উপকূল সাংবাদিকতা সহায়কপত্র-১: দুর্যোগ মৌসুমের রিপোর্টিং প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত?

---

রফিকুল ইসলাম মন্টু

আপনি উপকূল বিষয়ে প্রতিবেদন লিখেন? আপনার লেখালেখিতে উপকূলের ইস্যুগুলো প্রাধান্য পায়? উপকূল নিয়ে আরও ভালো কিছু প্রতিবেদন করার কথা ভাবছেন? তাহলে আপনার জন্যেই দুর্যোগ মৌসুমে রিপোর্টিং ধারণা নিয়ে কিছু পরামর্শ। আপনি উপকূল সাংবাদিক হলে আপনার জন্য এই গাইডলাইনটি বিশেষভাবে সহায়তা করতে পারে।

কোন এক বছরের ১৫ মার্চ উপকূলের কোন এক অনুজ সাংবাদিককে প্রশ্ন করলাম- আজ কোন প্রতিবেদন লিখছো? সে পাল্টা প্রশ্ন করলো- কী বিষয়ে প্রতিবেদন? আমি বললাম- আজ তো উপকূলে ‘ডেঞ্জার পিরিয়ড’ শুরু? অনুজ সাংবাদিক চমকে গিয়ে বললো- আগে বলবেন না! আজ তো একটা ‘স্পেশাল স্টোরি’ করতে পারতাম! একবার ভেবে দেখেছেন- স্পেশাল স্টোরিটা কেন করা হলো না? একমাত্র পরিকল্পনার অভাবে। ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত উপকূলে ডেঞ্জার পিরিয়ড। বিষয়টি প্রায় সকল সাংবাদিকের জানা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, বিষয়টি সকলের জানা থাকা সত্বেও সেভাবে কোন পরিকল্পনা নেই। অথবা চোখের সামনে কোন ক্যালেন্ডার নেই।

প্রায় সকল সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেই একটি ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়, দুর্যোগ এলেই কেবল আমরা খবরের জন্য ছুটাছুটি করি। দুর্যোগের পূর্ব মুহূর্ত, দুর্যোগের সময় কিংবা দুর্যোগের পরে ধ্বংসস্তুপের ভেতরে আমরা খবর খুঁজি। সব হারানো মানুষের কান্নার ছবি খুঁজে বেড়াই। কিন্তু একটি বিষয় কী ভেবে দেখেছেন- পূর্ব প্রস্তুতি থাকলে, পরিকল্পনা থাকলে জরুরি সময়ে আপনার তাড়াহুড়ো অনেকটা কমে যেতে পারে। সরকারের দুর্যোগ প্রস্তুতি আছে কীনা? সেই প্রশ্ন করার আগে দুর্যোগ মৌসুমে প্রতিবেদন লেখার জন্য আপনার কতটা প্রস্তুতি আছে? প্রশ্নটা নিজেকে করুন। এটা প্রায় নিশ্চিত করে বলা যায়- অধিকাংশ সাংবাদিক বলবেন, কোন প্রস্তুতি নেই। কিছু সাংবাদিক বলবেন, দুর্যোগ সম্পর্কে তো সবকিছু জানাই আছে। এ বিষয়ে তেমন প্রস্তুতির প্রয়োজন পড়বে না। উপকূলের অনেক সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপ করে এমনটাই জানতে পেরেছি।

প্রায় সকলেরই জানা, উপকূল অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি খবর তৈরি হয় দুর্যোগ মৌসুমে। উপকূল অঞ্চল সম্পর্কে যারা খোঁজ খবর রাখেন, তাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট- দুর্যোগ মৌসুমের চেহারার সঙ্গে অন্য মৌসুমের উপকূলকে কোনভাবেই মেলানো যাবে না। শীতকালে উপকূলের শান্তশিষ্ট নদীগুলো মার্চ থেকে কীভাবে এতটা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারে- আমার নিজের কাছেই কখনো কখনো অবাক লাগে। পূর্বে টেনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে পশ্চিমে শ্যামনগরের কালিঞ্চি গ্রাম পর্যন্ত সমগ্র উপকূলটা বলা যায় আমার কাছে প্রায় করতলের মতই চেনা। উপকূলের বিভিন্ন ইস্যুতে লিখেছি অসংখ্য প্রতিবেদন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই দুর্যোগ মৌসুমে সাংবাদিকদের জন্য রিপোটিংয়ের কিছু পরামর্শ:

দুর্যোগ বিষয়ে সাধারণ ধারণা রাখুন
দুর্যোগকালে বিশেষ কিছু প্রতিবেদন করতে হলে আপনাকে অবশ্যই দুর্যোগ সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। সবার আগে যে প্রশ্নের জবাব জানা প্রয়োজন, সেটি হচ্ছে- দুর্যোগ কাকে বলে? হয়তো এর জবাব আমাদের অনেকেরই জানা আছে। তবুও বলছি। প্রশ্নটির জবাব হচ্ছে- ‘দুর্যোগ হচ্ছে প্রাকৃতিক অথবা মানবসৃষ্ট এমন এক পরিস্থিতি, যা কমিউনিটি/ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।’ দুর্যোগ মৌসুম অথবা যেটাকে আমরা ডেঞ্জার পিরিয়ড বলছি, এই সময়ে দুর্যোগের সংজ্ঞাটা আমাদের মাথায় থাকা জরুরি। এখান থেকে আপনি খবরের ধারণা পেতে পারেন। দুর্যোগ বিষয়ে কাজ করতে সাংবাদিকদের ‘আপদ’ শব্দটি মাথায় রাখতে হবে। যেমন ধরুন- কোন এলাকায় বেড়িবাঁধ খুবই নাজুক। আবার কোন এলাকায় পাহাড় ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় আছে। আবার দেখা গেল বাঁধের অভাবে কোন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এগুলোকে আমরা আপদ হিসাবে চিহ্নিত করতে পারি। এই ‘আপদ’ অথবা ‘দুর্যোগের ঝুঁকি’ বিবেচনায় রেখে আপনার প্রতিবেদন আইডিয়া আসতে পারে। এ ধরণের প্রতিবেদন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে সহায়তা করতে পারে।

পরিকল্পনা করুন
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে- দুর্যোগ মৌসুমে সাংবাদিকদের জন্য একটি পরিকল্পনা থাকা দরকার। এই পরিকল্পনা মিডিয়া প্রতিষ্ঠানে যেমন থাকা প্রয়োজন, তেমনি থাকা প্রয়োজন ব্যক্তিগত পর্যায়ে। কাজের টেবিলে ইয়ার প্ল্যানার থাকলে ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে দুর্যোগসহ উপকূলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দিবসগুলো সেখানে চিহ্নিত করে রাখতে পারেন। কম্পিউটারে টাইপ করে অথবা হাতেও লিখতে পারেন। তবে সেটা চোখের সামনে রাখুন। উপকূল নিয়ে কাজ করতে গিয়ে পরিকল্পনার কাজটি আমি বছর শেষের আগেই করে ফেলি। ফলে আমি কোন ইস্যু মিস করি না। মনে রাখা প্রয়োজন। পরিকল্পনা যত ভালো হবে- ততই আপনার প্রতিবেদন ভালো হবে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, ধরুন ২৯ এপ্রিল কিংবা ১২ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় দিবস। এমন আরও অনেক দিবস আছে- যেসব দিনে একটি লিখতে হয়। দিনটির কথা আপনার মনে পড়ে ঠিক আগের দিন। কিন্তু এই বিষয়টি যদি আপনার অন্তত পনেরো দিন বা একমাস আগে জানা থাকে, তাহলে নি:সন্দেহে আপনি একটি ভালো স্পেশাল প্রতিবেদন লিখতে পারতেন। আমি মনে করি, পুরো দুর্যোগ মৌসুম ধরে একটি সূচি তৈরি করুন। একইসঙ্গে মাসিক এবং সাপ্তাহিক সূচি রাখুন। এই সূচিতে উপকূলের দিবসসমূহ উল্লেখ করে রাখুন, সম্ভাব্য ঘটনাগুলো লিখে রাখুন।

নজরে রাখুন জরুরি বিষয়গুলো
দুর্যোগ পিরিয়ডে সাংবাদিকগণকে কয়েকটি বিষয়ে নজর রাখতে হবে। যে বিষয়গুলো আপনার পরিকল্পনায় অন্তভূর্ক্ত করে রাখুন। এগুলো চোখের সামনে থাকলে চলমান ঘটনা যেমন মিস হবে না; তেমনি স্পেশাল প্রতিবেদন করার ক্ষেত্রেও সহায়তা হবে। কয়েকটি বিষয় নোট রাখুন-

  • উপকূল অঞ্চলে ‘ডেঞ্জার পিরিয়ড’ কোন তারিখ থেকে কোন তারিখ পর্যন্ত;
  • দুর্যোগ মৌসুমে সাধারণ কী ধরণের ঘটনা ঘটে;
  • গত বছরে ঘটে যাওয়া ডাটাগুলো হাতের কাছে রাখুন;
  • আবহাওয়া দপ্তরের মাসিক বুলেটিনগুলো অনুসরণ করুন;
  • ভাঙণপ্রবণ এলাকার একটি তালিকা তৈরি করে রাখুন;
  • বেড়িবাঁধ বিহিন এলাকাগুলো চিহ্নিত করুন;
  • জলোচ্ছ্বাসে গতবছর যেসব এলাকা ডুবেছিল, সে এলাকার তালিকা রাখুন;
  • ডেঞ্জার জোনসমূহ চিহ্নিত করে রাখুন;
  • ঝুঁকিপূর্ন নৌরুটগুলোর একটি তালিকা করুন;
  • দুর্যোগ মৌসুমে সরকারি ঘোষণাগুলো অনুসরণ করুন;
  • জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ প্রস্তুতির খোঁজ রাখুন;
  • পরিবার ও কমিউনিটির প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা রাখুন;
  • ব্যক্তিগত তথ্য আর্কাইভ সমৃদ্ধ করুন;

ফলোআপের প্রস্তুতি রাখুন
পরিবর্তনের বিষয়গুলো ফলোআপ করার জন্য উপযুক্ত সময় হচ্ছে দুর্যোগ মৌসুম তথা ডেঞ্জার পিরিয়ড। কারণ এই সময়েই সাধারণত পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করা যায়। গত বছরে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে এবারের তথ্যের ত‚লনামূলক বিশ্লেষণ করে একটি স্পেশাল প্রতিবেদন তৈরি করতে পারেন। যেমন ধরা যাক, গত বছর পাঁচ স্থানে নদী ভাঙনের তথ্য নিয়ে রিপোর্ট লিখেছেন। এবার দেখুন ভাঙন কমেছে, নাকি বেড়েছে। জলোচ্ছ্বাস কিংবা জোয়ারের পানি সংক্রান্ত পুরানো তথ্য আপনার কাছে থাকলে এবারের তথ্য সংযুক্ত করে আপনি চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরি করতে পারেন। গত বছর উপকূলের কত এলাকা অরক্ষিত ছিল, এবার কত এলাকা অরক্ষিত- তথ্য থাকলে ভালো ফলোআপ প্রতিবেদন করতে পারেন। আবার ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ সম্পর্কিত গত বছরের তথ্য আপনার কাছে থাকলে অবশ্যই একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন করা যায়।

জনজীবনে প্রভাব বিবেচনায় রাখুন
আগেই বলেছি, দুর্যোগ মৌসুমের উপকূল আর অন্য সময়ের উপক‚লের চিত্র পুরোপুরি বিপরীত। যেমন, লক্ষ্মীপুর জেলার চর রমনীমোহনে শুকনো মৌসুমে বাসিন্দাদের কোন সমস্যা হয় না। কিন্তু বর্ষা বা দুর্যোগ মৌসুম এলে তাদের ভোগান্তি বাড়ে। রমনীমোহনসহ উপকূলের বিভিন্ন চরের বহু মানুষকে আমি মাচা পেতে বসবাস করতে দেখেছি। আবার নদীভাঙন কিংবা অন্যান্য দুর্যোগের কারণে অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। বর্ষাকালে বিভিন্ন সমস্যার কারণে মানুষজন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে বাধ্য হয়। হয়তো বাঁধের ধারে ছোট্ট ঘরটি প্রতি জোয়ারের পানিতে ডুবে যায়। ফলে তার কিছু করার থাকে না। বাধ্য হয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় খোঁজে। অনেকে শহরের পথে পা রাখে। কোথায় মানুষের সমস্যা হচ্ছে- সে বিষয়গুলো মৌসুম শুরুর আগেও একটু দেখে আসতে পারেন। তাতে পরিকল্পনা প্রণয়ন সুবিধা হবে। নদীর তীরে হাঁটতে হাঁটতে পেয়ে যেতে পারেন ব্যতিক্রমী কিছু- যা আপনি কখনো কল্পনাও করেন নি।

একটা ঘটনা বলি, একবার আমি হাঁটছিলাম লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের জগবন্ধু গ্রামের পথ ধরে। হেঁটে নদীর কিনারে চলে এসে এক বাড়ি থেকে অঝোরে কান্নার শব্দ শুনতে পাই। এগিয়ে যাই। কাছে গিয়ে শুনি- সে বাড়িতে দুই ভাই একইসঙ্গে বাবামাকে নিয়ে একই ঘরে বসবাস করে আসছিল। কিন্তু ভাঙন এতটাই নিকটে চলে এসেছে- বর্ষায় আর থাকা সম্ভব হবে না। ফলে একভাই সেদিন অন্যত্র চলে যাচ্ছি। সেই কান্না ছিল বিচ্ছেদের কান্না। তার মানে, বর্ষার আগে সেদিন নদীর তীরে না গেলে আমার জানা হতো না দুর্যোগ নিয়ে মানুষের প্রস্তুতি থাকে। বর্ষাকাল আসার আগে ভাঙন কবলিত এলাকা হেঁটে দেখা যাবে- অনেক মানুষ ঘরের চালা-বেড়াসহ অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নিচ্ছে। শুধুমাত্র জরুরি আবহাওয়া বার্তা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে দুর্যোগের কোন বার্তা না থাকায় মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। এগুলো নিয়ে চমৎকার প্রতিবেদন হতে পারে।

ব্যতিক্রম খুঁজুন
দুর্যোগ মৌসুমে ব্যতিক্রম খুঁজুন। মনে করুন, কয়েক বছর ধরে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। হঠাৎ কোন বছর বৃষ্টি একেবারে কমে গেল। কেন বৃষ্টি কমে গেল? এমন একটা প্রশ্ন আপনার মনে মাঝে উদয় হলেই আপনি প্রতিবেদনের সূত্র খুঁজতে পারবেন। আমরা যদি লক্ষ্য করি বিগত কয়েক বছর ধরে উপকূল অঞ্চলে কোন না কোন এলাকায় ছোট-বড় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে। হঠাৎ ২০১৮ সালে উপক‚লে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানেনি। এটা ব্যতিক্রমী ঘটনা। আবার কোন এলাকা কখনোই ভাঙছে না, অথচ কোন বছর আকস্মিক ভাঙ্গন শুরু হলো। লক্ষ্যনীয় বিষয়, এবার কিন্তু শীতকাল শেষ না হতেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আবার শিলাবৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। উপকূলের কোথাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে- অনেক এলাকা নিয়ে একসঙ্গে নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে? প্রশ্নটি আপনার মাথায় ঘুরতে থাকলে দুর্যোগ বিষয়ে প্রতিবেদনের ইস্যু খোঁজা সহজ হবে।

ওয়েদার সাইট দেখার অভ্যেস করুন
কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া আবহাওয়ার খবর সংবাদ মাধ্যমে সামান্য স্থান পায়। সে কারণে এই খবরে আগ্রহ আমাদের কম। কিন্তু আপনি যদি উপকূল ইস্যুতে কাজ করেন, দুর্যোগ মৌসুমে আপনাকে অবশ্যই নিয়মিত ওয়েদার আপডেট থাকতে হবে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরে আপনার জন্য খবর থাকতে পারে। সেখান থেকে মাসিক বুলেটিন নিয়ে নিয়মিত আপডেট থাকতে পারেন। চলতি মাসের সম্ভাব্য দুর্যোগের বিষয়গুলো অন্তত মাসের শুরুতেই আপনার জানা থাকলে প্রতিবেদন পরিকল্পনা সহজ হবে। বিশেষ প্রতিবেদনের আইডিয়া ঠিক করতে পারবেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর সাইট নিয়মিত দেখতে পারেন। সেখানে থাকতে পারে নতুন কিছু তথ্য। দেশের সাইট ছাড়াও আন্তর্জাতিক ওয়েদার সাইটে নজর দিন। এছাড়া দেশের বেশকিছু বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দুর্যোগ বিষয়ে কাজ করেন। এদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে পেয়ে যেতে পারেন ভালো প্রতিবেদন লেখার মসলা।

সিপিপি’র সঙ্গে যুক্ত থাকুন
সাইক্লোন প্রিপারডনেস প্রোগ্রাম, সংক্ষেপে ‘সিপিপি’ নামে পরিচিত। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অধীনে এটি পরিচালিত। আমরা সকলে জানি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৫ সালে ‘দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী’ প্রনয়ন করে। এটি ১৯৯৭ ও ২০১১ সালে সংশোধিত হয়। এই আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ভ‚মিকা পালন করে সিপিপি। উপকূল অঞ্চলের ১৩টি জেলায় (কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বাগেরহাট, বরগুনা, খুলনা ও সাতক্ষীরা) সিপিপি’র ৫৫ হাজার ২৬০জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন, যারা ঘূর্ণিঝড়ের তথ্য আদান-প্রদান, উদ্ধার কাজ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত এদের নেটওয়ার্ক রয়েছে। আপনি উপকূলের যে এলাকায়ই কাজ করেন না কেন, নিশ্চয়ই সেখানে স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে আপনি আপডেট থাকতে পারেন। পেতে পারেন প্রতিবেদন লেখার নতুন আউডিয়া।

মাঠ সোর্সের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন
আমরা জানি, মাঠে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে প্রত্যেকেরই মাঠ পর্যায়ে সোর্স রয়েছে। এই সোর্সগুলো কিন্তু দুর্যোগ মৌসুমে আপনার অনেক কাজে লাগবে। কাকে কখন প্রয়োজন হবে, নিজেও কল্পনা করতে পারবেন না। সে কারণে সোর্সের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখাটা খুবই জরুরি। বিভিন্ন সময়ে মাঠে গিয়ে সাধারণত যাদের সঙ্গে কথা বলেন, তারাই আপনার প্রকৃত সোর্স। জেলে, কৃষক, ব্যবসায়ী, চেয়ারম্যান, মেম্বার, সরকারি বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মী, এমনকি গ্রামের সাধারণ মানুষ আপনার সোর্স। এদের নাম-ঠিকানা-মোবাইল নম্বর সংরক্ষণের অভ্যেস গড়ে তুলুন। যথাসম্ভব যোগাযোগ রাখুন সবসময়। দুর্যোগকালে এরাই হবে আপনার তথ্য-বন্ধু।

 * উপকূল সাংবাদিকতা সহায়কপত্রটি কোস্টাল জার্নালিজম নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (সিজেএনবি) ও চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ-এর যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য