কুপি বাতির আলো মহেশখালীর অদম্য রিনাকে এনে দিল জিপিএ-৫

অদম্য সৈয়দা আক্তার রিনা

মহেশখালী, কক্সবাজার : কুপি বাতির আলোতে পড়ে জিপিএ-৫ অর্জন করলো বড় মহেশখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবি ছাত্রী ও কুতুবজুম দৈলারপাড়ার হত দরিদ্র আলিম উদ্দিনের কন্যা ছৈয়দা আক্তার রিনা। ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অসাধারণ ফলাফল অর্জন করলো রিনা।

আলাপকালে মেধাবি রিনার জানালো, আমার বাবা এক জন দরিদ্র ও ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী। তবে শিক্ষার প্রতি তার প্রচন্ড টান। নিজে শিক্ষিত হতে পারেনি বলে আমাদের সবাইকে শিক্ষার আলোতে পাঠিয়েছেন বহু কষ্টে। আমরা ৭ বোন। কোন ভাই নেই আমাদের। বাবাই একমাত্র রোজগার করার মানুষ। আমার বড় বোন জান্নাতুল ফেরদৌস অতিকষ্টে পড়াশোনা করে উচ্চ শিক্ষিত হয়ে আজ ঘটিভাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বিগত কয়েক বছর আগে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পরও আমাদের বোনদের পড়ালেখার খরচ বহন করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

রিনা জানায়, আমি নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারতাম না, বাসায় বিদুতের কোন ব্যাবস্থা ছিলনা, কুপি বাতি ও মোমবাতির আলোতে পড়তে হতো সবসময়। আমাদের পরিবারে ৭ বোনের মধ্যে আমি ২য়। আমার ছোটবোন বড় মহেশখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেনী পড়ে, রোল ১। তার পরের জন ৫ম শ্রেনীতে, রোল ১। তার পরের জন ৪র্থ শ্রেনীতে রোল ২। তার পরের জন ২য় শ্রেনীতে পড়ে, রোল ১।

রিনা বলে, এতবড় সংসারের সবাইকে বাবা অতি কষ্টে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। আমার এই ফলাফলের জন্য সর্ব প্রথম বাবা-মা, বড় আপু ও স্কুলের সকল শিক্ষকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

রিনা নিজের অনুভূতি প্রকরতে গিয়ে আরও বলে, জীবনে ভাবিনি এত দরিদ্র ঘরে পড়াশোনা করে এত ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবো। আমি আল্লাহ কাছে সব সময় চাইতাম, বাবার স্বপ্নটা পূরন হোক। আমাদের ভালো ফলাফল অর্জনের মধ্যদিয়ে আজ সেই স্বপ্ন পূরনের একধাপ এগিয়ে গেলাম।

রিনার বাড়িটি দেখলে কোনভাবেই ধারণা করার উপায় নেই যে, এই বাড়িতে পড়ে ভালো ফল অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু সেই বড় বোনের দেখানো পথে পড়ালেখা করে এতদুর এগিয়ে গেল ওরা।

রিনা লেখাপড়ায় ভালো ফলাফল করে যেমন মেধার পরিচয় দিল, তেমনি সৃজনশীল কার্যক্রমেও ওর রয়েছে দক্ষতা। ২০১৬ সালে বড় মহেশখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সবুজ উপকূল কর্মসূচির উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিল রিনা। জীবনে প্রথমবারের মত উপস্থাপনার মত দায়িত্ব পালন করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিগণকে তাক লাগিয়ে দেয় এই মেধাবী পড়ুয়া। ওই অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কারও অর্জন করে রিনা। অনু্ঠান উপলক্ষে প্রকাশিত দেয়াল পত্রিকা স্থান পায় তার লেখা।

অধম্য মেধাবি রিনা বড় হয়ে ভবিষ্যতে একজন ব্যাংকার হতে চায়। সে সকলের দোয়া প্রার্থী।

//প্রতিবেদন/০৫০৫২০১৭//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য