উপকূল বাঁচিয়ে রাখতে ‘সবুজ উপকূল’ মাইলফলক

লেখক : আহাদ চৌধুরী তুহিন

দ্বীপ জেলা ভোলায় ২০১৫ সালে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচির কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান হয়েছিল। এই কর্মসূচি এবার তৃতীয় বছর অতিক্রম করলো। আমি মনে করি, উপকূলের স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের সচেতনতা বাড়াতে তথা উপকূল বাঁচিয়ে রাখতে এ কর্মসূচি মাইলফলক হয়ে থাকবে। যেহেতু প্রতিনিয়ত নানারকম ঝুঁকির মধ্যদিয়ে ওরা বেড়ে উঠছে, সে কারণে ওদেরকে সমৃদ্ধ হয়ে বেড়ে উঠতে প্রয়োজন অনেক তথ্য। এই কর্মসূচি ওদেরকে অনেক তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে। ওরা নিজেদের গড়ে তুলতে শিখবে। এরইমধ্যে উপকূল জুড়ে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জেনে আমি আনন্দিত।

ভৌগলিকভাবে পৃথিবীর সর্বদক্ষিণের বঙ্গোপসাগরের উত্তর পাড়ের চট্রগ্রাম থেকে ভোলা হয়ে সাতক্ষীরা পর্যন্ত ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ তটরেখার বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ১৯ জেলার প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ প্রতিনিয়িত প্রকৃতির বৈরিতায় বসবাস করছে। বিশ্বজুড়ে আলোচিত ইস্যু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এরইমধ্যে পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের উপকূলে। এই অঞ্চলের ১৯ জেলার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ খ্যাত দ্বীপ জেলা ভোলা। এখানেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল সবুজ উপকূল ২০১৫-এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচি।১৯৭০ সনের প্রলয়ংকারী ঘূর্নিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ মারা যায়। এরমধ্যে ভোলা জেলারই ছিল প্রায় দেড় লাখ মানুষ। ‘৭০ এর প্রলয়ংকারী জলোচ্ছ্বাসের পর ভোলার দক্ষিণের চরফ্যাসন ও মনপুরায় গড়ে তোলা হয় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। এরপর সরকার উপকূলীয় এলাকায় সবুজ বেষ্টনি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। ঝড় জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলায় বৃক্ষরাজি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।

উপকূলের প্রধান ঝুঁকিসমূহ হচ্ছে ঘূর্নিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবনাক্ততা, নদী ভাঙ্গন আর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। সাগর নদীসহ উপকূলীয় অঞ্চল দেশের আর্থসামাজিক কর্মকান্ডে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে । বাস্তবতার নিরিখে এখন বলার সময় এসেছে ‘উপকূল বাচলে বাংলাদেশ বাঁচবে’। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, চট্রগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর এই উপকূলীয় অঞ্চলেই অবস্থিত। বঙ্গোপসাগরসহ উপকূলীয় এলাকার নদীসমূহে শুধু মৎস আহরণ সেক্টরে বিনিয়োগ রয়েছে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা। এখান থেকেই দেশে সামগ্রিক অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে ভিন্ন মাত্রা। এই ঝুঁকি আর সম্ভাবনা সামনে রেখে উপকূল অঞ্চলকে বাঁচিয়ে রাখাটা জরুরি।

উপকূল বাঁচাতে গাছ লাগানোসহ নানা ধরণের উদ্যোগ নিতে হবে। আর এই উপলব্ধি জাগিয়ে তুলতে হবে আগামী প্রজন্মের মাঝে। সম্পৃক্ত করতে হবে অভিভাবকসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের। আর এই কাজে এগিয়ে এসেছে ফর্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। এই প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় সবুজ উপকূল নামের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়পযোগী।

আহাদ চৌধুরী তুহিন, এটিএন বাংলা ও দৈনিক ইত্তেফাক-এর ভোলা জেলা প্রতিনিধি

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য