পহেলা মে প্রকাশিত হচ্ছে ব্যতিক্রমী কমিউনিটি পত্রিকা ‘আন্ধারমানিক’

কমিউনিটি পত্রিকা ‘আন্ধারমানিক’ প্রকাশ উপলক্ষে সভা

প্রতিবেদক: উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পশ্চিম সোনাতলা গ্রাম থেকে প্রকাশিত হচ্ছে ব্যতিক্রমী ধারার কমিউনিটি পত্রিকা ‘আন্ধারমানিক’। গ্রামের শ্রমজীবীদের উদ্যোগে এ পত্রিকাটি প্রকাশিত হচ্ছে। পত্রিকার সম্পাদক, প্রতিবেদক সকলেই শ্রমজীবী। হাতে তৈরি এ পত্রিকাটি আগামী পহেলা মে ঐহিতাসিক মে দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে।

পত্রিকা প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। কমিউনিটি পত্রিকার সম্পাদক হাসান পারভেজ প্রত্যেক প্রতিবেদকের বাড়ি গিয়ে লেখার কলাকৌশল বুঝিয়ে দিচ্ছেন। এর আগে ১২ এপ্রিল শুক্রবার কমিউনিটি পত্রিকার পরিকল্পনা সভা হয়েছে সম্পাদকের বাড়িতে। ওই সভায় প্রত্যেক তথ্যকর্মীকে লেখার বিষয় ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। লেখা জমা দেওয়ার জন্য সময় বেধে দেওয়া হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয় পহেলা মে ঐতিহাসিক মে দিবসে পত্রিকাটির উদ্বোধনী সংখ্যা প্রকাশিত হবে। পহেলা মে হাসানের বাড়িতেই অনুষ্ঠিত হবে পত্রিকার প্রকাশনা অনুষ্ঠান। পশ্চিম সোনাতলা গ্রামের এই শ্রমজীবীরা প্রতি মাসে পত্রিকাটি বের করবে। পশ্চিম সোনাতলা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর নাম অনুসারে পত্রিকার নাম দেওয়া হয়েছে ‘আন্ধারমানিক’।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পশ্চিম সোনাতলা গ্রামে নিজ বাড়িতে গ্রামের আগ্রহী ১৩জন তথ্যকর্মী নিয়ে কমিউনিটি পত্রিকার পরিকল্পনা সভা করতে পেরেছেন হাসান পারভেজ। সভায় আমন্ত্রিত ছিল ১২জন বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী। তালিকাভূক্তদের মধ্য থেকে তিনজন অনুপস্থিত ছিলেন। তবে অনেক আগ্রহ নিয়ে তালিকার বাইরে থেকে যোগ দিয়েছেন চারজন। কমিউনিটি পত্রিকার টিমে তথ্যকর্মীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩-এ। এরা প্রত্যেকে পত্রিকার জন্য লিখবেন। নিজের গল্পের পাশাপাশি গ্রামের মানুষের এগিয়ে যাওয়ার কাহিনী লিখবেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন গ্রামের বয়:জ্যেষ্ঠ কৃষিজীবী সোহেল নাজির (৪৮)। গ্রামের অনেকেই এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করলেও সভাপতি এ ধরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। একইভাবে সভায় উপস্থিত তথ্যকর্মী ইয়ানুর বেগম (২২), জুয়েল নাজির (২০), শাহানাজ বেগম (৪৫) এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। নি:সন্তান বিধবা শাহনাজ বেগম নিজের জীবনের গল্প তুলে ধরে সভায় বলেন, আমার গল্পটা অনেক বড় হবে। তবুও লেখার সুযোগ পাবো- এটা ভেবে খুব ভালো লাগছে। পূর্ব নির্ধারিত তালিকায় না থাকলেও পত্রিকা প্রকাশের সভা হবে শুনে অতি আগ্রহ নিয়ে সভায় এসেছিলেন পঞ্চাশ বছর বয়সী দিনমজুর আকলিমা বেগম। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর আর লেখাপড়া হয়নি। এখন অতিকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তিনিও লিখতে চান কমিউনিটি পত্রিকায়। উপস্থিত প্রত্যেককে লেখার বিষয় ঠিক করে দেন দলনেতা হাসান পারভেজ। লেখার জন্য প্রত্যেককে একটি করে খাতা ও বলপেন দেন।

প্রথমে কমিউনিটি পত্রিকা প্রকাশের এলাকা হিসাবে নেওয়া হয়েছিল পশ্চিম সোনাতলা ও হোসেনপুর গ্রামের অংশ। কিন্তু হোসেনপুর গ্রামের কেউ তথ্যকর্মী হিসাবে সভায় যোগদান না করায় দলনেতা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পত্রিকাটি হবে শুধুমাত্র পশ্চিম সোনাতলা গ্রামের জন্য। সভায় উপস্থিত ছিলেন- ১. সোহেল নাজির (৪৮), কৃষিজীবী; ২. আকলিমা বেগম (৫০), দিনমজুর; ৩. জনি নাজির (১৮), মৎস্যজীবী; ৪. সোহাগ হাজারী (২০), তালরস সংগ্রহকারী; ৫. রুশিয়া বেগম (৩৫), গৃহিনী; ৬. সালমা বেগম (২২), গৃহিনী); ৭. ছত্তার শেখ (৪০), পক্ষাঘাতগ্রস্থ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী; ৮. শাহনাজ বেগম (৪৫), বিধবা নারী; ৯. ইয়াছনুর বেগম (২২), গৃহিনী; ১০. জুয়েল নাজির (২০), মৎস্যজীবী; ১১. মো. রবিউল (১৮), ক্ষুদ্র ব্যবসা; ১২. মো. শাহীন (১৮); এবং ১৩. হাসান পারভেজ (৩৪), ইটভাটার মজুর।

কমিউনিটি সংবাদপত্রের সম্পাদক হাসান পারভেজ বলেন, চারিদিকে শুধু খারাপ খবর। এই গ্রামের মানুষগুলো অনেক সংগ্রাম করে বেঁচে আছে। প্রতিটি মানুষের সংগ্রামের এক একটি গল্প রয়েছে। সংকটের ভেতরেও তারা টিকে আছে। এই গল্পগুলো আমরা জানতে চাই। সকলকে জানাতে চাই। একজনের ভালো খবর আরেক জনকে জানাতে এই সংবাদপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভালো খবর প্রকাশ করে আমরা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে চাই। ভালো প্র্যাকটিসকে উৎসাহিত করতে চাই। আগামী প্রজন্মকে আমরা ভালো চিন্তার দিকে নিতে চাই।

//১৫/০৪/২০১৯//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য