চৈত্রের তীব্র গরম, তালপাতার পাখা তৈরিতে ব্যস্ত চিতলমারীতে

chitalmari-photo-13-04-14-pakha.jpgমোঃ মিরাজুল ইসলাম, চিতলমারী, বাগেরহাট :: প্রচন্ড গরমে একটু শীতল পরশ পেতে বৈদ্যুতিক পাখার পাশাপাশি তালপাতার পাখার ব্যবহার মোটেও কমতি নেই। বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় অসহ্য গরমের দিনে স্বস্তি পেতে বিদ্যুৎ নির্ভরশীল এলাকার মানুষের কাছেও দিন দিন তালপাতার পাখার কদর বেড়ে চলেছে। যার ফলে বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে বানিজ্যিক ভাবে তৈরি হচ্ছে হাতপাখা। আর এসব পাখা তৈরির কাজে যুক্ত থেকে অনেক পরিবার আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে  এনেছে।

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক পরিবার বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরির পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন সময়ে তাল পাতার হাতপাখা তৈরি করে আর্থিক সংকট কাটিয়ে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। এ পেশায় জড়িত অধিকাংশই নারী। উপজেলার চরডাকাতিয়া গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে, এখানকার বেশীর ভাগ পরিবার পাখা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তাদের একটুও দম ফেরানোর ফুরসত নেই।

ওই গ্রামের স্মৃতি বালা (২৪), দুলালী বালা (২৫), কণা বালা (১৮) গীতা বালা (৩০)লতা বালা (৩৬) ফুলমালা বালাসহ (৫৫) প্রায় শতাধিক পরিবারের নারীরা রাত-দিন পাখা তৈরির কাজে ব্যস্ত। বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে তাদের এমন কর্মব্যস্ততা জানালেন তারা। ওই গ্রামের পাখা তৈরির কারিগর হৃদয় রঞ্জন বালা। তিনি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এ কাজ করে আসছেন। এ পেশা লাভজনক হওয়ায় এলাকায় বানিজ্যিক ভাবে এখন তৈরি হচ্ছে পাখা।

ব্যবসায়ীরা এসব পাখা পাইকারী মূল্যে খরিদ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে মেলা-আড়ংয়ে বিক্রির জন্য নিয়ে যায়। ডিজাইনের ওপর পাখার মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত এখানে বাট পাখা, ভাঁজ পাখা ও ঘুলিল পাখাসহ তিন ধরণের ডিজাইনের পাখা তৈরি হয়ে থাকে।

প্রতিটি পাখা ১৫টাকা থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এর মধ্যে ঘুলিল পাখা ও ভাঁজ পাখা দামের দিক থেকে বেশি কারণ এগুলো তৈরি করতে বেশ সময় লাগে। পাখা তৈরির জন্য বাঁশ,বেত, তালপাতা ও লাইলন সুতা ব্যবহার করা হয়। আর এগুলো আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য বিভিন্ন রঙের ব্যবহার রয়েছে। একজন কারিগর প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি পাখা তৈরি করতে সক্ষম হন। এখানকার তৈরি পাখার খুলনা, গোলগঞ্জ, বরিশাল, চট্রগ্রাম ও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

প্রতিবছর গ্রীষ্ম মৌসুমে পাখা বিক্রি করে এখান থেকে কয়েক লাখ টাকা আয় হয়।  নি¤œ আয়ের পরিবারে নারীদের জন্য এটি একটি বাড়তি আয়ের উৎস। পাখা তৈরি করে এ গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবারের নারীরা সংসারের খরচ যোগানোার পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগাচ্ছে। এলাকার বেকার লোকজন মৌসুমি পেশা হিসাবে এটাকে ভিন্ন আয়ের পথ হিসাবে বেছে নিয়েছে।

/মো. মিরাজুল ইসলাম/উপকূল বাংলাদেশ/চিতলমারী/১৩০৪২০১৪/

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য