ভোলার জাঙ্গালিয়া স্কুল এন্ড কলেজে দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি’র যাত্রা শুরু

অধ্যক্ষের হাতে বেলাভূমি তুলে দিচ্ছে পড়ুয়ারা

ভোলা : দ্বীপ জেলা ভোলা সদরের জাঙ্গালিয়া স্কুল এন্ড কলেজের পড়ুয়ারা যুক্ত হলো দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি’র যাত্রায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সোমবার পড়ুয়াদের অংশগ্রহনে এ বিদ্যালয়ে ব্যতিক্রমীধারার এই দেয়াল পত্রিকার আত্মপ্রকাশ ঘটে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশাবাদ, এই বিদ্যালয়ে নিয়মিত বেলাভূমি’র প্রকাশনা অব্যাহত থাকবে।

উপকূল জুড়ে ব্যতিক্রমীধারার দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি’র উদ্যোক্তা উপকূল বিষয়ক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান ‘উপকূল বাংলাদেশ’। পড়ুয়াদের নিয়ে গঠিত সৃজনশীল মেধা বিকাশের দল ‘আলোকযাত্রা’ এই দেয়াল পত্রিকা প্রকাশে সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করে। উপকূলের পড়ুয়াদের পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো, সৃজনশীল মেধার বিকাশ, লেখালেখি চর্চার মাধ্যমে তথ্যে প্রবেশাধিকারসহ জীবন দক্ষতা বাড়ানো এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো আর সৃজনশীল মেধা বিকাশের লক্ষ্যে বেলাভূমি’র প্রকাশনা অব্যাহত রাখার দাবি পড়ুয়াদের। আর তাদের এ দাবি পূরণে সর্বাত্মক সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বেলাভূমি নির্মাণে ব্যস্ত পড়ুয়ারা

বেলাভূমি প্রকাশের পর এটি জাঙ্গালিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমীন-এর হাতে তুলে দেয় পড়ুয়ারা। পড়ুয়াদের তৈরি করা দেয়াল পত্রিকা দেখে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সুন্দর একটি দেয়াল পত্রিকা তৈরি করেছে। এর মধ্যদিয়ে ওদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটেছে। আগামীতে এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকবে। আশারাখি এই কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সহায়ক হবে। ওরা এগিয়ে যাবে সামনের দিকে।

পত্রিকাটি প্রকাশের আগে বিদ্যালয়ের ২৫জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে দেয়াল পত্রিকা তৈরির কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মশালা পরিচালনা করেন উপকূল-সন্ধানী সাংবাদিক ও উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের প্রধান রফিকুল ইসলাম মন্টু। কর্মশালায় উপকূল অঞ্চলের লেখালেখির বিষয় এবং দেয়াল পত্রিকা তৈরির কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। এতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন জাঙ্গালিয়া স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মো. ইমরান হোসেন এবং ভোলা আলোকযাত্রা দলের সদস্য মো. রিয়াজ। এ সময় ভোলা আলোকযাত্রা দলের সদস্য জিহাদ, আশিক ও পারভেজ উপস্থিত ছিল।

প্রকাশের পর পড়ুয়াদের হাতে বেলাভূমি

কর্মশালার পরে অংশগ্রহনকারীরা প্রতিবেদন লেখার বিষয় নির্ধারণ করে। প্রত্যেকের লেখা জমা হওয়ার পর তা নির্বাচিত সম্পাদনা পরিষদ বাছাই করে। সেসব লেখা দিয়েই তৈরি হয় বেলাভূমি। পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিল কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আছমা বেগম। সম্পাদনা পরিষদের ছিল ছয়জন পড়ুয়া।

জীবনে প্রথম পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আছমা বেগম বললো, এটা একটা ব্যতিক্রমী কাজ। লেখালেখির মাধ্যমে আমরা চারপাশের বিষয় সম্পর্কে জানতে পারছি। জ্ঞান আহরণ করতে পারছি। নিয়মিত এই পত্রিকা বের করতে চাই।

//প্রতিবেদন/২৫০১২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য