জেলা বাজেটের তালিকায় উপকূলের দুই জেলা

4020140512191313.jpgডেস্ক উপকূল বাংলাদেশ Θ স্থানীয় উন্নয়ন তরান্বিত করতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার চলতি অর্থবছরে একটি মাত্র জেলায় বাজেট ঘোষণা করে তাদের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কিঞ্চিৎ রক্ষা করেছিল। এবার সেই প্রতিশ্রুতির মাত্র ১০ শতাংশ পূরণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।আসছে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে সাত বিভাগের সাতটি জেলায় বাজেট ঘোষণা করা হবে। সম্ভাব্য জেলার তালিকায় উপকূলের দুই জেলা বরিশাল ও কক্সবাজার রয়েছে। সম্ভাব্য অপর জেলাগুলো হলো : গাজীপুর, যশোর, রংপুর, সুনামগঞ্জ ও নীলফামারী।

নবম জাতীয় সংসদে ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের বাজেট পেশ করার সময় টাঙ্গাইল জেলার জন্য পরীক্ষামূলক বাজেটের ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সেই সময় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, এই বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে আগামী অর্থবছরে সাত বিভাগের সাতটি জেলায় বাজেট ঘোষণা করবেন।

টাঙ্গাইল জেলার বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থ আশানারূপ বাস্তবায়ন না হলেও একেবারে হতাশাজনক নয়। পরীক্ষামূলক এই বাজেট বাস্তবায়নে যে সব প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে তা নতুন সাত জেলায় পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে অপসারণ করা সম্ভব হবে।

প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে টাঙ্গাইল জেলার জন্য মোট ১৬৭৩ কোটি ৪৫ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

এর মধ্যে অনুন্নয়ন ব্যয় বরাদ্দ ছিল ১১১৮ কোটি ৫৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ধার্য করা হয়েছিল ৫৫৪ কোটি ৯০ লাখ ২৪ হাজার টাকা। আয়তন, লোকসংখ্যা, বাণিজ্য বা শিল্পঞ্চল কিনা এবং উন্নয়ন, অনুন্নয়ন পরিস্থিতি বিবেচনা করে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

জেলা বাজেটে স্থানীয় সরকারে কতটুকু উন্নয়ন বয়ে আনবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। জেলা বাজেট এখনো জরুরি নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এর ব্যাখাও দিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী।

তার মতে, একটি জেলায় বাজেট হতে হলে সেই জেলায় আলাদা রাজস্ব কাঠামো থাকতে হবে। কারণ রাজস্ব থেকে যে আয় হবে তা দিয়েই ওই জেলার উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন ব্যয় মেটানো উচিৎ। যদি এরকম কিছু করা যায় তাহলে রাজস্ব বাজেট কাজে আসবে। নয়তো বাজেট পাওয়া জেলাগুলোর মতো বরাদ্দ না পেয়ে অন্যান্য জেলাগুলো বাজেটে আঞ্চলিক বৈষমের অভিযোগ তুলতে পারে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান ৪৫ জেলায় বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত নিয়েছেন। ওই সব জেলার সাধারণ মানুষেরা বলেছেন, তারা সব ধরণের কর দিত রাজি। তবে তাদের দেওয়া কর তাদেরই জেলার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে এমন নিশ্চয়তা চায়। অর্থাৎ জেলা বাজেট হলে রাজস্ব কাঠামোর আওতায় আসতে তাদের কোনো দ্বিমত নেই। এতে রাজস্ব আহরণের গতি বাড়বে।

অর্থমন্ত্রী নতুন অর্থবছরে কমপক্ষে ১২ লাখ নতুন করদাতা সৃষ্টির ঘোষণা করেছেন। বাজেটে এরকম একটি ঘোষণা থাকবে তা একদমই নিশ্চিত।

জেলা বাজেটের পাশাপাশি ওই সব জেলায় জেলা করকাঠামো তৈরি করলে রাজস্ব আহরণও বাড়বে বলে মনে করে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের চেয়ারপারসন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেছেন, বাজেট যাই হোক না কেন তা বাস্তবায়ন সবচেয়ে জরুরি।

/সৌজন্যে-রাইজিংবিডি.কম/১৩০৫২০১৪//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য