জেলেদের সমুদ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু, ব্যস্ত ডক শ্রমিকেরা

kalapara-tollar-pic-012704.jpgমিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া Θ ট্রলার তৈরি ও মেরামত করে পাল্টে যাচ্ছে উপকূলীয় এলাকার ডক শ্রমিক ও কাঠ মিস্ত্রিদের অর্থনৈতিক অবস্থা। প্রতিদিনই ডকগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রলার আসছে সংস্কারের জন্য। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই সাগরে মাছ শিকারের জন্য কলাপাড়ায় ট্রলার তৈরির ধুম পড়ায় এখন দম ফেলার সেময় নেই ডক শ্রমিকদের। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার আলীপুর ও মহীপুর মৎস্য বন্দরের নির্মান ডক পাল্টে দিয়েছে এখানকার হাজার হাজার মানুষের ভাগ্য।জানাযায়, কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরারত অধিকাংশ ট্রলার তাদের সমুদ্র থেকে আহরিত মাছ বিক্রির জন্য আসে আলীপুর ও মহীপুর বাজারে। ইলিশ মৌসুমে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচশ ট্রলার এখানে আসে মাছ বিক্রির জন্য। মাছ বিক্রি শেষে ট্রলারগুলো এখানেই শিববাড়িয়া নদীর মোহনায় ৩/৪দিন আশ্রয় নেয়। মূলত সাগরে মাছ ধরার সময়ে ট্রলারে বিভিন্ন সমস্যার কারনে এখানে এসে ট্রলারের ভেঙ্গে যাওয়া অংশ ,ফাঁটল মেরামত ও নতুন করে সাজিয়ে নেই এখানকার ডকইয়ার্ড গুলো থেকে। এজন্য মহীপুর বন্দরে তিনটি ও আলীপুর বন্দরে একটি ডক গড়ে উঠেছে। এখানে কাজ করছে এখন কয়েকশ শ্রমিক।

ডক মালিকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, এখানে প্রতিমাসে অন্তত দেড় শতাধিক ট্রলার সংস্কার রা হয়। মাসে গড়ে ২/৩টি ট্রলার নির্মান করা হয়। প্রতিটি ডকে গড়ে মাসে ৩০-৪০ টি ট্রলার এবং বছরে অন্তত সাড়ে তিনশ থেকে চারশ ট্রলার মেরামত করা হয়।

সরেজমিনে কলাপাড়ার শিববাড়িয়া নদী ঘেষা আলীপুর বেল্লাল কোম্পানীর ডক ঘুরে দেখা যায়, নদীর পূর্বপাড়ে অন্তত ২৫ টি ট্রলার নতুন করে সংস্কার হচ্ছে। নির্মান হচ্ছে নতুন ৫টি ট্রলার। এ ডক এরিয়ার বিস্তীর্ন এলাকাজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছে কাঠমিস্ত্রীরা। এদেরই একজন সোহরাব মিস্ত্রি (৪৫)। পাথরঘাটার এ মিস্ত্রি গত তিন বছর ধরে পাঁচশ টাকা হাজিরা হিসেবে এখানে কাজ করছেন। তিনি জানান, তাদের কাজ শুধু ট্রলার আসলে তার সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার করা। প্রতিটি ট্রলার ঠিক করতে ৪-৭দিন পর্যন্ত সময় লাগে। এছাড়া একটি নতুন ট্রলার তৈরি করতে ১৫-২০ জন মিস্ত্রিরির এক মাসেরও বেশি সময় লাগে। তার মতো এখানে প্রায় অর্ধশত মানুষ কাজ করছে।

মিস্ত্রিদের সাথে কথা বলে জানাযায়, সাগরে ক্রমশ ট্রলার ডুবির আশংকা বাড়ায় এখন মূলত কাজ হচ্ছে ট্রলারের বডি পরিবর্তন। যেসব ট্রলারের বডি ছোট এবং কম উঁচু তার কাঠামো পরিবর্তন করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে এই কাজ এখন বেশি হচ্ছে। বর্তমানে ৫২ ফুট দীর্ঘ ১৩ ফুট প্রস্থ্য সাইজের ট্রলার বেশি তৈরি হচ্ছে। তাদের হিসাবে একেকটি ট্রলার তৈরিতে অন্তত ৩০-৩৫ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।

ট্রলার মিস্ত্রি মিজান জানান, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে এখানে কাজ করছেন। আগে কাজ কমছিলো। কিন্তু এখন দম ফেলার সময় নেই। একই অবস্থা অন্য ডকগুলোতেও।

একাধিক ট্রলার মালিক জানান, বর্ষাকালে সাগরের ঢেউয়ের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় এখন ছোট ট্রলার নিয়ে সাগরে মাছ শিকার করতে যাওয়া বিপদজনক। তাই ট্রলারের বডি পরিবর্তন করে উচ্চতা বাড়ানো হচ্ছে। একইভাবে ট্রলারের বাহা, গছা, গুডা ও ড্যাক পরিবর্তন করা হচ্ছে। এতে ট্রলার ডুবির আশংকা অনেক কমে যাবে।

আলীপুরের ডক মালিক বেল্লাল কাজী জানান, তার এই ডক তৈরি করতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা খরচ করেছেন। তার ডকে দুটি রেল পাডি লাইন রয়েছে। আরও রেলপাডি লাইন বসাতে পারলে বেশি ট্রলার আসতো। তিনি জানান, এখানে কলাপাড়া ছাড়াও বরগুনা, পাথরঘাটা, গলাচিপা, বড়বাইশদিয়া, রাঙ্গাবালী এলাকার ট্রলার আসে মেরামতের জন্য।

আগামী এক/দুইমাস পর্যন্ত চলবে এই সংস্কার কাজ। ডকে ট্রলার মেরামতকালীন প্রতিটি বড় ট্রলার থেকে তিনি ১৫’শ এবং ছোট ট্রলার থেকে ১২’শ টাকা ভাড়া পান। আর ট্রলার মেরামতের খরচ পান মিস্ত্রিরা।

/মিলন কর্মকার রাজু/উপকূল বাংলাদেশ/কলাপাড়া/২৭০৪২০১৪//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য