এক গাছে চার নাইট কুইন, কাউখালীতে ফুটেছে অপরূপ সুন্দর রাতের রানী

kaukhlai-night-12.jpgরবিউল হাসান রবিন, কাউখালী Θ প্রকৃতি কী অপরূপ। কী তার শোভা। এখানে প্রতিদিন কত ফুল ফোটে আর কত ফুল ঝরে যায়। গভীর একরাতে ফুটে মুগ্ধকর সৌন্দর্য আর চারদিকে সুভাস ছড়িয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলিয়ে যায় বলে এ ফুলের নাম নাইট কুইন-রাতের রানী।

অনেকে একে সৌভাগ্য ও পবিত্রতার প্রতীক মনে করেন। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যেও লজ্জাবতী এ দুর্লভ ফুল যদি একসঙ্গে অনেক ফোটে তাহলে তা দেখার আনন্দও যেন অনেক বেশি। প্রকৃতিতে দুর্লভ ফুল নাইট কুইন। সচরাচর যা চোখে পড়ে না। নাইট কুইনের জন্য অপেক্ষা করতে হয় বছরের পর বছর পর্যন্ত। শুধুমাত্র রাতের আঁধারে ফোটে এ ফুল। যে কারণে নাম হয়েছে নাইট কুইন।

পিরোজপুরের কাউখালী উওর বাজার এলাকার আফরোজা সুলতানা খুকুর  একটি গাছে দীর্ঘ সাত বছর অপেক্ষার পর গতকাল রবিবার রাতে এক এক করে চারটি নাইট কুইন ফুল ফোটে।

যে রাতে ফুল ফুটে সেদিন বিকালেই কলিটি অদ্ভুত সুন্দর সাজে সজ্জিত হয়ে ওঠে। তখন এর দিকে তাকালে খুব সহজেই বোঝা যায় রাতের রানী আসছে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে কুঁড়ি থেকে ফুল ফুটতে শুরু করে। পৃথিবী অন্ধকারে ছেয়ে গেলে আস্তে আস্তে মেলতে শুরু করে নাইট কুইনের কলি। রাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একটি দুটি করে পাপড়ি মেলতে থাকে। রাত ১২টায় পূর্ণতা পায় ফুল তিনটি। মিষ্টি এক ধরনের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এ গন্ধে তীব্রতা না থাকলেও আছে এক ধরনের অদ্ভুত মাদকতা, যা যে কোনো মানুষকে মোহিত করার জন্য যথেষ্ট।

পরিপূর্ণ অন্ধকার যখন রাতকে আনন্দিত করে নাইট কুইন তখন অন্ধকারে বুকচিরে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে মেলে ধরে। রাত যত বাড়তে থাকে তার রূপ ততই খুলতে থাকে। নিশাচর পতঙ্গরা রাতের রানীর মোহময় সৌরভে আকৃষ্ট হয়ে উন্মাদের মতো ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার বুকে। পূর্ব আকাশে আলোকছটা দেখা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে মৃত্যু ঘণ্টা বেজে ওঠে নাইট কুইনের।

ফুল ফোটার খবর পেয়ে আশপাশের শ’ শ’ নারী-পুরুষ তাদের বাসায় ভিড় করেছিল। সাংবাদিকসহ অনেক দর্শনার্থী শহর থেকেও ছুটে গেছেন সেখানে। বাসায় বাসায় এমন ফুল ফুটলে এ ফুলের জন্য সবাই একসঙ্গে আনন্দ উপভোগ এবং একে অপরের সঙ্গে বন্ধুর সম্পর্ক গড়ে উঠবে বলে তারা মনে করেন।

/রবিউল হাসান রবিন/উপকূল বাংলাদেশ/কাউখালী-পিরোজপুর/১২০৫২০১৪//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য