২৭ কোটি টাকার ‘এমভি বাঙালি’ ১০ দিন পরই বন্ধ!

140510-mv-bangli_350_213.jpgডেস্ক উপকূল বাংলাদেশ Θ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) নতুন যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি বাঙালি’ বাণিজ্যিকভাবে চলাচল শুরু করে গত ১০ এপ্রিল। ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ১০ দিন চলেও জাহাজটি। এর পর থেকেই এটি বসিয়ে রাখা হয়েছে।এমভি বাঙালি চললে বেসরকারি ছোট লঞ্চগুলো যাত্রী পায় না। এ কারণে জাহাজটি বন্ধ রাখতে বেসরকারি লঞ্চ মালিকরা চাপ দিতে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে চালুর মাত্র ১০ দিন পরই বসিয়ে রাখা হয়েছে জাহাজটি। রোজার আগে এটি চালু হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

বিআইডব্লিউটিসির একাধিক সূত্র জানায়, প্রশস্ত ও উন্নত প্রযুক্তির নতুন এ জাহাজে ভ্রমণ করে যাত্রীরা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আর ভাড়া নিয়েও কোনো জটিলতা নেই। সরকার নির্ধারিত হারেই ভাড়া আদায় করা হয়। তাই এমভি বাঙালি যেদিন চলে, বেসরকারি কোনো লঞ্চ সেদিন আর যাত্রী পায় না। এ কারণে জাহাজটি বন্ধ করতে নানা রকম তৎপরতা শুরু করেন বেসরকারি লঞ্চ মালিকরা। রোজার সময় যাত্রী চাহিদা বাড়লে জাহাজটি চালানোর জন্য চাপ দেয়া হয়। একসময় এমভি বাঙালি জাহাজ ঘাটে ভিড়তেও বাধা দেয়া হয়। এতে বাধ্য হয়ে এটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

যদিও কোনো ধরনের চাপ দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে লঞ্চ মালিক সমিতি। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর চৌধুরী বলেন, বেসরকারি লঞ্চের চেয়ে বিআইডব্লিউটিসির জাহাজের মান অনেক ভালো। তাই এমভি বাঙালিতে যাত্রী বেশি হয়। তবে বিআইডব্লিউটিসির জাহাজ চলাচল বন্ধে লঞ্চ মালিক সমিতির কোনো চাপ নেই।

প্রায় ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এমভি বাঙালি নির্মাণ করে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জাহাজটি বুঝে নেয় বিআইডব্লিউটিসি। এর পর এক মাস পরীক্ষামূলক চলাচলের পর গত ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করেন। ১০ এপ্রিল থেকে ঢাকা-বরিশাল রুটে এমভি বাঙালি বাণিজ্যিকভাবে চলাচল শুরু করে। এর পর ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিন যাতায়াত করে এটি।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বলছে, এমভি বাঙালিতে নানা ত্রুটি রয়েছে। জাহাজটিতে ব্যবহূত বিভিন্ন সরঞ্জামও পুরনো। লাইট ও সার্চ লাইটগুলো পুরনো, ক্লিয়ার ভিউ দুটি অচল ও পুরনো, ইকোসাউন্ড রিডিং নেই, যে রাডার বসানো হয়েছে, তাতে কিছু বোঝা যায় না, ইলেকট্রিক ও এয়ার হর্ন অকেজো, মেইন হর্ন পুরনো ও শুধু ভেতরে বাজে বলে এর বডি কেঁপে ওঠে এবং বাইরে শোনা যায় কম। এছাড়া জাহাজের জাইরো কম্পাসও অকেজো। প্রথম শ্রেণীর সেলুনের লাইটগুলো পুরনো, বিছানাগুলোর ফোমের মান খারাপ, ২৫০ হর্সের জেনারেটর প্রয়োজন হলেও দেয়া হয়েছে ১২০ হর্স পাওয়ারের, দ্বিতীয় শ্রেণীর কেবিনে প্রচণ্ড গরম, প্রথম শ্রেণীতে টেলিভিশন ও বেসিন নেই। এছাড়া প্রথম শ্রেণী ও স্টাফদের জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ নেই। এমনকি ডেকে লাগানো প্লেটও অত্যন্ত পাতলা, কিছুদিনের মধ্যেই যা বাঁকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এ প্রসঙ্গে বলেন, এমভি বাঙালিতে কিছু কারিগরি ত্রুটি রয়েছে বলে শোনা গেছে। মূলত এ কারণেই জাহাজটি বন্ধ রাখা হয়েছে। সংস্কার শেষে রোজার আগেই এটি পুনরায় নামানো হবে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন এমভি বাঙালি ক্রয় প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী জিয়াউল ইসলাম। তিনি বলেন, এমভি বাঙালি জাহাজটি জাপানের উন্নততর প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এক বছর ওয়ারেন্টি পিরিয়ড দিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে ওয়েস্টার্ন মেরিন সমস্যা সমাধান করে দেবে। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকে কোনো ত্রুটি ধরা না পড়ায় ওয়েস্টার্ন মেরিনের কাছে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তবে কেন জাহাজটি বসিয়ে রাখা হয়েছে, তা বোধগম্য নয়।

প্রসঙ্গত, এমভি বাঙালির যাত্রী পরিবহনক্ষমতা ৭৫৮ জন। এর মধ্যে ভিআইপি বা ফ্যামিলি সুট কেবিন রয়েছে চারটি, প্রথম শ্রেণীর ডাবল কেবিন ৩৪টি ও সিঙ্গেল কেবিন চারটি। দ্বিতীয় শ্রেণীর ডাবল কেবিন ১৮টি ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চেয়ার ৮৪টি। এছাড়া ডেকে ৫৫০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা রয়েছে জাহাজটি। এটির দৈর্ঘ্য ৭৫ দশমিক ৭৫ মিটার, প্রস্থ ১২ দশমিক ৫, উচ্চতা ৩ ও গভীরতা ১ দশমিক ৬ মিটার। জাহাজটির গতিবেগ ঘণ্টায় ১১ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল।

/সৌজন্যে-খুলনানিউজ.কম/১০০৫২০১৪//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য