রহিম মিয়ার শীতকালীন সবজি বিনষ্ট করলো ঘূর্নিঝড় ‘নাদা’

ক্ষতিগ্রস্থ সবজি ক্ষেত

কমলনগর, লক্ষ্মীপুর : রহিম মিয়া ( ৪২ )। লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরমার্টিনে বাড়ি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো উপজেলার বলিরপোল বাজার নামক স্থানের পূর্ব পাশে ৬ বিঘা জমিতে শীতকালীন সবজি আবাধ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন । ৬ বিঘা জমির শীতকালীন ফসলের মধ্যে রয়েছে, লাল শাক, মূলা ও ধুলুয়া। সামনে কিছু সময়ের মধ্যে এসব সবজি চাষ করার পর প্রস্তুতি নিবেন ফুলকপি ও বাঁধাকপি উৎপাদনের জন্যে। কিন্তু, শুরুতেই বাঁধা হয়ে দাঁড়ালো বৃষ্টি।

কিছু দিন আগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘুর্নিঝড় “নাদা”র প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাতে ডুবে যায় শীতকালীন সবজি চাষের জন্য প্রস্তুতকৃত উর্বর জমিটি। ঠিক, বৃষ্টির আগে চাষের জমিটিতে রহিম মিয়া শীতকালীন সবজির দানা পেলে। সঠিক সময়ে দানাগুলোর অঙ্কুরোদগম না হয়ে ৫০ ভাগ দানা বিনষ্ট হওয়ায় বিপাকে ঘুরপাক খাচ্ছেন রহিম মিয়া। শুধু রহিম মিয়া নয় তার মতো এভাবে আরো অনেক চাষী ক্ষতির আওতায় পড়ে হতাশায় রয়েছেন। সবজির দানা জমিতে প্রয়োগ করার পর পানিতে ডুবে থাকায় সবগুলো দানা না উঠার জন্য কৃষকরা দায়ী করছেন বৃষ্টিকে।

ক্ষতিতে পড়া ক্ষেতটি পরিদর্শন করলে নজরে পড়ে রহিম মিয়া তার সন্তান ও স্থানীয় কয়েকজনকে সাথে নিয়ে পুনরায় তীর পদ্ধতির মাধ্যমে গর্ত করে বিভিন্ন প্রজাতির দানা রোপণ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

একপর্যায়ে কথা হলে তিনি জানান, “৬ বিঘা জমিতে সবজি চাষ করার জন্য আমার ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হলো । শীতকালীন সবজিগুলোর চাহিদা অনুযায়ী সবজি উৎপাদন সংকট হওয়ায় বাজারে প্রতি কেজি সবজির মূল্য ৪০ টাকা। যা গ্রামে অতীতের তুলনায় অনেক বেশি”।

তিনি আরো জানান, “এভাবে যে ফসলগুলো ক্ষতির মুখে পড়বে আমি তা কখনো ভাবিনি। হঠাৎ বৃষ্টি এসে ভাসিয়ে দিলো আমার ক্ষেতকে। ফলে, এবার আমার অনেক টাকা লোকসানের মুখে পড়তে হবে “।

প্রতি বছর শীত মৌসুমে লক্ষ্মীপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা দেশীয় এবং হাইব্রীড জাতের দানাকে উর্বর জমিতে বিভিন্ন উপায়ে প্রয়োগ করে অল্প সময়ের মাঝে সবজি উৎপাদন করে ক্রেতা মহলে ব্যাপকভাবে চাহিদা মেটাতে ষক্ষম হন। আর ঐ শীতকালীন তরকারিগুলো মানবদেহের রক্ত চলাচল ও শরীরের গঠণতন্ত্র পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

//প্রতিবেদন/১০১২২০১৬/

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য