা থেকে আনা হয় আর কই আসে ময়মনসিংহ থেকে।
ভান্ডারিয়ার চরখালী ফেরী ঘাটের মাছ বিক্রেতা ওবায়দুল বলেন, গাঙ্গে এহন আগের নাহান মাছ নাই। যা দুই একটা পাওয়া যায় হ্যার আবার দাম ম্যালা।

পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরের আড়তদার নাসির জানিয়েছেন, বেশ কিছু দিন ধরে সাগরে আশানুরুপ মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই এই এলাকার মাছ ব্যবসায়ীরা পাঙ্গাশ এবং কই মাছ বিক্রি করছেন।

চরখালীর মাছ ধরা ট্রলার মালিক ইব্রাহিম হাওলাদার জানান, গত ৫ টা ট্রিপেই লস হইছে। সাগরে তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এই ব্যবসা করে দিন দিন দেনা হয়ে যাচ্ছি।

নদীতে মাছ না থাকার কারন উল্লেখ করে জিয়ানগরের এক মাছ ক্রেতা ছাদেক হাওলাদার আক্ষেপ করে বলেন, খালে ও নদীতে বিষ প্রয়োগ এবং নেট জাল সহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের কারনে বাজারে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।

জিয়ানগরের ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, আবহাওয়া জনিত কারনে সাগর ও নদীতে মাছ কম ধরা পড়ছে। তাই উপকুলীয় এলাকার অনেক এলাকাকে চাষ করা মাছের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

//আহাদুল ইসলাম শিমুল/ উপকূল বাংলাদেশ/জিয়ানগর-পিরোজপুর/০২০৭২০১৪//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য