শিক্ষার আলোয় প্রতিবন্ধী খাদিজা
- ২০:৫৯
- ঘটনাপ্রবাহ, নারী ও শিশু, ফিচার, সর্বশেষ
- ২৩৬
মো. রবিউল হাসান রবিন, কাউখালী, পিরোজপুর :: পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কচুয়াকাঠি গ্রামের দিনমজুর রেজাউল হক ও পরভীন বেগম দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে খাদিজা আক্তার স্কুলে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়ে এখন খুব খুশী।
প্রতিবন্ধীর তালিকায় তার এখনও নাম না উঠলেও সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র প্রতিবন্ধী মেয়েটি এখন লেখা পড়ার সুযোগ পেয়েছে। আর এ মহতি উদ্যোগের কাজ করেছেন একজন বিদ্যোৎসাহি ও সামাজিক উদ্যোক্তা আ. লতিফ খসরু। তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত প্রতিবন্ধী পাঠশালায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুটিকে শিক্ষার অধিকার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।
শিক্ষার আলোয় আসা খাদিজার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বই আর শ্লেট।সেখানে সে বর্ণমালা লিখতে ও পড়তে শুরু করেছে। সেখানে আরও ১৪জন বাক প্রতিবন্ধী ও শারিরীকি প্রতিবন্ধী শিশুদের সাথে খাদিজাও লেখা পড়া শুরু করেছে।
খাদিজার দিনমজুর বাবা রেজাউল হক শেখ জানান,খাদিজা শারিরীক প্রতিবন্ধী হিসেবে জন্ম নেওয়ার পর তারা নানা বিব্রতকর পরিস্থিতির কারনে মেয়েটিকে স্কুলে দিতে পারেননি। ঘরে বসেই মেয়েটির ১৩ বছর কেটেছে। এই ১৩ বছরে সে মাত্র ৩২ ইঞ্চি শারিরীক উচ্চতা নিয়ে সুস্থভাবেই বেঁচে আছে।
খাদিজার মা পারভীন বেগম বলেন,আমার প্রতিবন্ধী মাইয়ার তালিকায় আইজও নাম ওডে নাই। মাইয়ার বাপের দিনমজুরী আর আমি পরের বাড়ি ঝিয়ের কাম কইরা চার জনের সংসার চালাই। এত কষ্টের মধ্যে আমার প্রতিবন্ধী মাইয়া পাঠশালায় যাইতে পারব শুইনা খুশী হইছি।
প্রতিবন্ধী পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা আ. লতিফ খসরু বলেন প্রতিবন্ধী খাদিজাকে শিক্ষার আলো দিতে পাঠশালায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছি। এখানে আরও ১৫জন প্রতিবন্ধী শিশুর সাথে খাদিজা বর্ণমালা শিখবে। সপ্তাহের শনিবার ও রবিবার খাদিজা এখানে বর্ণমালা শিখবে। মেয়েটির পরিবার জানিয়েছে খাদিজা আজও প্রতিবন্ধী তালিকাভূক্ত হয়নি।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. গোলাম কবির বলেন,খাদিজাকে প্রতিবন্ধীর তালিকাভূক্ত করার বিষয়ে সম্প্রতি মাঠ পর্যায়ের যাবতীয় তথ্য জরীপ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। যা আমার দপ্তরে রয়েছে। তবে আরও কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্নে পর সে তালিকাভূক্ত হবে।
