জাতিসংঘ গ্লোবাল কমপ্যাক্টকে প্রভাবিত করতে জলবায়ুতাড়িত বাস্তুচ্যুতি বিষয়ে সরকার ও নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে

সেমিনারে আলোচকরা

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৭। আজ ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে জলবায়ু তাড়িত বাস্তুচ্যুতির বিষয়ে সরকার ও নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলে অভিমত প্রকাশ করেন বক্তাগণ। সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “জাতিসংঘ গেøাবাল কম্প্যাক্ট এবং জলবায়ু বাস্তচ্যুতি: নাগরিক সমাজের অভিমত” শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলা হয়।

বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থা কোস্ট ট্রাস্ট এবং ইক্যুইটিবিডি, সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক প্ল্যাটফরম অন ডিজাস্টার ডিসপ্লেসম্যান্ট এবং নরওয়ে ভিত্তিক নরওয়েজিয়িান রিফিউজি কাউন্সিল যৌথভাবে এই সেমিনারটির আয়োজন করে।

উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ শীর্ষ সম্মেলনে ২০১৮ সালের মধ্যে দুটি গেøাবাল কমপ্যাক্ট তৈরির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই বিষয়ে  আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মত বিনিময় চলছে, তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশে এই সেমিনারটির আয়োজন করা হলো।

পিকেএসএফ’র চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন কোস্ট ট্রাস্ট এবং ইক্যুইটিবিডি’র রেজাউল করিম চৌধুরী।

এতে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ড. রুস্তম আলী ফরাজী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদুল হক, বাংলাদেশ সেন্টার ফর এডভান্স স্টাডিজের ড. আতিক রহমান, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ ড. আব্দুস সাত্তার, পরররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক নাহিদা সোবহান, জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শারমিন্দ নিলর্মি, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা সংস্থার ড. নিলোপাল আদরি, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট-এর শামসুদ্দোহা, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ক্যাথরিন সিসিল, ডবিøউআরবিইই-এর সৈয়দ সাইফুল ইসলাম এবং ব্র্যাকের শশাঙ্ক শাদি। কোস্ট ট্রাস্টের সৈয়দ আমিনুল হক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থ্াপন করেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে গিয়ে সৈয়দ আমিনুল হক আন্তর্জাতিক আইনী ব্যবস্থাসমূহগুলো পুনর্বিবেচনা করে জলবায়ু বাস্তচ্যুতির বিষয়টিকে আইনী কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেন। তিনি বলেন,  জলবায়ু বাস্তচ্যুতির বিষয়ে সুস্পষ্ট সংজ্ঞা এবং কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে। জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি বিষয়টিকে উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে এবং আন্তর্জাতিক আলোচনায় এটিকে সোচ্চারভাবে তুলে ধরতে বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।

নাহিদা সোবহান গেøাবাল কম্প্যাক্ট প্রক্রিয়ায় প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। ড. শারমিন্দ নিলর্মি এবং ড. নিলোপাল আদরি বলেন, এই বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধি এবং প্রমাণ ভিত্তিক তথ্য তুলে ধরার জন্য প্রচুর গবেষণা প্রয়োজন।

ড. আতিক রহমান বলেন, জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি একটি মানব সৃষ্ট সংকট, কারণ ধনী দেশগুলোর অতি কার্বন নিঃসরণের কারণেই এই সংকট তৈরি। তিনি কার্যকর গেøাবাল কমপ্যাক্ট নিশ্চিত করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নাগরিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন। ড. আব্দুস সাত্তার বলেন, জলবায়ু বাস্তচ্যুতদেরকে ‘পরিবেশগত উদ্বাস্তু’ হিসেবে অভিহিত করা উচিৎ।

পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, গেøাবাল কম্প্যাক্ট প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে আগামী দুই বছর সরকার এবং নাগরিক সমাজকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। সাধারণ অভিবাসন থেকে জলবায়ু বাস্তুচ্যুতিকে আলাদা করে দেখা যাবে না। প্রায় ১০৭টি দেশ কর্তৃক গৃহীত নানসিন প্রটেকশান এজেন্ডাকে গেøাবাল কম্প্যাক্টের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে ।

ড. রুস্তম আলী ফরাজী এমপি বলেন, জনগণকে এই সংকট থেকে বাঁচাতে নিজস্ব সামর্থ্য দিয়ে লড়াই করতে হবে। ড. কাজী খলিকুজ্জামান বলেন, নাগরিক সমাজ, সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, কারণ তারা সবাই মানুষের পক্ষেই কাজ করে যাচ্ছেন এবং জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি দেশের মানুষের জন্য একটি বড় সংকট হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

//প্রতিবেদন/১৩০৫২০১৭//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য